Featured

কিশোরীগঞ্জে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের ভুলের খেসারত দিতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের

http://tistanews24.com/wp-content/uploads/2016/01/Primary-Odhidoptor-400x250.jpgনীলফামারী অফিস: যারা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল তাদের ফলাফল নেই। অথচ যারা পরীক্ষায় অংশগ্রহন করেনি তাদের ফলাফলে পাস দেখানো হয়েছে।

নীলফামারীর কিশোরীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার উদাসিনতা ও কম্পিউটার অপারেটরের অদক্ষতার কারণে প্রায় শতাধিক প্রাথমিক ও এবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষার্থীর এই চিত্র ফাঁস হয়ে পড়েছে। এ ঘটনা নিয়ে এলাকা জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায় ওই উপজেলায় ২০১৫ সালে ১৭৭ টি প্রাথমিক বিদ্যালল থেকে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নেয়ার কথা ছিল ৫ হাজার ৯৯৯ জনের। অনুপস্থিত দেখানো হয় ২৩২জন। ৩১ ডিসেম্বর প্রকাশিত ফলাফলে দেখানো হয় জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৩৭ জন। অকৃতকার্য্য হয়েছে বালক ৬০ ও বালিকা ৯০ জন সহ ১৫০ জন। অভিযোগে জানা গেছে অকৃতকার্য্য যাদের দেখানো হয়েছে তাদের মধ্যে ১০৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাওয়ার যোগ্যতা রাখে। অথচ তাদের ফেল দেখানো হয়।

অপরদিকে ইবতেদায়ীতে সর্বমোট পরীক্ষার্থী ছিল ৩৫৯জন। পরীক্ষায় অংশ নেয়নি ১০৮ জন। ফলাফলে দেখানো হয় জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫জন এবং অকৃতকার্য হয়েছে ১৮ জন। এখানে যে শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল এমন বেশ কিছু পরীক্ষার্থী পাস করেছে।

একাধিক অভিভাবকের অভিযোগ এবারে প্রাথমিক সমাপনী ও এবতেদায়ী পরীক্ষায় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদুল হাসানের উদাসিনতা ও অদক্ষ কম্পিউটার অপারেটরের চরম ভুলের তাদের সন্তানদের ফলাফল আসেনি। সুত্র মতে পি এস সি পরীক্ষার্থীদের নাম রেজিষ্ট্রেশন করার সময় একজন ছাত্রের রেজিষ্ট্রেশন নম্বর আরেকজন ছাত্রের রোল নাম্বারের সাথে দিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলা হয়। এসব তালগোল পাকিয়ে ফেলা রোল নম্বর ও রেজিষ্ট্রেশন নম্বরগুলো যাচাই না করে শিক্ষা কর্মকর্তা ফলাফল প্রকাশের জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে রেজাল্টশীট পাঠিয়ে দেন।

প্রাথমিত সমাপনী পরীক্ষার্থী রোকসানা আক্তার। যার রোল নম্বর ৫৩৭১। পিতা গোলাম রব্বানী, নাজমিন আক্তার রোল নম্বর ৩৬৩৫, পিতা হাবিবুর রহমানসহ আরো অনেক অভিভাবক বলেন, শিক্ষা কর্মকর্তা ও কম্পিউটার অপারেটরের ভুলের মাশুলের কারণে আমাদের কোমলমতি ছেলে-মেয়েদের একটি বছর পিছিয়ে যেতে বসেছে। আমরা উদাসিন শিক্ষা কর্মকর্তার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে বিচার দাবী করছি।

সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার সর্ত্বে বলেন, প্রায় প্রতিটি বিদ্যালয়ের একাধিক ছাত্রছাত্রীদের এরকম অবস্থা হয়েছে শিক্ষা কর্মকর্তার যাচাই না করার জন্য। আরেক শিক্ষক বলেন, আমার নিজের ছেলের একই অবস্থা হয়েছে।

এদিকে এবতেদায়ী পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও অনেক ছাত্রছাত্রীর ফলাফল প্রকাশ পেয়েছে। এরকম পরীক্ষায় অংশ না নেয়া ছাত্রছাত্রীরা হলো রাসেল ইসলাম রোল নম্বর ৩৪,হাবিবুল্লাহ রোল নম্বর ৩২০,লাকী আক্তার রোল নম্বর ম-২২৮,হনুফা আক্তার রোল নম্বর ম-৯০।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদুল হাসানের সাথে কথা বললে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন তড়িঘড়ি করে কাজ করতে কিছুটা ভুল হয়েছে। এ ব্যাপারে ওই শিক্ষার্থীকে খাতা পুনরায় পর্যবেক্ষনের জন্য বোর্ড চ্যালেন্স করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। আগামীতে যেন আর ভুল না হয় সেদিকে খেয়াল করা হবে বলে জানান তিনি।

তবে উপজেলা শতশত শিক্ষক অভিযোগ করে তুলে বলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নিয়মিত অফিস করেন না। তার বাড়ি বগুড়া হওয়ায় তিনি বেশী সময় বগুড়ার থাকেন। তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে। সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে তার বিচার সহ অপসারন দাবি করা হয়।

Show More

News Desk

তিস্তা নিউজের নিউজ রুম থেকে সমস্ত বিভাগসহ বাংলাদেশের সর্বশেষ সংবাদ প্রকাশ করা হয়। আপনি যদি তিস্তানিউজ ২৪.কম এ প্রকাশের জন্য আমাদের ট্রেন্ডিং নিউজ প্রেরণ করতে চান তবে আসুন এখনই আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। আপনার নিউজটি আমাদের নিউজ রুম থেকে নিউজ ডেস্ক হিসাবে প্রকাশিত হবে। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদান্তে- আব্দুল লতিফ খান, সম্পাদক মন্ডলির সভাপতি।

Related Articles

Back to top button
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker