সারাদেশ

নওগাঁর পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক বিপিএম পদকে ভূষিত

http://tistanews24.com/wp-content/uploads/2016/01/2121.jpg
বিপিএম পদকে ভূষিত হচ্ছেন নওগাঁর পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক

গোলাপ খন্দকার নওগাঁ প্রতিনিধিঃ নওগাঁ জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক, পিপিএম, নওগাঁ ও বগুড়া জেলায় বিভিন্ন কৃতিত্বপূর্ণ কর্মকান্ডের জন্য বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল বিপিএম পদকে ভুষিত হচেছন ।

মঙ্গলবার রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স এ অয়োজিত পুলিশ সপ্তাহে/২০১৬ অনুষ্ঠিত বার্ষিক কুচকাওয়াজে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে এই পদকে ভূষিত করবেন ।

তার এ সফলতার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সহ বিভিন্ন ভাবে অভিনন্দন জানানো হয়েছে । সন্ত্রাস এবং নাশকতা প্রতিরোধ, কমিউনিটি পুলিশিং এর মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদক বিরোধী অভিযানে সফল নেতৃত্ব, আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রনে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালনের জন্য বাংলাদেশ পুলিশের সর্বচ্চ পদক বিপিএম সেবা (বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল) পুরুস্কারের জন্য মনোনিত হয়েছেন। ।

ইতিপূর্বেও তিনি পুলিশ বাহিনীতে কৃতিত্বপূর্ণ কর্মকান্ডের জন্য আইজিপি পদক(IGP’s Exemplary Good Services Badge ), বাংলাদেশ প্রেসিডেন্ট মেডেল(পিপিএম) সেবাসহ তথ্যপ্রযুক্তিতে বিশেষ অবদান রাখার জন্য বাংলাদেশের একমাত্র পুলিশ সুপার হিসাবে ডিজিটাল এ্যাওয়ার্ড পদকে ভূষিত হয়েছেন।

তিনি ২০০৮ সালে শান্তিরক্ষা মিশনে বিচক্ষণতা ও সফলতার সহিত দায়িত্ব পালনের জন্য শান্তি পদকে ভূষিত হন। তিনি ১৮তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীন হয়ে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগের জন্য মনোনিত হন এবং ১৯৯৯ সালের ২৫শে জানুয়ারী শিক্ষানবীশ সহকারী পুলিশ সুপার পদে যোগদান করেন। বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমী, সারদা, রাজশাহীতে এক বৎসর মেয়াদী প্রশিক্ষন শেষে তিনি শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার হিসাবে ২০০০ সালের আগষ্ট মাসে কুষ্টিয়া জেলায় যোগদান করেন।

শিক্ষানবিশকাল সমাপনান্তে তিনি সহকারী পুলিশ সুপার সার্কেল হিসাবে পঞ্চগড় জেলায় যোগদান করেন। ২০০৩ সালে তিনি সহকারী পুলিশ সুপার সদর সার্কেল রাজশাহী হিসাবে যোগদান করেন। ২০০৫ সালে জুলাই মাসে তিনি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি লাভ করেন এবং নাটোর জেলায় যোগদান করেন। পূণরায় তিনি ২০০৬ সালে জানুয়ারী মাসে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসাবে রাজশাহী জেলায় যোগদান করেন। ২০০৭ সালে এপ্রিল মাসে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসাবে কুমিল্লা জেলায় যোগদান করেন।

কুমিল্লা জেলায় কর্মরত অবস্থায় একই বৎসরে নভেম্বর মাসে ডেপুটি কমান্ডার হিসাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীর সদস্য হিসাবে সুদান মিশনে গমন করেন। যুদ্ধ বিধ্বস্ত দারফুরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে জাতিসংঘ শান্তি পদকে ভূষিত হন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন হতে ফিরে পুনরায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে নাটোর জেলায় যোগদান করেন। এসময় আগুলিয়া শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক বিক্ষোভের সুচনা হলে ২০১০ সালের মে মাসে তিনি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ঢাকা হিসাবে বদলী হন এবং সফলভাবে শ্রমিক বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করে গার্মেন্টস সেক্টরে স্থিতিশীলতা ফিরে আনেন।

২০১০ সালে ২০শে অক্টোবর তিনি পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি লাভ করেন এবং জয়পুরহাট জেলায় যোগদান করেন। জয়পুরহাট জেলায় কর্মকালীন সফলতার সাথে আইন-শৃংঙ্খলা রক্ষা, মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং কমিউনিটি পুলিশিং জোরদার করনের মাধ্যমে পুলিশ জনতার সেতুবন্ধন রচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এসময় জয়পুরহাট জেলার কালাই থানা এলাকায় কতিপয় গ্রামে অবৈধ এবং অমানবিকভাবে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে কিডনী পাচারের ঘটনা ঘটানোর সংগে জড়িত এর চক্রের সকল হোতাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন। বিষয়টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রচারিত ও ব্যাপকভাবে প্রসংসিত হয়েছে।

এই সফলতার স্বীকৃতি হিসেবে জনাব মোঃ মোজাম্মেল হককে ২০১২ সালে জানুয়ারী মাসে পুলিশ সপ্তাহে রাষ্ট্রপতি পুলিশ ইউনিটের মধ্যে দ্বিতীয় হিসেবে পিপিএম পদক প্রদান করা হয়। ২৭/০১/২০১২ খ্রিঃ তিনি পুলিশ সুপার, বগুড়া হিসেবে যোগদান করেন এবং বগুড়া জেলায় সন্ত্রাস, নাশকতা প্রতিরোধসহ আইন-শৃংঙ্খলা নিয়ন্ত্রনে সফলতার জন্য সরকারসহ সকল মহল কর্র্তৃক প্রশংসা অর্জন করেন। তিনি বদলি সূত্রে গত ০৩/০৬/২০১৫ খ্রিঃ পুলিশ সুপার নওগাঁ হিসেবে যোদান করেন এবং অদ্যাবধি গনমূখি পুলিশি ব্যবস্থা গ্রহণ করে জেলার মাদক, সন্ত্রাস, নাশকতা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখছেন। তিনি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পেশাগত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। এছাড়া এশিয়া, ইউরোপ এবং অ্যামেরিকার বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পেশাগত দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ গ্রহন করেছেন।

মোঃ মোজাম্মেল হক ১৯৬৮ সালে ১৫ই জানুয়ারী পাবনা জেলার ভাঙ্গুড়া থানাধীন কাশীপুর গ্রামে নানার বাড়ীতে এক সম্ভান্ত মুসলিম পরিবাবে জন্মগ্রহন করেন। তাঁর পিতার নাম আব্দুল জব্বার বিশ্বাস এবং মাতার নাম মোমেনা বেগম। তিনি শাহাপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে বৃত্তিসহ প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করে মুলগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। তিনি মাধ্যমিক শিক্ষা গ্রহণকালে ৮ম শ্রেণীতে টেলেন্টপুল বৃত্তিলাভ করেন। ১৯৮৪ সালে কৃতিত্বের সাথে প্রথম বিভাগে এসএসসি পাশ করেন। ১৯৮৬ সালে চাটমোহর ডিগ্রী কলেজ হতে প্রথম বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তির্ণ হন। অতপর তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ-এ ভর্তি হন। ১৯৯২ সালে তিনি কৃতিত্বের সাথে ডিভিএম পরীক্ষায় উত্তির্ণ হয়ে একই প্রতিষ্ঠানে এমএস কোর্সে ভর্তি হন।

বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে যোগদানের পূর্বে তিনি ১৯৯৪ সালে ভ্যাটেনারী সার্জন হিসাবে জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর থানায় চাকুরীতে যোগদান করেন। অপঃপর তিনি একই পদে চাকুরীকালে ১৫তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তির্ণ হয়ে নিয়োগের জন্য মনোনীত হন। কিন্তু অনিবার্য কারণ বশতঃ তিনি চাকুরীতে যোগদান না করে ঈশ্বরদী উপজেলায় বদলী হন। ঈশ্বরদী চাকুরী করাকালে পুনরায় তিনি ১৮তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন। ব্যক্তি জীবনে তিনি বিবাহিত। স্ত্রী সুলতানা হক (কণা) একজন সুগৃহিনী। তিনি মেধাবী দুই কন্যা এবং এক পুত্র সন্তানের জনক।

Show More

News Desk

তিস্তা নিউজের নিউজ রুম থেকে সমস্ত বিভাগসহ বাংলাদেশের সর্বশেষ সংবাদ প্রকাশ করা হয়। আপনি যদি তিস্তানিউজ ২৪.কম এ প্রকাশের জন্য আমাদের ট্রেন্ডিং নিউজ প্রেরণ করতে চান তবে আসুন এখনই আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। আপনার নিউজটি আমাদের নিউজ রুম থেকে নিউজ ডেস্ক হিসাবে প্রকাশিত হবে। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদান্তে- আব্দুল লতিফ খান, সম্পাদক মন্ডলির সভাপতি।

Related Articles

Back to top button
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker