জাতীয়

চট্টগ্রাম ড্রাইডক নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করলেন প্রধানমন্ত্রী

http://tistanews24.com/wp-content/uploads/2015/12/33371.jpgতিস্তা নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ স্টিল এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশনের সহযোগী এবং জাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেড আজ (বুধবার) বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে। এটি আন্তর্জাতিকমানে রূপান্তরিত করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ আনুষ্ঠানিক ভাবে ড্রাইডকের মহা-পরিচালক কমোডর এম জাহাঙ্গীর আলমের কাছে এই হস্তান্তরের আদেশ প্রদান করেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এ বিষয়ে একটি চুক্তিপত্র হস্তান্তর করা হয়। চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন শিল্প সচিব মোশাররফ হোসেন ভুইয়া এবং নৌবাহিনীর সহকারী প্রধান রিয়ার এডমিরাল এসএএমএ আবেদীন।
চট্টগ্রাম ড্রাইডক চত্বরে এ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের শিপবিল্ডিংয়ের ইতিহাসে ড্রাইডক হস্তান্তরের ঘটনা মাইলফলক হয়ে থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ নৌবাহিনী চট্টগ্রাম ড্রাইডককে একটি কার্যকর সংস্থায় রূপান্তরিত করতে সক্ষম হবে এবং ভবিষ্যতে এটি আর কখনো রুগ্ন হবে না বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল এম ফরিদ হাবিব অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।
ড্রাইডকটি হস্তান্তরের উদ্দেশ্য হচ্ছে, এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ ড্রাইডক সংস্থা হিসেবে এবং আন্তর্জাতিক মানের জাহাজ তৈরিতে সক্ষম করে গড়ে তোলা।
প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতার পর বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্র যুগোশ্লাভিয়ার সহযোগিতায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রাম ড্রাইডককে পুনরায় চালু করার লক্ষ্যে একটি প্রকল্প গ্রহণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানে উদ্যোগ গ্রহণের কথা স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশে একটি কালো অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল। তখন দেশে কোন উন্নয়ন ও গণতন্ত্র ছিল না। অদক্ষ ম্যানেজমেন্ট এবং দূরদর্শীতার অভাবে ও পরবর্তী সরকারের দুঃশাসনে চট্টগ্রাম ড্রাইডকসহ অনেক প্রতিষ্ঠান রুগ্ন হয়ে যায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালে তার সরকার ক্ষমতায় ফিরে আসার পর রাষ্ট্র মালিকানাধীন লোকসানি প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করার পদক্ষেপ নেয়। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে খুলনা শিপইয়ার্ড এবং নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। হস্তান্তরের পর দু’টি প্রতিষ্ঠানই কার্যকর ও লাভজনক হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, খুলনা শিপইয়ার্ড দেশের প্রথম যুদ্ধ জাহাজ তৈরি করে দেশের শিপবিল্ডিং-এর ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। তিনি বলেন, এই শিপইয়ার্ডের তৈরি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ ‘সন্দ্বীপ’ এবং ‘হাতিয়া’ ইতোমধ্যেই কমিশন্ড হয়েছে।
পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ শিপইয়ার্ডে নির্মিত দু’টি ল্যান্ডিং ক্যাফট ট্যাংক (এলসিটি) ইতোমধ্যেই নৌবাহিনীতে কমিশন্ড হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের শিপইয়ার্ডের এ ধরনের অগ্রগতির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমরা একটি জাহাজ নির্মাতা দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছি।
শেখ হাসিনা চট্টগ্রাম ড্রাইডকের শ্রমিকদের আশ্বস্ত করে বলেন, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে ড্রাইডক হস্তান্তরের কারণে তারা কেউ চাকরিচ্যুত হবেন না। বরং তাদের কাজের দক্ষতা পূর্ণাঙ্গ ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তিনি চোরাচালানী বন্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা এবং বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দেশে গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করার জন্য নৌবাহিনীর সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।
চট্টগ্রাম ড্রাইডক নৌবাহিনীর জাহাজের কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলে প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী ড্রাইডকে এসে পৌঁছুলে নৌবাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। তিনি গার্ড পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেণ।

Show More

News Desk

তিস্তা নিউজের নিউজ রুম থেকে সমস্ত বিভাগসহ বাংলাদেশের সর্বশেষ সংবাদ প্রকাশ করা হয়। আপনি যদি তিস্তানিউজ ২৪.কম এ প্রকাশের জন্য আমাদের ট্রেন্ডিং নিউজ প্রেরণ করতে চান তবে আসুন এখনই আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। আপনার নিউজটি আমাদের নিউজ রুম থেকে নিউজ ডেস্ক হিসাবে প্রকাশিত হবে। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদান্তে- আব্দুল লতিফ খান, সম্পাদক মন্ডলির সভাপতি।

Related Articles

Back to top button
Close