ইতিহাস ও ঐতিহ্য

ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলনের ৫৯তম বার্ষিকীতে-ন্যাপের আলোচনা

ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলনের ৫৯তম বার্ষিকীতে-ন্যাপের আলোচনা সংবাদ বিজ্ঞপ্তি: ১৯৫৭ সালে মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর আহ্বানে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলন ছিল পাকিস্তানী শাসকদের বিরুদ্ধে বাংলার মানুষের অধিকার আদায়ের প্রথম স্বাধীনতার ডাক। কাগমারী সম্মেলন হলো বাংলাদেশের স্বাধীকার ও পূর্ব পাকিস্তান তথা আজকের বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসের এক টার্নিং পয়েন্ট বলে অভিমত প্রকাশ করে বাংলাদেশ ন্যাপ‘র সভায় জাতীয় নেতৃবৃন্দ বলেছেন, দেশে এখন ইতিহাস ছিনতাইয়ের উৎসব চলছে। ভাষা-আন্দোলন, স্বাধীকার-স্বাধীনতা সকল কৃতিত্ব একজনকে দিতে গিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর পাঁচাটা-বিবেক বর্জিত বুদ্ধিজীবীরা নতুন নতুন ইতিহাস রচনায় ব্যস্ত হয়ে গেছেন। তারা বলেছেন, ইতিহাসকে ইতিহাসের গতি পথে চলতে দেয়া উচিত। ইতিহাসের গতিপথে বাঁধা দিলে ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করবে না।
আজ সোমবার নয়াপল্টনস্থ যাদু মিয়া মিলনায়তনে ‘ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলনের ৫৯তম বার্ষিকী স্মরণে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ ঢাকা মহানগরীর আলোচনা সভায় নগর আহ্বায়ক সৈয়দ শাহজাহান সাজু‘র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, আলোচনায় অংশ গ্রহন করেন কল্যাণ পার্টি মহাসচিব এম.এম. আমিনুর রহমান, জাতীয় পার্টি(জাফর) যুগ্ম মহাসচিব এ.এস.এম. শামিম, ডিএল যুগ্ম সম্পাদক খোকন চন্দ্র দাস, ন্যাপ যুগ্ম মহাসচিব স্বপন কুমার সাহা, নগর সদস্য সচিব মোঃ শহীদুননবী ডাবলু, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের সাধারন সম্পাদক মোঃ হুমায়ূন কবির বেপারী, কল্যাণ পার্টি দপ্তর সম্পাদক আল-আমিন ভুইয়া রিপন, ন্যাপ নেতা আবদুল্লাহ আল-মাসুম, আবদুল্লাহ আল-কাউছারী প্রমুখ। ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলনের ৫৯তম বার্ষিকীতে-ন্যাপের আলোচনা
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেছেন, ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলনের মাধ্যমেই তৎকালীন পূর্ব পাস্তিানের স্বায়ত্ব শাসন ও স্বাধীকার আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল। সাম্রাজ্যবাদী-আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে এ অঞ্চলের জনগনকে ঐক্যবদ্ধ ও সচেতন করতে এই সম্মেলন গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা পালন করেছিল। কাগমারী সম্মেলনে মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী যে গুরুত্বপূর্ণ ও জ্বালাময়ী বক্তব্য রেখেছিলেন তা আজো আমাদের দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, পতাকা-মানচিত্র রক্ষার সংগ্রামে এবং সাম্রাজ্যবাদ-আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রামে ও লড়াইয়ে অনুপ্রেরনা যোগায়।   তিনি বলেছেন, মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অসংখ্য রাজনৈতিক কর্মসূচীর আয়োজন করেছিলেন, এর মধ্যে তাঁর অবিস্মরণীয় কীর্তি এবং উপ-মহাদেশের তথা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান আজকের বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক ঘটনা হচ্ছে ১৯৫৭ সালের ‘ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলন’। উপ-মহাদেশ ও পূর্ব বাংলা তথা আজকের বাংলাদেশের রাজনীতিতে এর তাৎপর্য অনাগত কালের গবেষকদের কাছে স্বীকৃত।
সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ শাহজাহান সাজু বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীকার ও স্বাধীনতা আন্দোলন গড়ে তুলতে মওলানা ভাসানী যে অবদান রেখেছেন-যে সম্মানি তিনি প্রাপ্য ছিলেন স্বাধীনতার ৪৪ বছরের সরকারগুলো তাঁকে তাঁর প্রাপ্য সম্মান ও মর্যাদা দিতে ব্যার্থ হয়েছে। আমাদের সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের প্রয়োজনে তাঁকে ব্যবহার করলেও প্রকৃত অর্থে তাকে তাঁর যথাযোগ্য মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করার কোন কর্মসূচীই গ্রহন করেনি।
আলোচনা সভার পূর্বে বাংলাদেশ ন্যাপ-সহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ মওলানা ভাসানীর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পনের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিদেন করেছেন।

Show More

News Desk

তিস্তা নিউজের নিউজ রুম থেকে সমস্ত বিভাগসহ বাংলাদেশের সর্বশেষ সংবাদ প্রকাশ করা হয়। আপনি যদি তিস্তানিউজ ২৪.কম এ প্রকাশের জন্য আমাদের ট্রেন্ডিং নিউজ প্রেরণ করতে চান তবে আসুন এখনই আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। আপনার নিউজটি আমাদের নিউজ রুম থেকে নিউজ ডেস্ক হিসাবে প্রকাশিত হবে। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদান্তে- আব্দুল লতিফ খান, সম্পাদক মন্ডলির সভাপতি।

Related Articles

Back to top button
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker