Featured

দিনাজপুরে পৌর-নির্বাচনে আ‘লীগের ভরাডুবির কারণ অনুসন্ধানে, মাঠে গোয়েন্দা সংস্থা

http://tistanews24.com/wp-content/uploads/2016/01/election.jpgমোঃ আরিফ জাওয়াদ, দিনাজপুর: দিনাজপুর জেলায় অনুষ্ঠিত পৌরনির্বাচনে ৫টি পৌরসভার মধ্যে ৪টি পৌরসভায় আওয়ামী লীগের কি কারণে ভরাডুবি হয়েছে? তা অনুসন্ধানে নেমেছে গোয়েন্দা সংস্থা।  শ্রীঘই অনুসন্ধান করে, প্রতিবেদন দেয়ার জন্য জেলা প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, বলে জানা যায়।   গত শুক্রবার (১ই ডিসেম্বর ২০১৫) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে সংক্রান্ত বার্তা প্রেরণ করা হয়েছে। শনিবার (২ই ডিসেম্বর ২০১৫) সকাল থেকে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছে।

সংস্থাটির একটি সূত্র জানায়, দিনাজপুর পৌরসভার নির্বাচনে এবার আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম বিপুল ভোটে পরাজিত হয়েছে। এর কারণ অনুসন্ধানে বেশ কিছু চমকপদ তথ্য উঠে এসেছে। এর মধ্যে দিনাজপুরে জেলা আওয়ামী লীগ ও পৌর আওয়ামী লীগের মধ্যে নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব, নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রথম শ্রেণীর নেতাদের মাঠে না নামাসহ সংখ্যালঘু ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে না যাওয়া ও কিছু সংখ্যালঘু নেতাদের দ্বারা দরিদ্র সংখ্যালঘু পরিবারগুলো বিভিন্নভাবে হয়রানী হওয়ার কারণে তারা আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কায় ভোট না দিয়ে বিএনপি’র ধানের শীষে ভোট দিয়েছে বলে তাদের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

ঐ সূত্রটি আরো জানায়, বীরগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে গতবারে জামায়াতের প্রার্থী মওলানা মোঃ হানিফ মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। গত ৫ বছরে মেয়র হানিফ অনেক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও এবারের নির্বাচনে কি কারণে পুনরায় জয়যুক্ত হয়েছে সে বিষয়ে অনুসন্ধানে বেশ কিছু তথ্য উঠে এসেছে। বীরগঞ্জ পৌরসভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের বসবাস বেশি। তাদের বক্তব্য মেয়র হানিফ তাদের কোন ক্ষতি করে না। অথচ প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা ও হিন্দু সম্প্রদায়ের বৃত্তবান নেতারাই তাদের ক্ষতি করে আসছে। এসব কারণেই তারা নিরাপদে থাকতে পুনরায় হানিফকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে।

এদিকে ফুলবাড়ী পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শাহজাহান আলী পুতুকে পরাজিত করে বিদ্রোহী প্রার্থী ও খনি বিরোধী আন্দোলনের নেতা মর্তুজা সরকার মানিক পুনরায় মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। এই পৌরসভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী এবং দিনাজপুর ৫ আসনের এমপি এ্যাডঃ মোস্তাফিজুর রহমানের ছোট ভাই খাজা মঈনউদ্দীন নাগরিক কমিটির ব্যানারে মেয়র প্রার্থী হয়েছিলেন। নির্বাচনে বিভিন্ন অপপ্রচার ও ৩ জন প্রার্থী হওয়ার কারণে ভোটারেরা পুনরায় খনি বিরোধী আন্দোলনের নেতা মানিককে ভোট দিয়ে নির্বাচিত হয়েছে। এই পৌরসভায় আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দল থাকায় এই ভোটের রায় হয়েছে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে।

অন্যদিকে বিরামপুর পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়ে অধ্যাপক আক্কাস আলী নির্বাচন করেছেন। দিনাজপুর ৬ আসনের এমপি শিবলী সাদিক দলীয় মনোনয়ন প্রার্থীকে বেতিরেখে তিনি তার পছন্দের স্বতন্ত্র প্রার্থী দাড় করেছিলেন লিয়াকত আলী সরকার টুটুলকে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিদ্রোহী প্রার্থী লিয়াকত আলী সরকার টুটুল ৬৯২ বেশি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

উপরোক্ত এরকম অনেক তথ্য রয়েছে এগুলো সংবাদপত্রে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। উপরোক্ত বিষয়ে সঠিক তথ্য উত্‍ঘটন করে সুপারিশসহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে রিপোর্ট দেয়ার জন্য গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা কাজ করছেন। এবং হাকিমপুর পৌরসভা ব্যাতিত বাকি ৪টি পৌরসভায় পরাজিতের বিষয় প্রতিবেদন, প্রেরণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে, বলে জানায় সূত্রটি।

Show More

News Desk

তিস্তা নিউজের নিউজ রুম থেকে সমস্ত বিভাগসহ বাংলাদেশের সর্বশেষ সংবাদ প্রকাশ করা হয়। আপনি যদি তিস্তানিউজ ২৪.কম এ প্রকাশের জন্য আমাদের ট্রেন্ডিং নিউজ প্রেরণ করতে চান তবে আসুন এখনই আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। আপনার নিউজটি আমাদের নিউজ রুম থেকে নিউজ ডেস্ক হিসাবে প্রকাশিত হবে। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদান্তে- আব্দুল লতিফ খান, সম্পাদক মন্ডলির সভাপতি।

Related Articles

Back to top button
Close