নীলফামারী

জলঢাকায় শতবছর ধরে দুর্ভোগ, বাশেঁ সাঁকোই যাদের ভরসা

আবেদ আলী, স্টাফ রিপোর্টার: নীলফামারীর জলঢাকায় ব্রীজ না থাকায বাঁশের সাকোঁ দিয়ে দুই পারের মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শতবছর ধরে।
গতকাল সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নের চৌধুরী পাড়া হতে পাশ্ববর্তী শ্যামপুরের সাথে যোগাযোগের একমাত্র পথ ধুম নদীর ঘাটে বাঁশের সাকোঁটি। এই বাঁশের সাকোঁটি প্রতিবছর বন্যায় ভেঙ্গে গেলে ওই দুই পারের মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হলে বারতী ৬ কিলোমিটার ঘুরে গোলমুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদ বা জলঢাকা শহরে ঘুকতে হয়।
এলাকাবাসীর উদ্দোগে বাঁশের সাকোঁ তৈরী করে শতবছর ধরে চলাচল করছে তারা। গেল বন্যায় সেই বাঁশের সাকোঁটি পানির স্রোতে ভেসে যাওয়ায় ওই এলাকার মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। বর্তমানে চলাচলের জন্য এলাকাবাসী সেখানে আবারো একটি বাশের সাঁকো তৈরী করে চলাচল করছে। এতে খরচ হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা।
পথচারী আমিনুল(৬০) জনান, ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি এলাকাবাসীর সাহায্য সহযোগিতায় তৈরী করা এ বাঁশের সাকোঁটি দিয়ে গোলমুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের সাথে শ্যাপুরের যোগাযোগের একমাত্র ভরসা।
এখানে স্থায়ীভাবে ব্রীজ নির্মাণ না হওয়ায় শতবছর ধরে জনগনের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। মুহিদুল ইসলাম (৫৫) বলেন, বাপ দাদার আমল থেকে চলাচল পথ নদীর উপর বাঁশের সাকোঁ
প্রতিবছর ভাঙ্গাগড়ার চেয়ে একটি স্থায়ী ব্রীজ খুবেই প্রয়োজন। এখানে পাকা ব্রীজ না থাকায় এলাকায় সরকারের কোন উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি। ভোট এলে সবাই আসে ভোট চায়, প্রতিশ্রুতিও দেয়, নির্বাচিত হলে সবকিছু ভুলে যান, কিন্তু  ব্রীজ আর  হয় না।
রফিক (২৫) জানায়, এখানে পাকা ব্রীজ না থাকায় আমাদের অনেক দূর্ভোগ পোহাতে হয়, তাতে দুঃখ নেই, কিন্তু দুঃখ তখন হয়, যখন কোন মুমূর্ষ রোগীর চিকিৎসার জন্য আনা এম্বুল্যান্স বা গাড়ি ব্রীজের কারনে রোগীর বাড়ি পর্যন্ত  যেতে পারে না। অনেকদিন ধরে  আমরা এ নদীর উপর ব্রীজ নির্মানের দাবী জানালেও অদ্যবদী ব্রীজ নির্মান হয়নি।
এ ব্রীজ নির্মানের দাবী বর্তমানে এলাকাবাসীর প্রানের দাবীতে পরিনত হয়েছে।
পাশ্ববর্তী শ্যামপুর এলাকার বাসিন্দা সরিফুল ইসলাম সোহাগ জানান, এ ধুম নদীর উপর একটি পাকা ব্রীজ নির্মাণ করার জন্য আমাদের এলাকার  সাংসদ মেজর রানা মোহাম্মদ সোহেল ( অবঃ)এর সাথে কথা হয়েছে, তিনি একটি প্রস্তাবনা পাঠিয়েছেন।
প্রস্তাবিত ১শত ২০ ফিট ব্রীজ টি সংশোধন করে ১শত ৮ ফিট ও ৩ ফিট উচু  করার প্রস্তাবনা স্থানীয় প্রকৌশল অফিসে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। যার বাজেট ধরা হয়েছে  ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা। এ ব্রীজটি নির্মান হলে এলাকার জনগনের ভাগ্যের চাকা পরিবর্তন হবে।
গোলমুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্যের সাথে  কথা হয়েছে তিনি এ নদীর উপর একটি পাকা ব্রীজ নির্মানের ব্যাবস্থা করবেন।
এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী আব্দুর রউফ বলেন আমরা গোলমুন্ডা ইউনিয়নের চৌধুরী পাড়া ধুপ নদীর ঘাটের উপর একটি ব্রীজ নির্মানের প্রাথমিক জরিপ করে স্থানীয়  সংসদ সদস্যের সুপারিশ সহ কাগজ পত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠিয়েছি।

Show More

News Desk

তিস্তা নিউজের নিউজ রুম থেকে সমস্ত বিভাগসহ বাংলাদেশের সর্বশেষ সংবাদ প্রকাশ করা হয়। আপনি যদি তিস্তানিউজ ২৪.কম এ প্রকাশের জন্য আমাদের ট্রেন্ডিং নিউজ প্রেরণ করতে চান তবে আসুন এখনই আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। আপনার নিউজটি আমাদের নিউজ রুম থেকে নিউজ ডেস্ক হিসাবে প্রকাশিত হবে। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদান্তে- আব্দুল লতিফ খান, সম্পাদক মন্ডলির সভাপতি।

Related Articles

Back to top button
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker