বিনোদন

নানান প্রেম-প্রীতির নানান জালা

http://tistanews24.com/wp-content/uploads/2015/10/055.jpgবিনোদন ডেস্ক: জীবনে প্রেমে পড়ে নি এমন মানুষ পৃথিবীতে আছে বলে মনে হয় না। তারপরও যদি দুই একজন থেকে থাকে তাতে কিছু বলার নেই। তবে আমরা আমাদের চারপাশে বিভিন্ন ধরনের প্রেমিক জুটি দেখে থাকি। তাদের এই প্রেমগুলো বিভিন্ন রকম ও বিভিন্নভাবে হয়েছে। আসুন সে বিষয়ে একটু চোখ বুলিয়ে আসি।

প্রথমে বন্ধুত্ব তারপর প্রেম: বেশিরভাগ প্রেমের সম্পর্কের ক্ষেত্রেই এমনটা শোনা যায়। এক সাথে অনেকটা দিন চলতে ফিরতে একে অপরের প্রতি সাহায্য-সহযোগিতা, নির্ভরশীলতা, বিশ্বাস প্রভৃতির মাধ্যমে অনেকটা নিজেদের অজান্তেই বন্ধুত্বের সম্পর্কটি প্রেম-ভালোবাসায় টার্ন নেয়। তবে এ ধরনের প্রেমের ক্ষেত্রে মেয়েরা অনেকটা অনুশোচনায় ভোগে। আরেকটা বিষয় হলো – এ ধরনের সম্পর্ক ওয়ান সাইড না হওয়াই ভালো। এতে করে বন্ধুত্বের যে মিষ্টি সম্পর্ক রয়েছে সেটিও নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রথম প্রেম: কখন কার জীবনে প্রেম এসে উঁকি দিবে তার কোনো ধরাবাঁধা সময় নেই। সেটা ২০ থেকে ২৫ এর কোঠা পেরোবার আগেই সাধারণত হয়ে থাকে। তবে বেশিরভাগ প্রথম প্রেমই সত্যিকার অর্থে যে প্রেম বুঝায় তার কোনো বৈশিষ্ট্যই ধারণ করে না। প্রথম প্রেমের ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো দেখা যায় তা হলো – কেউ প্রেমে পড়ে ক্লাশের সহপাঠীর প্রেমে, কেউবা তার ক্লাশের শিক্ষিকার প্রেমে, কেউবা বয়সে বড় আপু বা ভাইয়ার প্রেমে। অনেকে আবার ফিল্মের নায়ক-নায়িকাদের প্রেমেও পড়ে। তাই বলে কি প্রথম প্রেম কোনো প্রেম নয়? অবশ্যই প্রেম। তবে তার বাস্তবতা থাকতে হবে। প্রথম প্রেম প্রতিটি মানুষের জীবনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। হয়তোবা এর পরেও আপনি অন্য কারো সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়াবেন কিন্তু এই প্রেমটিকে ভোলা আদৌ সম্ভব কিনা সন্দেহ রয়েছে। যা কিনা পরবর্তীতে জীবনে বিরূপ প্রভাবও ফেলতে পারে। তাই প্রেমের মাঠে নামার আগে একটু ভেবেচিন্তে নামাই ভালো।

অল্প বয়সেই প্রেম: আজকাল কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেমের চেয়ে প্রাইমারি/হাই স্কুলের প্রেমিক যুগলের সংখ্যাটা বেশি চোখে পড়ছে। বড় ভাইয়া-আপুদের সাথে ছোট ছোট প্রেমিক জুটিরাও একই সাথে পার্কে, রেষ্টুরেন্টে, সিনেমা হলে প্রেম করে বেড়াচ্ছেন। তবে এই প্রেমে সাফল্যের হার অনেকটা কম। কেননা এই বয়সে প্রেমের অর্থই যেখানে অজানা সেখানে সফলতা কামনা করাটাও বোকামি। এ ধরনের প্রেম সাধারণত চোখের ভালোলাগা, সঙ্গীর সান্নিধ্য লাভ, বড়দের অনুকরণ এসব কারণেই হয়ে থাকে। অনেক সময় পরিবারের চাপের কারণে স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার আগেই এই সম্পর্ক ভেঙ্গে যায়।

প্রথম দেখায় প্রেম: ইংরেজিতে একটা কথা আছে “Love at First Site”. এমন অনেকে আছেন যারা এ ধরনের প্রেমে পড়েছেন। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই প্রেম একতরফা হয়। মেয়েদের চেয়ে ছেলেরা এই ধরনের প্রেমে বেশি পড়েন। সাধারণত মার্কেট, বিয়ে বাড়ি, কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়, কোচিং সেন্টার এমনকি ছবি দেখেও এই প্রেমের শুরু হয়ে থাকে। এসব প্রেম মূলত হয়ে থাকে রূপ সৌন্দর্য্য ও দৈহিক সৌন্দর্য্যের কারণে। মন থেকে এই ভালোবাসা প্রকাশ পায় না।

অব্যক্ত প্রেম: ছেলে ও মেয়ে উভয়ের ক্ষেত্রেই এরকম প্রেম দেখা যায়। যারা কিছুটা লাজুক তাদের ক্ষেত্রে এমনটা ঘটে থোকে। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস এমনকি বছরের পর বছর ভালোবেসে যাবে অথচ মুখ ফুটে বলতে পারবে না। অবশেষে একদিন দেখা যায় তার চোখের সামনে দিয়ে তার সেই ভালোবাসার মানুষটির হাত ধরে অন্য কেউ হাঁটছেন। এই প্রেম হারানো কষ্ট কতটা বেদনাদায়ক তা কেবল তারাই টের পায়।

ত্রিভুজ প্রেম: অনেকটা দড়ি টানাটানির মতোই অবস্থা এই প্রেমের। মাঝখান থেকে দড়ি বাবাজির অবস্থা হয় দফারফা। ত্রিভূজ প্রেমের ক্ষেত্রে প্রায়শঃই মেয়েরা মানসিক দ্বন্দে ভোগে – কাকে পছন্দ করবে এই নিয়ে। অনেক সময়ই ছেলে দু’জনের মধ্যে প্রতিযোগিতা রূপ নেয় মারামরিতে। দু’জন মেয়ে আর একজন ছেলের মধ্যেও ত্রিভূজ প্রেম লক্ষিত হয়। তবে সেক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা মারামারিতে নয় বরং রূপ নেয় চুলোচুলিতে।

বহুভূজ প্রেম:  Multi Talented প্রেমিক বা প্রেমিকাদের মধ্যে এই প্রেম দেখা যায়। যে কারণে এরকমটি হয় তা হলো ছেলে বা মেয়েটি দেখতে অনেক সুন্দর বা বাবার অনেক টাকা আছে। এ ধরনের ছেলে ও মেয়ের ভালোবাসা পেতে অনেকেই পাগল থাকে। আর সেই সব প্রেমিক প্রেমিকাদেরও একের অধিকের সাথে প্রেম করে বেড়াতে ভালো লাগে।

দুধের মাছি প্রেম/অর্থসর্বস্ব প্রেম: “যতোদিন টাকা আছে, ততোদিন সম্পর্ক” – অনেকটা এই নীতির বলে এই ধরনের প্রেম গড়ে ওঠে। অবশ্যই ছেলেরাই টাকা ব্যয় করে থাকে এসব ক্ষেত্রে। ধনীর ঘরের ছেলেদের পক্ষে এই ধরনের সম্পর্ক বেশিদিন টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়। তবে মোটামুটি আয়ের ছেলেরা খরচের ঠেলায় অল্পদিনেই হাঁপিয়ে ওঠে, সম্পর্কও আর বেশিদিন থাকেনা। তখন ঐসব মেয়েরা অন্য ছেলের খোঁজে বেরোয়।

কর্মক্ষেত্রে প্রেম: কর্মসূত্রে দু’জন মানুষের পরিচয়ের মাধ্যমে এ ধরনের প্রেম গড়ে ওঠে। উক্ত দু’জন হতে পারেন কোন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীর দু’জন কর্মকর্তা অথবা কোন প্রজেক্টে পরস্পরের পার্টনার। অফিসে নতুন জয়েন করেছেন এমন কোন মেয়ের সাথে এরূপ প্রেমের সম্পর্ক স্থাপনের জন্য অফিসের পুরুষ কর্মকর্তাদের মাঝে তাগিদ দেখা যায়। বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের প্রেম বেশি দেখা যায়।
অসমবয়সী প্রেম: এই প্রেমের ক্ষেত্রে দেখা যায় ১৫ বছরের একটি মেয়ে ৩০ বছরের একটি ছেলের প্রেমে পড়েছে। এটিকে খুব স্বাভাবিকভাবেই দেখা হয়। কিন্তু যখন একটি ১৮ বছরের ছেলে ২০ বছরের মেয়ের প্রেমে পড়বে তখনই সেটি হয়ে যাবে অসমবয়সী প্রেম। প্রথমটিকে সমাজের তেমন মাথা ব্যথা না থাকলেও দ্বিতীয়টিকে নিয়ে সমাজের যথেষ্ট মাথা ব্যথা রয়েছে।

বিয়ের আগে প্রেম: বিয়ের দিনক্ষণ সব ঠিকঠাক। আগামী এক মাস পর বিয়ে। তাই বলে হবু জামাই-বউ তো আর হাত পা গুটিয়ে বসে থাকতে পারেন না। প্রথমে মোবাইল তারপর সরাসরি রেষ্টুরেন্ট বা পার্কে চলে তাদের এই প্রেম। এতে করে বিয়ের আগেই তাদের মধ্যে এক ধরনের বোঝাপড়া তৈরি হয়।

বিবাহোত্তর প্রেম: প্রেম করে বিয়ে করার পর অনেক স্ত্রীকেই বলতে শোনা যায় এখন আর তুমি আমাকে আগের মতো ভালোবাসো না। আমাদের সমাজেও এ ধরনের মতবাদ প্রচলিত রয়েছে। তবে এর কোনো সত্যতা কেউ কখনো বের করতে পারেনি।

চড়িয়ে খাওয়া প্রেম/গাধাখাটুনি প্রেম/ঘানি টানা প্রেম:
প্রেমিক বা প্রেমিকার কাছ থেকে কোন বিশেষ সুবিধা লাভই এ ধরনের প্রেমের উদ্দেশ্য। ক্লাসের ভালো রেজাল্ট করা মেধাবী ছাত্রটি এ ক্ষেত্রে জনপ্রিয় শিকার হিসেবে পরিগণিত হয়। মেয়েদের মধ্যে এ ধরনের প্রেমের প্রচলন বেশি দেখা গেলেও ছেলেদেরকেও মাঝে মাঝে করতে দেখা যায়।

প্রেমময় প্রেম: এই প্রেমে প্রেমিক আর প্রেমিকা দু’জনেই একজন আরেকজনের দিকে প্রেমময় ভঙ্গিতে ঘন্টার পর ঘন্টা তাকিয়ে থাকেন, হাত ধরে বসে থাকেন কোন রেস্টুরেন্টের অন্ধকারাচ্ছন্ন অংশে, সারাক্ষণ I Love You বলে আর শুনেও ক্লান্তি আসে না তাদের। সারাদিন প্রেমের পর মোবাইলে ১২টার পরও কম জান না তারা।

ঝগড়াটে প্রেম: সারাক্ষণ দু’জনের মধ্যে খিটির-পিটির লেগে থাকাটা এই প্রেমের বৈশিষ্ট্য। কিছুক্ষণ হয়তো দু’জনে শান্ত থাকে, তারপর আবার কিছু না কিছু একটা নিয়ে একজন শুরু হয়ে যায়। এ ধরনের প্রেমে ঝগড়াগুলো ক্ষণস্থায়ী হয়, কিন্তু খুব ঘনঘন হয়। ঝগড়াগুলো অধিকাংশই হয় ফোনে। বন্ধুকূল সর্বদা দু’জনের ঝগড়া মিটাতে ব্যস্ত থাকে। মেয়ে তার সখীদের কাছে এই ঘনঘন ঝগড়ার কথা বলে বেড়ায়।

মোবাইল প্রেম: বন্ধুর কাছ থেকে চেয়ে নিয়ে বা ফোনবুক থেকে চুরি করে, পাড়ার ফ্লেক্সির দোকান থেকে সংগ্রহ করে, অন্য কোন সুত্র থেকে নাস্বার পেয়ে বা নিতান্তই মনের মাধুরী মিশিয়ে কোন নাম্বার বানিয়ে তাতে ফোন করে কোন মেয়ের সাথে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে এই ধরনের প্রেমের সূত্রপাত। অনেক সময় মোবাইলে এভাবে কথা বলে ছেলে মেয়ে পরস্পরের সাথে সামনাসামনি দেখা করে। এ ধরনের প্রেমের সফলতার হার খুবই কম। আসলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সফলতা এ ধরনের প্রেমের মূল উদ্দেশ্য নয়।

অসাম্প্রদায়িক প্রেম: এ ধরনের প্রেমের ক্ষেত্রে ছেলে ও মেয়ে দু’জনে দুই ধর্ম বা সম্প্রদায়ের অনুসারী হয়ে থাকে। সমাজ এ ধরনের সম্পর্ককে সমর্থন করেনা। বিশেষতঃ হিন্দু-মুসলমান ছেলে-মেয়ের মধ্যে প্রেম বেশি বিতর্কের সৃষ্টি করে।

আজো তোমায় ভালোবাসিপ্রেম: এই প্রেমে প্রেমিক-প্রেমিকার বিচ্ছেদ ঘটেছে আগেই। তবুও আজো তারা একে অপরকে ভালোবাসেন। নীরবে চেয়ে যান সেই মানুষটির সঙ্গ যার সাথে একসঙ্গে জীবন কাটাতে পরিস্থিতিই ছিলো একমাত্র ও সবচেয়ে বড় বাধা।
ব্যর্থ প্রেম:  সবশেষে আছে ব্যর্থ প্রেম। এ প্রেম শুরু হবার আগেই শেষ হয়ে যায়। ব্যর্থ প্রেমিকার চাইতে ব্যর্থ প্রেমিকের সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি। ব্যর্থ প্রেমের শেষটা হয় প্রস্তাব প্রত্যাখান দিয়ে। কখনো কখনো ছেলেদের ভাগ্যে জোটে থাপ্পড়, মেয়েদের জুতার বাড়ি আর কখনো কখনো গণধোলাই। অনেক সময়ই ব্যর্থ প্রেমের পরিণতি হয় করুন। কেউ দেবদাস হয়ে যায়, কেউবা মেয়েদের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলে ও “দুনিয়ার সব মেয়ে এক” এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়। দুর্বল মানসিকতার কেউ কেউ আত্মহননের পথও বেছে নেয়। সূত্র: ইন্টারনেট

আপনি কোন ধরনের প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছেন জানাবেন প্লিজ?

Show More

News Desk

তিস্তা নিউজের নিউজ রুম থেকে সমস্ত বিভাগসহ বাংলাদেশের সর্বশেষ সংবাদ প্রকাশ করা হয়। আপনি যদি তিস্তানিউজ ২৪.কম এ প্রকাশের জন্য আমাদের ট্রেন্ডিং নিউজ প্রেরণ করতে চান তবে আসুন এখনই আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। আপনার নিউজটি আমাদের নিউজ রুম থেকে নিউজ ডেস্ক হিসাবে প্রকাশিত হবে। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদান্তে- আব্দুল লতিফ খান, সম্পাদক মন্ডলির সভাপতি।

Related Articles

Back to top button
Close