নীলফামারী

ডিমলায় পুকুর থেকে নৈশ প্রহরীর লাশ উদ্ধার: ঘটনা রহস্যে ঘেরা

ডিমলায় পুকুর থেকে নৈশ প্রহরীর লাশ উদ্ধার: ঘটনা রহস্যে ঘেরাসরদার ফজলুল হক : নীলফামারীর ডিমলায় জিকরুল হক ভুট্টু (৪০) নামে এক নৈশ প্রহরীর লাশ পুকুর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। সে উপজেলার খগাখড়িবাড়ী দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের খন্ডকালীন নৈশ প্রহরী ও বন্দর খড়িবাড়ী গ্রামের মৃত আব্দূল মজিদের পুত্র।

আজ (শনিবার) দুপুরে বিদ্যালয় চত্বরের একটি পুকুর থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে।

মৃতের স্ত্রী ফেন্সি বেগমের বর্ণনায় জানাযায়, অন্যান্য দিনে মত শুক্রবার রাতে স্বামী-স্ত্রী ওই বিদ্যালয়ের সিরির নিচে একটি কাঠের চৌকিতে বিছানা পেতে ঘুমিয়ে পড়ে। ভোরে ঘুম থেকে জেগে দেখে তার স্বামী জিকরুল হক ভুট্টু বিছানায় নেই। অনেক  খোঁজাখুঁজির পর সকালে বিদ্যালয়ের পুকুরে তার স্বামীর লাশ দেখতে পেয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে জানায়। তাদের চার মেয়ে ও  এক পুত্র সন্তান রয়েছে।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি থানায় জানালে দুপুরে পুলিশ ঘটনা স্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমির হোসেন বলেন, সরকারী ভাবে নৈশ প্রহরী নিয়োগ ব্যবস্থা না থাকায় ২০১৩ সালে জিকরুল হক ভুট্টুকে নৈশ প্রহরী ও তার স্ত্রী ফেন্সি বেগমকে আয়া হিসেবে খন্ডকালীন নিয়োগ প্রদান করা হয়। যদিও আয়া পদে স্মুতি বেগম নামে  ইনডেক্সধারী আর একজন আয়া রয়েছে।

900

এ ঘটনায় এলাকায় নানা জনে নানা কথা বলেছে, কেহ বলছে, বিদ্যালয়টি কি বাসস্থান যে স্বামী-স্ত্রী এক বিছানায় রাত কাটাবে? আবার কেও বলছে বিদ্যালয়ে ইনডেক্সধারী একজন আয়া থাকার পরেও ফেন্সি বেগমকে নিয়োগ দেয়া কি খুব জরুরী ছিলো ? আর ফেন্সি বেগমকে দিয়ে কেনই-বা নৈশ্য প্রহরীর কাজ করানো হতো?

তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমির হোসেন  এসব প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে তিনি বিদ্যালয়ের সভাপতি গোলাম সাওয়ারকে দেখিয়েদেন।

বিদ্যালয়ের সভাপতি গোলাম সাওয়ার বলেন, বিদ্যালয়ের পাশেই বাসা বলে তারা স্বামী-স্ত্রী এক সাথে থেকে ডিউটি করতেন।

এলাকায় আরো প্রশ্ন ওঠেছে, তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া  ও চাকুরী স্থায়ীকরণ নিয়ে।  তাদের চাকুরী স্থায়ী করণের নামে কে বা কারা তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

অপর দিকে এলাকার সচেতন মহলে দাবি ওঠেছে, সন্ধার পরে ওই বিদ্যালয় চত্বরে মাদক সেবীদের কোন আনাগোনা ছিলো কি না তা খতিয়ে দেখতে হবে।

স্ত্রী ফেন্সি বেগমের দাবি, তার স্বামী জিকরুল হক ভুট্টুকে হত্যার পরে লাশ পুকুরে ফেলে দিয়ে কে বা কারা গা ঢাকা দিয়েছে।

এলাকাবাসী জানায়, যে পুকুর থেকে ভুট্টুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে সেখানে পানির গভীরতা ৪ ফুট।

ডিমলা থানার এসআই সফিয়ার রহমার বলেন, ঘটনার বিষয়ে একটি ইউডি মামলা করা হয়েছে। লাশের গলায় একটি আঘাতের দাগ রয়েছে। লাশের ময়না তদন্ত রিপোর্ট পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

 

Show More

News Desk

তিস্তা নিউজের নিউজ রুম থেকে সমস্ত বিভাগসহ বাংলাদেশের সর্বশেষ সংবাদ প্রকাশ করা হয়। আপনি যদি তিস্তানিউজ ২৪.কম এ প্রকাশের জন্য আমাদের ট্রেন্ডিং নিউজ প্রেরণ করতে চান তবে আসুন এখনই আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। আপনার নিউজটি আমাদের নিউজ রুম থেকে নিউজ ডেস্ক হিসাবে প্রকাশিত হবে। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদান্তে- আব্দুল লতিফ খান, সম্পাদক মন্ডলির সভাপতি।

Related Articles

Back to top button
Close