সারাদেশ

বাগাতিপাড়ায় কোয়েল পালনের শখ থেকে স্বাবলম্বী সজিব

আব্দুল আওয়াল,বাগাতিপাড়া,নাটোর : কৃষক পরিবারের সন্তান সজিব আহমেদ। পড়াশোনা করেন স্নাতক পর্যন্ত। ছোটবেলা থেকেই আত্মপ্রত্যয়ী হওয়ায় আত্মনির্ভরশীল হওয়ারও স্বপ্ন ছিলো তাঁর। কম্পিউটার অনলাইনে ফিল্যান্সার হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। সেই অনলাইনে কাজ করতে গিয়েই কয়েল পালনের একটি প্রতিবেদন দেখে শখ হয় তাঁর। সেই শখই ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হওয়ার মাধ্যম হয়ে উঠে। সেখান থেকে বছরে প্রায় দুই লাখ টাকা আয়ের পাশাপাশি দিনদিন খামারের প্রসারও ঘটছে তাঁর। আর এই কোয়েল পাখি পালন করে পরিবারের সচ্ছলতাও এনেছেন সজিব আহমেদ। এখন তাঁকে অনুসরন করে এলাকার বেকার যুবকরাও উদ্যোক্তা হওয়ার চেষ্টা শুরু করেছেন।

জানা যায়, নাটোরে বাগাতিপাড়ার জামনগর ইউনিয়নের কৈপুকুরিয়া গ্রামের আবুল হাশেমের ছেলে সজিব আহমেদ। প্রায় চার বছর ধরে গ্রামে তাঁর বাড়ি থেকে একটু দুরে নিজস্ব আম বাগানে ‘সজিব এগ্রো’ নামের একটি খামার করে কোয়েল পাখি পালন করছেন। প্রথমে তিন হাজার টাকা মূলধন নিয়ে ১’শ ৭০টি কোয়েল পাখির বাচ্চা কিনেছিলেন। কিছুদিন পরে সেগুলো ডিম দিতে শুরু করলে সেই ডিম থেকে বাচ্চা ফুটানোর ভাবনা আসে তাঁর মাথায়। পরবর্তিতে কারিগরি দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি নিজেই মাত্র ২৫ হাজার টাকা খরচ করে ম্যালামাইন বোর্ড, ফ্যান (বৈদ্যুতিক পাখা), বৈদ্যুতিক বাল্ব, ডিম রাখার ট্রে এবং কন্ট্রোলার ব্যবহার করে একটি ইনকিউবেটর (ডিম ফোটানো যন্ত্র) তৈরি করেন। তাঁর তৈরি ইনকিউবেটরে নিজ খামারের ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানো শুরু করেন। প্রথম দিকে ইনকিউবেটর পরিচালনায় একটু সমস্যা হলেও পরবর্তিতে তা ঠিক হয়ে যায়। এখন বাচ্চা ফোটার হারও সন্তোষজনক। ফলে দ্রুত খামারের প্রসার ঘটতে থাকে। বর্তমানে তাঁর খামারে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোয়েল পাখি আছে। প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার কোয়েল পাখি ডিম দিচ্ছে এবং আড়াই হাজার পাখি মাংসের জন্য পালন করা হচ্ছে। সজিব এবং তাঁর বাবা মিলে এই খামারের সবকিছু দেখাশোনা করে থাকেন।

আরও জানা যায়, প্রতি মাসে তাঁর নিজের তৈরি ইনকিউবেটরে প্রায় ১০ হাজার বাচ্চা ফোটানো হয়। আর এসকল উৎপাদিত ডিম ও বাচ্চাগুলো ঢাকা, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করে থাকেন। খামারে উৎপাদিত প্রতিটি ডিম দুই টাকা,একদিন বয়সের প্রতিটি বাচ্চা ৬ থেকে ৭ টাকা, একমাস বয়সী মানুষের খাবার যোগ্য প্রতিটি পাখি ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং ডিম পাড়ার উপযোগি প্রতিটি কোয়েল পাখি ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রয় করা হয়। তবে চাহিদার উপর ভিত্তি করে দাম কমবেশি হয়ে থাকে।
সজিব আহমেদ জানান, প্রায় চার বছর আগে শখের বশে কোয়েল পালন শুরু করেন এবং এতে ব্যাপক সফলতা পান তিনি। বর্তমানে এই কোয়েল পাখি নিয়ে চলছে তাঁর বাণিজ্যিক অগ্রযাত্রা। ভবিষ্যতে এই ব্যবসার আরও প্রসার ঘটাতে চান তিনি। তিনি আরও জানান, একটি কোয়েল পাখি দুই মাস বয়সে প্রথম ডিম দিতে শুরু করে এবং বছরে ২’শ৫০ থেকে ৩’শ টি ডিম দিয়ে থাকে। প্রতিটি ডিমের ওজন ১০ থেকে ১২ গ্রাম হয়।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এবিএম আলমগীর হোসেন বলেন, সজিব আহমেদ কোয়েল পাখির খামার দিয়ে এলাকায় অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। হাঁস-মুরগির মতো কোয়েল পাখি পালন করে অনেকেই এখন স্বাবলম্বী। এ ছাড়াও কোয়েল পাখির রোগব্যাধি কম, দেখতে সুন্দর, মাংস খেতে খুবই সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর হওয়ায় মানুষের মাঝে দিন দিন এর চাহিদাও বাড়ছে।

Show More

News Desk

তিস্তা নিউজের নিউজ রুম থেকে সমস্ত বিভাগসহ বাংলাদেশের সর্বশেষ সংবাদ প্রকাশ করা হয়। আপনি যদি তিস্তানিউজ ২৪.কম এ প্রকাশের জন্য আমাদের ট্রেন্ডিং নিউজ প্রেরণ করতে চান তবে আসুন এখনই আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। আপনার নিউজটি আমাদের নিউজ রুম থেকে নিউজ ডেস্ক হিসাবে প্রকাশিত হবে। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদান্তে- আব্দুল লতিফ খান, সম্পাদক মন্ডলির সভাপতি।

Related Articles

Back to top button
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker