ওপারবাংলানীলফামারী

অর্থনীতিতে নতুন দ্বার উন্মোচনের সম্ভাবনা চিলাহাটী হলদিবাড়ীর রেল যোগাযোগ

আনিছুর রহমান মানিক, ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধি>> দীর্ঘ প্রায় ৬ দশক বন্ধ থাকার পর, বহু প্রতিক্ষিত চিলাহাটী হলদিবাড়ী রেল যোগাযোগের শুভ উদ্বোধন হলো। দীর্ঘ দিন পর এই রুটটি চালু হওয়ায় উভয় দেশের সরকার প্রাধনকে ধন্যবাদ জানিয়েছে এলাকাবাসী।
বুধবার (১৭ডিসেম্বর) হুইসেল বাজিয়ে সবুজ পতাকা দেখিয়ে প্রধান মন্ত্রি শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধান মন্ত্রি নরেন্দ্রমোদি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নতুন এই রেল পথের দ্বার উন্মোচন করেন।

এ সময় ফুল দ্বারা সজ্জিত খালি একটি মালবাহী ট্রেন চিলাহাটি রেলষ্টেশন থেকে ছেড়ে চিলাহাটী সিমান্ত দিয়ে ভারতের কোচবিহারের হলদিবাড়ী রেল ষ্টেশনে পৌছে, ক্ষানিক সময় যাত্রা বিরতির পর ফিরে আসে।

এ সময় বাংলাদেশের অংশে উপস্থিত ছিলেন. রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন (এমপি), নীলফামারী (১) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আফতাব উদ্দিন সরকার, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য রাবেয়া আলিম, রেলপথ মন্ত্রনালয়ের সচিব সেলিম রেজা, নীলফামারী জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান চৌধুরী, নীলফামারী পুলিশ সুপার মোকলেছুর রহমান (বিপিএম), ডোমার উপজেলা চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ, ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনা শবনম, সহকারী কমিশনার (ভুমি) মনোয়ার হোসেন, উপজেলা আ’লীগের সভাপতি অধ্যাপক খায়রুল আলম বাবুল, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড কেন্দ্রীয় কমিটির নেত্রী সরকার ফারহানা আক্তার সুমি, নীলফামারী ৫৬ বিজিবির অধিনায়ক মামুনুল হক মামুন, রেল বিভাগের পাকশি ডিবিশনের-(২) বিভাগীয় প্রকৌশলী পরিচালক আব্দুর রহিম, ম্যাক্স ইনফ্রাসট্রাকচার লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার রোকোনুজ্জামান শিহাব, ডোমার থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তাফিজার রহমান, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বিশ্বদেব রায়, চিলাহাটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনর্চাজ নুরল ইসলামসহ দলীয় কর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, ১৯৪৭ সালের পূর্বেও এ পথে রেলপথ ও সড়ক পথের যোগাযোগ ছিল। একারনে ১৯৫৩ সালে আর্ন্তর্জাতিক চেকপোষ্ট স্থাপন করা হয়।

১৯৬০ সালে স্থলবন্দর চালু হলেও ১৯৬৫ সালে ভারত পাকিস্থান যুদ্ধের কারনে চেকপোষ্ট টি চালু থাকলেও স্থলবন্দর বন্ধ করে দেয়া হয়।

দু দেশের সিমান্ত পর্যন্ত রেলপথ উপরে ফেলা হয়। ২০০২ সালে চেকপোষ্টটিও বন্ধ হয়ে যায়। ২০১০ সালে উভয়দেশের সরকার বন্ধ এই রেলপথটি চালুর সিদ্ধান্ত নিলে ২০১৬ সালে জরিপের মাধ্যমে কাজটি শুরু হয়।

এরপর ভারতের অংশের ৪.৩৪ কি:মি: এবং বাংলাদেশ অংশের দেড় কিলোমিটার স্থাপনের কাজ শেষ হলে সোনালী সপ্ন বাস্তব রুপ নেয়। এতে দুদেশের মধ্যে বন্ধুত্যের যেমন সেতু বন্ধন হবে অর্থনীতির নতুন দিগন্ত উন্মেচিত হবে।

ব্যাবসা, বণিজ্যের অপার সম্ভাবনাও হাতছানি দিচ্ছে উত্তরের জনপদে।

এ বিষয়ে ডোমার রেল রক্ষা কমিটির সভাপতি গোলাম কুদ্দুস আইয়ুব বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যে বড় আকারে বানিজ্য ঘাটতি রয়েছে।

এই স্থল বন্দরকে কাজে লাগিয়ে তা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। শুধু তাই নয় এ পথে নেপাল ও ভুটানের দুরুত্ব কম হওয়ায় সেখানেও ব্যবসা প্রসারের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ সুযোগ কাজে লাগাতে হলে সংশ্লিষ্ট নীতি নিদ্ধারক মহলকে সচেতনভাবে কর্মপরিকল্পনা তৈরী করতে হবে।

Show More

News Desk

তিস্তা নিউজের নিউজ রুম থেকে সমস্ত বিভাগসহ বাংলাদেশের সর্বশেষ সংবাদ প্রকাশ করা হয়। আপনি যদি তিস্তানিউজ ২৪.কম এ প্রকাশের জন্য আমাদের ট্রেন্ডিং নিউজ প্রেরণ করতে চান তবে আসুন এখনই আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। আপনার নিউজটি আমাদের নিউজ রুম থেকে নিউজ ডেস্ক হিসাবে প্রকাশিত হবে। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদান্তে- আব্দুল লতিফ খান, সম্পাদক মন্ডলির সভাপতি।

Related Articles

Back to top button
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker