Featured

নীলসাগর ট্রেনে যাত্রীদের চরম দূর্ভোগ ও বিড়ম্বনার শেষ নেই

তোজাম্মেল হোসেন মঞ্জু, ডোমার (নীলফামারী): চিলাহাটি ও ঢাকা ক্যান্টরম্যন্ট মধ্যে চলাচলকারী আন্তঃনগর নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনে যাত্রীদের হয়রানী চরম দূর্ভোগ ও বিড়ম্বনার শেষ নাই বলে জানা গেছে।http://tistanews24.com/wp-content/uploads/2015/12/Monju.jpg                         এই ট্রেনটি গত ২০১৪ সালের  ২৮ জানুয়ারী  চিলাহাটি-ঢাকা ক্যান্টরম্যন্ট রুটে চলাচল শুরু করে। এক বছরের মাথায় ট্রেনটিতে প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও কৃর্তপরে অবহেলার কারনে ট্রেনটি তার সুনাম হারাতে বসেছে।
গত কয়েক দিনে ট্রেনে চলাচলকারী যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের নানা দূর্ভোগ বিড়ম্বনা ও আভিযোগের কথা। ট্রেনটি ঢাকা থেকে ছাড়ার পথে টিকিটধারী যাত্রীরা যখন ট্রেনে উঠে দেখেন বিনা টিকিটের যাত্রীরা ট্রেনে উঠে তাদের সিট দখল করে আছে।
৮০ সিটের প্রতিটি চেয়ার কোচ বগিতে ১৫০ থেকে ২০০ জন সিট ও বিনা টিকিট বিহীন যাত্রীরা দাড়িয়ে আছে। তাতে টিকিটধারী যাত্রীদের চলাচল ও বসার মারাত্বক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে বলে একাধিক যাত্রী সাধারণ নিকট থেকে জানা গেছে। এইসব যাত্রী যারা দাড়িয়ে ভ্রমন করছেন, তাদের জন্য গোটা ট্রেনের যাত্রীরা অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে।
নীলসাগর ট্রেনে বউ-বাচ্চা নিয়ে ভ্রমন করা মহা বিপদ বলে জনান যাত্রী সাধারণ, কারণ সিট থেকে উঠে বাথরুমে বা অন্য কথাও যাওয়া সম্ভব নয়। কারন দুই সিটের মাঝখানে চলাচলের প্রায় ৩ ফুট রাস্তার মধ্যে কয়েক শত লোক দাড়িয়ে আছে। বাচ্চাদের প্রস্রাব পায়খানা ট্রেনের মধ্যে করতে দেখা গেছে বলে জানান যাত্রীরা।
নীলসাগর একটি উন্নত মানের এক্সপ্রেস ট্রেন এবং সব বগিগুলো  উন্নত ও সবগুলি চেয়ার কোচ। এই সব আধুনিক ও উন্নত বগীতে টয়লেটে পানি থাকে না ভিতরে লোক ঢুকে বসে থাকে। গাড়ীর বগি গুলি এত অপরিষ্কার নোংরা ও দূরগন্ধময় যাহা যাত্রীর জন্য অস্বস্তিকর। ট্রেনের এই দৃশ্য শুধু একদিনের নয় প্রতি দিনের। এরপরও গাড়ীর ভিতরে চলছে চরম দূর্নীতি, গাড়ীর টিটি, এ্যাটেন্ডেন্ট, জিআরপি ও নিরাপত্তা বাহিনী যাত্রীদের সুযোগ সুবিধা না দেখে বিনা টিকিটে ভ্রমন করা যাত্রীদের নিকট থেকে উৎকোচ গ্রহন করা নিয়ে ব্যাস্ত। ট্রেনটি যখন গত ২৮ জানুয়ারী চালু হয় তখন যাত্রীদের কয়েক মাস কোন অভিযোগ ছিল না, কিন্তু এখন যাত্রীদের হাজারো অভিযোগ। নীলসাগর ট্রেন খানি এখন  মফিজ ট্রেন নামে পরিচিত। ৪৬০ টাকা টিকিট কেটে একজন যাত্রী ট্রেনে উঠতে পারে না,কোন রকমে উঠতে পারলেও সিট নিয়ে সমস্যা হয় আর সিট পেলেও সে কমপে ৫/৬ ঘন্টা নড়া চোড়া তো দূরের কথা বাথরুমে যেতে পারে না একজন যাত্রী। ট্রেনের যাত্রীর যদি এই অবস্থায় হয় তাহলে মানুষ কিভাবে ট্রেনে চলাচল করবে?
এ ব্যপারে ডি টি ও পাকশির সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ট্রেনের সমস্যা সম্পর্কে আমরা জানি, তবে এগুলো দেখার দায়িত্ব বাণিজ্যিক কর্মকর্তার, তারপারও আমি ব্যাপারগুলো দেখবো।
ট্রেনটিতে যাত্রা করে জানা যায়, নীলসাগর ট্রেন খানি ৭ টি বগি নিয়ে চলাচল করছে, অথচ এই গাড়ীতে ১০/১২ টি বগির  যাত্রীরা চলাচল করে থাকে। যারা টিকিট কেটে দাড়িয়ে ভ্রমন করে তারাও কষ্ট পায় আর যারা সিট নিয়ে ভ্রমন করে তারও কষ্ট পায়। টয়লেটের চাপ নিয়ে কেউ যেন নীলসাগর ট্রেনে না উঠে। ঢাকা থেকে নাটোর সান্তাহার জয়পুরহাট সেয়দপুর নীলফামারী চিলাহাটি পর্যন্ত ১০ টাকা থেকে ১০০ টাকা পর্র্যন্ত নিয়ে টিটি,এ্যাটেন্ডেন্ট,জিআরপি ও নিরাপত্তা বাহিনীরা অবৈধ ভাবে যাত্রীদের ভ্রমন করার সুযোগ করে দেন। নীলসাগর চেয়ারকোচ বগি গুলিতে যাত্রীদের জন্য কোন সুযোগ সুবিধা নেই। যাত্রী ট্রেনে উঠার সময় যে কষ্ট পায় তা নজির বিহীন, পাড়াপাড়ী ও ধাক্কাধাক্কী করে ট্রেনে উঠতে হয়। কোন রকমে ট্রেনে উঠতে পারলে সিটে যেতে সময় লাগে ২০ থেকে ৩০ মিনিট আর সিটে বসতে পারলেই ৫/৬ ঘন্টা ধরে নড়াচড়া করার কোন সুযোগ নেই। এই হচ্ছে ঢাকা চিলহাটি চলাচলকারি নীলসাগর ট্রেনের অবস্থ।

Show More

News Desk

তিস্তা নিউজের নিউজ রুম থেকে সমস্ত বিভাগসহ বাংলাদেশের সর্বশেষ সংবাদ প্রকাশ করা হয়। আপনি যদি তিস্তানিউজ ২৪.কম এ প্রকাশের জন্য আমাদের ট্রেন্ডিং নিউজ প্রেরণ করতে চান তবে আসুন এখনই আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। আপনার নিউজটি আমাদের নিউজ রুম থেকে নিউজ ডেস্ক হিসাবে প্রকাশিত হবে। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদান্তে- আব্দুল লতিফ খান, সম্পাদক মন্ডলির সভাপতি।

Related Articles

Back to top button
Close