ইতিহাস ও ঐতিহ্য

অজানা ইতিহাসের আড়ালে চাকমা জাতি

http://tistanews24.com/wp-content/uploads/2015/11/0101.jpgতিস্তা নিউজ ইতিহাস ও ঐতিহ্য অনলাইন ডেস্ক : চাকমা রাজবংশের ইতিহাস – ইতিপূর্বে যারা চাকমা সম্প্রদায়-‘র ইতিহাস লিখেছেন তাদের মধ্যে কেউই চাকমা রাজবংশের ইতিহাসকে হাজার বছরের থেকে অধিক নিম্নাভিমুখী করেননি কিংবা করতে চাননি।

এছাড়াও তাদের বিবরণ অনুযায়ী মতান্তরে বর্তমান চাকমা রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় পর্যন্ত ৭১ জনের নাম তালিকাভুক্ত হয়েছে। অথচ গবেষক জামাল উদ্দিন ঐতিহাসিক প্রামাণ্য দলিলসহকারে প্রমাণ করেছেন, মোগল জমিদার ধরম বক্স খাঁর মৃত্যুর পর তার প্রথম স্ত্রী কালিন্দী রাণী (যিনি চাকমা সম্প্রদায় থেকে জমিদার পরিবারের বধূ হয়ে এসেছিলেন) বৃটিশদের পৃষ্ঠপোষকতায় ১৮৪৪ খ্রিষ্টাব্দে ক্ষমতা লাভের পূর্বে কোন চাকমা ব্যক্তিত্বের পক্ষে এ অঞ্চলে রাজত্ব বিস্তার দূরের কথা জমিদার হিসেবেও কেউ পরিচিত ছিলেন না।

আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, ১৬৭৯ থেকে ১৮৩২ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত চাকমাদের কাছে রাজা হিসেবে পরিচিত ফতে খাঁ থেকে ধরম বক্স খাঁ পর্যন্ত ১৪ জন জমিদারের প্রত্যেকেই ছিলেন মুসলিম এবং মোগল জমিদার। আর চাকমা রাজবংশের তালিকায় ফতে খাঁ’র পূর্বে চাকমা রাজা হিসেবে স্থান পাওয়া উদ্গীর্ণ ৫৭ জন রাজার অস্তিত্ব এবং পরবর্তীদের সাথে তাদের সম্পর্কের কোন ঐতিহাসিক ভিত্তি তিনি খুঁজে পান নি। তবে গবেষক জামাল উদ্দিন সবচেয়ে অভাবনীয় ও চমকপ্রদ তথ্য দিয়েছেন ধরম বক্স খাঁ’র সম্পর্কে।

ধরম বক্স খাঁ জন্মেছিলেন তার পিতা জব্বার খাঁ’র মৃত্যুর ১৮ মাস পর। এ কারণে তৎকালীন জমিদার পরিবারে তার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে এবং একই কারণে জমিদারীতে তার উত্তরাধিকার মেনে নিতে পারেনি পরিবারের গুরুজনেরা। কিন্তু একপক্ষ চালাকি করে ধরম বক্স খাঁ জন্ম নেয়ার পরপরই তাকে পরবর্তী জমিদার মনোনিত করে।
এ নিয়ে জমিদারীর প্রকৃত অধিকারপ্রার্থী হোসেন খাঁ’র সাথে মতবিরোধ শুরু হয়। এর জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার অভিমুখী যুদ্ধ-বিগ্রহ পর্যন্ত চলেছে। বিভক্ত জমিদার পরিবারে এই যুদ্ধের ফল ছিলো পরবর্তী একশ’ বছরের বেশী সময় ধরে আদালতে মামলা-মোকদ্দমা পরিচালনা।

ইতিপূর্বে যারা ইতিহাস লিখেছেন তাদের কেউ কেউ ধরম বক্স খাঁ’র বিষয়ে আলোকপাত করলেও জমিদার পরিবারের ধারাবাহিক বিরোধের বিষয়টি উল্লেখ পর্যন্ত করেন নি। এমনকি মামলা চলাকালীন সময়ে লেখা ইতিহাসের কোথাও এর ইঙ্গিত পর্যন্ত দেননি সংশ্লিষ্ট লেখকগণ। গবেষক জামাল উদ্দিন সেই হোসেন খাঁ’র বংশধরদের কাছ থেকে সে সময়ে চলা মামলার দলিলপত্র উদ্ধার করেছেন। আর এসব দলিলপত্রই বদলে দিয়েছে চাকমা সম্প্রদায় ইতিহাসের গতিপথের ধারা ও প্রবাহ!

http://tistanews24.com/wp-content/uploads/2015/11/02020.jpg
ছবি : চাকমা রাজার বাড়ি

নতুন এই গবেষণায় দেখা গেছে, মোগলদের সাথে চাকমাদের জমিদার-প্রজা সম্পর্ক ছাড়া অন্য কোন সম্পর্ক ছিলো না। তাছাড়া শুধু চাকমারাই এসব জমিদারদের প্রজা ছিলো না। বরং তাদের প্রজা হিসেবে ছিলো তঞ্চ্যাঙ্গাসহ অন্যান্য কুকি সম্প্রদায়ের লোকেরাও। আর বর্তমান চাকমা রাজবংশের গোড়াপত্তন হয়েছিলো কালিন্দী রাণীর মৃত্যুর পর, ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দে ধরম বক্স খাঁ’র কন্যা মেনকা এবং গোপীনাথ দেওয়ান চাকমার সন্তান হরিশ্চন্দ্র রায়ের ক্ষমতা লাভের মধ্য দিয়ে। আর এই রাজ পরিবারের প্রজা হিসেবে পরিচিত অধিকাংশ চাকমাই আরাকান থেকে এ অঞ্চলে শরণার্থী হিসেবে এসেছিলো ১৭৮৪ খ্রিষ্টাব্দে, বর্মী রাজা বোধপায়া কর্তৃক আরাকান দখলের কারণে সৃষ্ট প্রতিকূল পরিবেশের শিকার হয়ে।

এছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস নামক বইটিতে স্থান পেয়েছে এ অঞ্চলে বসবাসরত অন্যান্য জনগোষ্ঠী এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থার অনেক অজানা ইতিহাস। আমার পরবর্তী লিখায় থাকবে চাকমা সম্প্রদায়ের সেই অজানা ইতিহাসের পরিপ্রেক্ষণ। সৌজন্যে: কথা কবিতার ঘ্রাণ

Show More

News Desk

তিস্তা নিউজের নিউজ রুম থেকে সমস্ত বিভাগসহ বাংলাদেশের সর্বশেষ সংবাদ প্রকাশ করা হয়। আপনি যদি তিস্তানিউজ ২৪.কম এ প্রকাশের জন্য আমাদের ট্রেন্ডিং নিউজ প্রেরণ করতে চান তবে আসুন এখনই আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। আপনার নিউজটি আমাদের নিউজ রুম থেকে নিউজ ডেস্ক হিসাবে প্রকাশিত হবে। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদান্তে- আব্দুল লতিফ খান, সম্পাদক মন্ডলির সভাপতি।

Related Articles

Back to top button
Close