Featured

চিরিরবন্দর রাবার ড্যাম প্রকল্প কৃষি উন্নয়নে আর্শিবাদ

চিরিরবন্দর রাবার ড্যাম প্রকল্প কৃষি উন্নয়নে আর্শিবাদমোহাম্মদ মানিক হোসেন, চিরিরবন্দর(দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার রাবার ড্যাম প্রকল্প কৃষি উন্নয়নে আর্শিবাদ ও কর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
উপজেলার সাইতাড়া ইউনিয়নের কাঁকড়া নদীতে সেচ কাজে নির্মিত রাবার ড্যামের অবিরাম স্রোতধারা  নদীর দু’কূলের প্রায় ৫ হাজার কৃষক পরিবারের ৫০ হাজার মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। কৃষকদের ভাগ্য বদলের পাশাপাশি ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের পথ সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চিরিরবন্দর উপজেলার কৃষকদের কৃষি উন্নয়নে উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে গত ২০০১ সালে উপজেলার কাঁকড়া নদীর উপরে দিনাজপুর এলজিইডির ৮কোটি ৪০ লক্ষ টাকা ব্যায়ে ১’শ ৩০ ফুট দীর্ঘ রাবার ড্যামটি নির্মাণ করে।
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ সূত্রে জানা যায়, এ রাবার ড্যাম নির্মানের ফলে চিরিরবন্দর উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া আত্রাই ও কাঁকড়া নদীর ১০কিলোমিটার এবং পার্শ্ববর্তী ১২কিলোমিটার এবং কয়েকটি শাখা খাল বছরের পুরো সময় পানিতে ভর্তি থাকে। ফলে উপজেলা এলাকার ২৪টির মধ্যে ১২টি ব্লকের ১২হাজার ২’শ ৫ হেক্টর জমি সেচ সুবিধার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। রাবার ড্যাম নির্মানের পর কুশলপুর, খোচনা, পশ্চিম সাইতাড়া, দক্ষিণ পলাশবাড়ী, উত্তর ভোলানাথপুর, আন্দারমুহা, অমরপুর, ভিয়াইল, কালিগঞ্জ, তালপুকুর, পুনট্রি, উচিতপুর, তুলশিপুর,নারায়ণপুর ও গোবিন্দপুর  গ্রামের ৪ হাজার ৯’শ ৫০ জন কৃষক ড্যামের পানি ব্যবহার করে বর্তমানে তারা স্বাবলম্বী ও স্বনিভর।

সাইতাড়া গ্রামে কৃষক মো: এনতাজুল হক জানান, আমাদের জমিগুলো উর্বর হওয়া সত্বেও সেচের অভাবে ইতিপূর্বে অনাবাদি ছিল। রাবার ড্যাম নির্মিত হওয়ায় এখন কয়েকটি এলাকায় ৪টি ফসল হচ্ছে। আমন, ইরি, আলু, সলিষা, ভূট্রা, গম সহ অন্যান্য ফসলের চাষ করে আমরা লাভবান হচ্ছি। কৃষিকার্য্যে চাহিদা অনুযায়ী নদী ও খাল থেকে পানি তুলে কৃষকেরা অনায়াসে জমিতে সেচ দিতে পারছেন। তিনি জানান, তার নিজের ৩ বিঘা জমি আছে এবং ২বিঘা বর্গা নিয়েছেন।

একই কথা বললেন, কৃষক পলাশ চন্দ্র, দেবেন্দ্র নাথ রায়, মশির উদ্দিন, বাবু অনিল, মহেন্দ্র নাথ রায়, আঃ কালাম ও সফল কৃষক নজির উদ্দিন (শাকিল)। রাবার ড্যাম প্রকল্প গিয়ে দেখা গেছে, উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে কাঁকড়া নদীর উপরে রাবার ড্যামটি নির্মিত হওয়ায় নদীর উত্তর দিকে যতদুর চোখ যায় শুধু পানি আর পানি। কোথাও ১৫ফুট আবার কোথাও ২০ফুট পানির গভীরতা লক্ষ্য করা গেছে। দেখে মনে হল, বর্ষাকালের মতই নদীর ভরাট অবস্থা। সেচ ব্যবস্থার পাশাপাশি কাকড়া নদীতে চলছে ছোট-বড় অনেক নৌকা। এসব নৌকা দিয়ে মানুষ এপার ওপারে যাতায়াত করতে দেখা গেছে এবং ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা ভাটিতে ড্যামের অল্প পানিতে মাছ ধরছে ও খেলছে। রাবার ড্যামের উপরে একটি ফুট ব্রীজ ও পার্শ্বে দর্শনাথীদের সুবধার্থে কংক্রিটের ঢালাই করা ছাতা, বসার বেঞ্চ ও বাংলো ঘর নির্মিত হয়েছে। রাবার ড্যামের পশ্চিম-উত্তর  দু’ধার দিয়ে গড়ে উঠেছে বাজারের মত শতাধিক দোকান পাট। ফলে রাবার ড্যাম প্রকল্প এলাকার চিত্র বদলে দিয়েছে। এলাকার অনেক বেকার মানুষের কর্মসংস্থান  সৃষ্টি  হয়েছে। রাবার ড্যামের উপরে ফুট ব্রীজ নির্মিত হওয়ায় ৮নং সাইতাড়া, ৫নং আব্দুলপুর ও ৭নং আউলিয়াপুকুর এলাকার মানুষের মিলন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে রাবার ড্যাম এলাকা। দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন দর্শনার্থীরা রাবার ড্যাম প্রকল্প পরিদর্শনে এসে থাকেন। এছাড়াও শীত মৌসুমে এখানে অনেক পিকনিক পাটি এসে আনন্দ উপভোগ করে থাকেন। রাবার ড্যাম প্রকল্পের আর্শিবাদে শুধু কৃষকদের ভাগ্যই বদলায়নি, ওই এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশেও ভারসাম্য এনেছে, স্বাবলম্বী ও উন্নয়নে এগিয়ে চলছে কৃষকরা।

Show More

News Desk

তিস্তা নিউজের নিউজ রুম থেকে সমস্ত বিভাগসহ বাংলাদেশের সর্বশেষ সংবাদ প্রকাশ করা হয়। আপনি যদি তিস্তানিউজ ২৪.কম এ প্রকাশের জন্য আমাদের ট্রেন্ডিং নিউজ প্রেরণ করতে চান তবে আসুন এখনই আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। আপনার নিউজটি আমাদের নিউজ রুম থেকে নিউজ ডেস্ক হিসাবে প্রকাশিত হবে। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদান্তে- আব্দুল লতিফ খান, সম্পাদক মন্ডলির সভাপতি।

Related Articles

Back to top button
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker