নীলফামারী

করোনার প্রভাবে পণ্য কেনার হিড়িক সৈয়দপুরে চালসহ মুদি পণ্যের দাম অস্থির, উদ্বেগে মানুষ

মিজানুর রহমান মিলন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) থেকে সৈয়দপুরে করোনা ভাইরাসের আতংকে বাজারে চালসহ মুদি পণ্য কেনার হিড়িক পড়েছে। গত দু’দিন থেকে বাজারে নিত্যপণ্য কিনতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অস্থির নিত্যপণ্যের বাজারে করোনা আতংকে চাল, চিনি ও ভোজ্যতেলের দাম কেজিতে দু-তিন টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। দিনে দিনে বাড়ছে এসব নিত্যপণ্যের দাম।

দু’মাস আগে সরকারের নজরদারিতে চালসহ নিত্যপণ্যের দাম ক্রয়সীমায় নেমে আসে। কিন্তু মাসখানেক পর উর্ধ্বমুখী হয়েছে চাল, চিনি ও ভোজ্যতেলের দাম। এসব মান ভেদে কেজি প্রতি দাম বেড়েছে ৫ থেকে ১২ টাকা পর্যন্ত। খুচরা পর্যায়ে যথেচ্ছাভাবে দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান কোন তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না বাজার মনিটরিং কমিটির। সরেজমিনে চাল ও নিত্যপণ্যের বাজার ঘুরে দেখা যায়, চাল, চিনি ও ভোজ্যতেলে দাম উর্ধ্বমুখী হলেও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম নতুন করে বাড়েনি। তবে চালের মূল্য ক্রয়সীমার অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে আমন ধানের মওসুম শেষ হতে না হতে চালের দাম দিনে দিনে লাগামহীন হয়ে উঠেছে। দামের আঁচে সীমিত আয়ের মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। বাজারে সব ধরণের চালের দাম কেজি প্রতি বেড়েছে ৫ থেকে ১২ টাকা। চালের পাইকারী ব্যবসায়ীরা বলছেন মিলাররা চালের দাম বৃদ্ধি করায় খুচরা পর্যায়ে দাম বেড়ে গেছে। আবার চালকল ব্যবসায়ীরা চালের দাম বৃদ্ধির জন্য ধানের দামে বৃদ্ধিকে দুষছেন। বর্তমানে ৪৪ টাকার মিনিকেট বেড়ে ৫৬ টাকায়, ৩৬ টাকার বিআর-২৯ বেড়ে ৪৪ টাকায়, ৩৮ টাকার বিআর-২৮ বেড়ে ৪৮ টাকায়, ৩২ টাকার স্বর্ণা ৪০ টাকায় এবং ২৮ টাকার মোটা চাল ৩৮ টাকায় প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে। অথচ পনের দিন আগেও চালের দাম ক্রয়সীমার মধ্যে ছিলো। একইভাবে নিত্যপণ্য চিনি ও ভোজ্যতেলের দামও অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারে ৯২ টাকার খোলা সয়াবিন বেড়ে ৯৮ থেকে ১০০ টাকায়, ৬৮ টাকার পামওয়েল ৭৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বিভিন্ন কোম্পানীর বোতলজাত সয়াবিনের দাম বাড়েনি। আগের দামেই এটি বিক্রি হচ্ছে। চিনির দাম স্থির নেই, দফায় দফায় বাড়ছে চিনির মূল্য। বাজারে ৫৬ টাকার চিনি বেড়ে ৬৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিনির মূল্য উর্ধ্বমুখীতে ভোক্তাসহ বেকারী ও মিষ্টি ব্যবসায়ীরা দুশ্চিন্তায় পড়েছে।

বাজারে চাল কিনতে রিক্সাচালাক মো. তৈয়ব বলেন, আমাদের দৈনিক আয়ে চলতে হয়। সামান্য আয়ে চাল কিনতে বাড়তি টাকা চলে যাচ্ছে। এতে সংসারের অন্যান্য খরচে টান পড়ছে। চালের দাম বৃদ্ধি খেটে খাওয়া মানুষকে বেকায়দায় ফেলেছে। পাইকারী চাল মার্কেটের ব্যবসায়ী মো. তানভীর জানান, বড় বড় মিলাররা চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। মিলগেটে চালের দাম বাড়লে পাইকারী বাজারে দাম বাড়তে হয়। পাইকারী বাজার বেড়ে যাওয়ায় খুচরা পর্যায়ে চালের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। মিলাররা চালের দাম বৃদ্ধির জন্য ধানের মূল্য বৃদ্ধিকে দায়ি করেছেন। আফজাল অটো রাইস মিলের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর আলহাজ্ব আফজাল খান জানান, বাজারে ধানের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় এর প্রভাব চালে পড়েছে। গত সপ্তাহে প্রতি মণ ধান ৮৫০/৮৬০ টাকা দরে মিললেও চলতি সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ৯৬০/৯৭০ টাকা মন। তারপরেও ধান মিলছে না। তিনি বলেন, ধানের মূল্য বৃদ্ধি হওয়ায় চালে প্রতিকেজি ২/১ টাকা বেড়েছে। নিত্যপণ্য চিনি ভোজ্যতেলের ব্যাপারে মুদি ব্যবসায়ী মো. ওয়াজেদ জানান, নিত্যপণ্যের পাইকারী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চড়া দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে। ফলে কিছু লাভ ধরে আমরা পণ্য বিক্রি করছি।

এ কারণে চিনি ও ভোজ্যতেলের দাম উর্ধ্বমুখী হয়েছে। চালের দাম বৃদ্ধি সম্পর্কে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাসিম আহমেদ জানান, বাজার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ করার প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। কেউ যাতে করোনার কারণে বাড়তি দামে পণ্য বিক্রি করতে না পারে তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

Show More

News Desk

তিস্তা নিউজের নিউজ রুম থেকে সমস্ত বিভাগসহ বাংলাদেশের সর্বশেষ সংবাদ প্রকাশ করা হয়। আপনি যদি তিস্তানিউজ ২৪.কম এ প্রকাশের জন্য আমাদের ট্রেন্ডিং নিউজ প্রেরণ করতে চান তবে আসুন এখনই আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। আপনার নিউজটি আমাদের নিউজ রুম থেকে নিউজ ডেস্ক হিসাবে প্রকাশিত হবে। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদান্তে- আব্দুল লতিফ খান, সম্পাদক মন্ডলির সভাপতি।

Related Articles

Back to top button
Close