নীলফামারী

জলঢাকায় সেতু অভাবে চরবাসিদের দুর্ভোগ চিকিৎসার জন্য স্বজনদের কাধে রোগী 

আবেদ আলী, স্টাফ রিপোর্টার: নীলফামারীর জলঢাকায় একটি সেতুর অভাবে ৩০ গ্রামের মানুষ হচ্ছে চরম দুর্ভোগের শিকার। চরে বসবাসকারী পরিবারে কেউ অসুস্থ হলে চিকিৎসার জন্য অটোরিক্সা পেতে রোগীকে স্বজনদের কাধে করে হেটে নিয়ে যেতে হয় কমপক্ষে ৮/১০ কিলোমিটার।
উপজেলার তিস্তার তীরবর্তী ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বুড়ি তিস্তা নদীর নেকবক্ত মন্থনা ঘাটে সেতু না থাকায় যুগ যুগ ধরে দূর্ভোগের শিকার হন ওই ইউনিয়নটির চর এলাকার ২০ থেকে ৩০ টি গ্রামের হাজার হাজার পরিবারের মানুষ। শুধু ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের চরবাসিরাই নয়, পার্শবর্তী হাতীবান্ধার চরবাসিদেরও জলঢাকার সাথে খুব সহজেই যোগাযোগের একমাত্র পথ ওই মন্থনার ঘাট।
উপজেলার ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের নেকবক্ত বাজার হতে হাব কিলোমিটার পূর্বদিকে মন্থনা ঘাটে বুড়িতিস্তা নদীর উপর একটি সেতুর অভাবে স্বাস্থ্য চিকিৎসা ক্ষেত্রে সেখানকার মানুষের যেন দূর্ভোগের শেষ নেই। নির্বাচন আসলে প্রার্থীরা রাস্তাঘাট, ব্রীজ, কালভার্ট সহ এলাকার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও বছরের পর বছর চলে যায়, কিন্তু তাদের ভাগ্য আর পরিবর্তন হয়না।
স্থায়ীভাবে সেতু না থাকায় ওই অঞ্চলের মানুষ বর্ষার সময়ে নৌকা, আর শুষ্ক মৌসুমে কাঠ বা বাশের সেতুর উপর দিয়ে পারাপার হন টোল দিয়ে। তাছাড়া সেখানে নেই কোন চলাচলের জন্য যানবাহন ব্যবস্থা, হাসপাতাল, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ, বাজার, বিপনি বিতান সহ সকল ধরনের নাগরিক সুবিধা। ফলে কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়েছে তাদের চলাচল ও জীবন – জীবিকা। বলা যায় ওই এলাকার মানুষের জীবন যাত্রার মান চলছে প্রায় বৃটিশ ও আদি যুগের মতোই।
গতকাল শুক্রবার সকালে তিস্তা পাড়ে গেলে, চরভরট এলাকার আব্দুল করিম, খচরু মামুদ, জামুদ্দি, সবুর মিয়া, আলমগীর হোসেন ও আরিফ জানায়, সেই ছোট বেলা থেকেই দেখে চলছি এই দুর্ভোগ। ভবিষ্যতে এই দুর্ভোগ দুর হবে বলে আমাদের বিশ্বাস হয়না। এখানে মেম্বার, চেয়ারম্যান এমনকি এমপিও এসে সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু বাস্তবায়ন আর হয় না। ফলে চরবাসিদের মধ্যে কেউ অসুস্থ হলে তাকে কাদে করে ৮/১০ কিলো হেটে নেকবক্ত বাজারে এসে অটো অথবা রিক্সাভ্যান নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হয়। নির্বাচন এলে আমাদের মত অসহায় মানুষদের সবাই ভোটের জন্য অনেক প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু ভোট বের হলে কেউ আর মনে রাখেন না আমাদের দুর্ভোগ দুর্দশার কথা। সরকার আসে এবং যায়, কিন্তু দুর হয়না আমাদের এই দূর্ভোগ।
নদী সংলগ্ন এলাকা গুলোতে ভাংগা গড়ার মাধ্যমে চরে গড়ে উঠেছে অনেক জনপদ। এ নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এসব জনপদ সহ আশপাশের কৃষকেরা শত শত হেক্টর জমিতে ধান, পাট, গম, ভুট্টা, কাউন, মিষ্টি কুমড়া আখ এবং শাক সবজি সহ নানান জাতের ফসল উৎপাদনে বিপ্লব ঘটালেও নেই তাদের ভাল কোন যোগাযোগ ব্যবস্থা। চরবাসিরা তাদের ভাগ্য পরিবর্তনে তাদের উৎপাদিত ফসল দিয়ে নিজেদের চাহিদা পুরাণের পাশাপাশি বিক্রির জন্য নিকটস্থ নেকবক্ত বাজার ও জলঢাকা উপজেলা শহর সহ দক্ষিণের বড়বড় শহরে যেতে হয়। বর্ষায় নৌকায় আর শুষ্ক মৌষুমে টোল দিয়ে বাশের সেতু দিয়ে মাথায় ও ঘারে করে নদী পার হতে হয় তদের।
এক কথায় নিভে যাচ্ছে বিপুল উন্নয়ন সম্ভাবনার প্রানের স্পন্দন জলঢাকার ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নে তিস্তা ও বুড়ি তিস্তা নদীর উপর দুটি ব্রীজের অভাবে।
এলাকা বাসীর অভিযোগ, স্বাধীনতার দীর্ঘদিনেও তাদের প্রানের দাবী মন্থনার ঘাটে সেতু নির্মাণের ওয়াদা রাখেননি কেউ। ওই ঘাটে একটি সেতুর জন্য এমপি মন্ত্রীদের কাছে অনেক ধরনা দিচ্ছেন তারা কথা দেন, কিন্তু কথা রাখেন না। তাই দুর্ভোগ এরাতে বুড়িতিস্তা নদীর উপর এই সেতু নির্মাণ এখন এলাকাবাসীর প্রাণের দাবী।
ইউনিয়ন পরিষদ সুত্র জানান এই ব্রীজের নির্মান সংক্রান্ত  সকল বিষয় একনেকে পাশ হওয়ার পর তা কাজ শুরুর চুুরান্ত অনুমোোদনের জন্য ফাইল সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় ও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে আছে ওনাদের চুরান্ত  অনুমোদোন পাওয়ার পরে কাজ শুরু করবে ঠিকাদার।

Show More

News Desk

তিস্তা নিউজের নিউজ রুম থেকে সমস্ত বিভাগসহ বাংলাদেশের সর্বশেষ সংবাদ প্রকাশ করা হয়। আপনি যদি তিস্তানিউজ ২৪.কম এ প্রকাশের জন্য আমাদের ট্রেন্ডিং নিউজ প্রেরণ করতে চান তবে আসুন এখনই আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। আপনার নিউজটি আমাদের নিউজ রুম থেকে নিউজ ডেস্ক হিসাবে প্রকাশিত হবে। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদান্তে- আব্দুল লতিফ খান, সম্পাদক মন্ডলির সভাপতি।

Related Articles

Back to top button
Close