Featured

কালাই উপজেলার ১১৬ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই

আতাউর রহমান,কালাই(জয়পুরহাট)সংবাদদাতা: সরকারি তহবিলের অভাব ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালীপনার কারণে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার ১৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠিানের মধ্যে মাত্র ১৪টি প্রতিষ্ঠানে শহীদ থাকলে অবশ্ঠি ১১৬টিতে আজও নির্মাণ করা হয়নি শহীদ মিনার ।

কালাই উপজেলার ১১৬ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই
ফাইল ফটো

ফলে ২১ ফেব্রুয়ারি আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস স্বীকৃতি পেলেও মাতৃভাষার তাৎপর্য, ইতিহাস ও এর গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা নেয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। শহীদ মিনার না থাকা কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ কিছু কিছু গ্রামের উজ্জীবিত তরুণ-তরুণীরাও নিজেদের উদ্যোগে  ২১ ফেব্রুয়ারি এলেই  কলা গাছ পুঁতে, বাঁশ, কাঠ ও কাগজ দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার বানিয়ে সেখানে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করে। তবে উপজেলার কিছু কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাতৃভাষা দিবসের কর্মসূচী পালিত হলেও অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই মাতৃভাষা দিবসের কোনো কর্মসূচিই পালন করা হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে।

কালাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে সরকারি ও বেসরকারি মোট ১৩০টি  স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা রয়েছে। এর মধ্যে ১১৬ টিতেই নেই শহীদ মিনার । প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই সরকারিভাবে শহীদ মিনার নির্মাণ করার নির্দেশ থাকলেও আজ পর্যন্ত ওই নির্দেশটি উপেক্ষিত রয়েছে।

কালাই উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা  কমান্ডার রেজাউল ইসলাম জানান,  জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রশাসনের উদ্যোগে মাতৃভাষা দিবসসহ জাতীয় দিবসগুলো গুরুত্বের সঙ্গে পালন করা হয়। সেখানে কেবল শহরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা যোগ দিলেও দূরতে¦র কারণে গ্রামের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ সম্ভব হয় না। ফলে তারা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষাসহ দিবসটির ইতিহাস ও গুরুত্ব সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এজন্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে তিনি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই শহীদ মিনার স্থাপনের দাবী জানান।

কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বাদল চন্দ্র হালদার বলেন, যে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখন পর্যন্ত শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়নি, শহীদ মিনার নির্মাণে তাগাদা দিয়ে অবিলম্বে তাদের চিঠি দেয়া হবে।

কালাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মিনফুজুর রহমান মিলন বলেন, উপজেলার ১৩০টির মধ্যে ১১৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই শহীদ মিনার না থাকার বিষয়ে আমরা অবগত আছি। একান্ত ইচ্ছে থাকা  সত্বেও আমাদের যে স্বল্প পরিমাণ তহবিল তা দিয়ে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার তৈরী করে দেয়া অসম্ভব। এক্ষেত্রে সরকারের বিশেষ পৃষ্ঠপোষকতা ও  অর্থ বরাদ্দের প্রয়োজন আছে।

জয়পুরহাট জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিইও) মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ নির্মানের তাগাদা সংক্রান্ত শিক্ষামন্ত্রণালয়ের প্রেরিত চিঠি ইতোমধ্যেই যেসব প্রতিষ্ঠানে এখনও শহীদ মিনার নির্মান করা হয়নি, সেসব প্রতিষ্ঠান প্রধান বরাবরে প্রেরণ করা হয়েছে।

Show More

News Desk

তিস্তা নিউজের নিউজ রুম থেকে সমস্ত বিভাগসহ বাংলাদেশের সর্বশেষ সংবাদ প্রকাশ করা হয়। আপনি যদি তিস্তানিউজ ২৪.কম এ প্রকাশের জন্য আমাদের ট্রেন্ডিং নিউজ প্রেরণ করতে চান তবে আসুন এখনই আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। আপনার নিউজটি আমাদের নিউজ রুম থেকে নিউজ ডেস্ক হিসাবে প্রকাশিত হবে। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদান্তে- আব্দুল লতিফ খান, সম্পাদক মন্ডলির সভাপতি।

Related Articles

Back to top button
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker