সারাদেশ

বাগাতিপাড়ায় পাঁচ লেভেল ক্রসিং অরক্ষিত ॥ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল

মোঃ আব্দুল আওয়াল,বাগাতিপাড়া (নাটোর) সংবাদদাতা: নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার রেলপথে ১০টি লেভেল ক্রসিংয়ের মধ্যে পাঁচটি অরক্ষিত। এসব রেলগেটগুলোতে গেটম্যান নেই। আবার কোনো নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থাও রাখা হয়নি। ফলে ওইসব উন্মুক্ত রেলগেট দিয়ে যানবাহন, সাধারণ মানুষ এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। মাঝে মধ্যেই ঘটছে প্রাণহানী। অরক্ষিত এসব লেভেল ক্রসিংগুলো হলো মাড়িয়া নিংটিপাড়া, মাড়িয়া, হাড়ডাঙ্গী, মালিগাছা ও গাঁওপাড়া। রেলগেটের সবগুলোই ঝুঁকিপূর্ন।
জানা গেছে, উপজেলার সীমানার মধ্যে মালঞ্চি ও লোকমানপুর নামের দুটি রেল স্টেশন রয়েছে। যার মাঝ বরাবর আব্দুলপুর হতে পার্বতিপুর অভিমুখে মালঞ্চি স্টেশনের দুই পাশের ৫টি লেভেল ক্রসিং রয়েছে। যার সবকটিতেই অনুমোদিত গেটম্যান রয়েছে। অপরদিকে আব্দুলপুর হতে রাজশাহী অভিমুখে লোকমানপুর স্টেশনের দুই পাশের ৫টি লেভেল ক্রসিংয়ের সবগুলোই উন্মুক্ত এবং অরক্ষিত।
ওই সব রেলগেট ঘুরে দেখা গেছে, যানবাহন এবং লোকজনসহ ওইসব পথে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।
রেলগেট সংলগ্ন এলাকাবাসীরা জানান, প্রায় ৫ বছর পূর্বে ইয়াছিনপুর রেলগেট পারাপারের সময় ট্রেনের ধাক্কায় ভুটভুটির দুর্ঘটনায় নববধুসহ ৪ জন নিহত হয়। যা দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। যার এক বছর পরে আব্দুলপুর হতে পার্বতিপুর অভিমুখে উপজেলার স্বরূপপুর, ঠেঙ্গামারা, ইয়াছিনপুর ও বড়পুকুরিয়া এই চারটি লেভেল ক্রসিংয়ে গেটম্যান নিয়োগ করা হয়। ফলস্বরুপ গত চার বছরে এই ৫টি লেভেল ক্রসিংয়ে কোনোপ্রকার দূর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
আপরদিকে, আব্দুলপুর হতে রাজশাহী অভিমুখে উপজেলার ৫টি লেভেল ক্রসিংয়ের সবগুলোই উন্মুক্ত থাকায় মাঝে মধ্যেই ঘটছে দূর্ঘটনা। মাড়িয়া নিংটিপাড়া রেলগেটে চিথলিয়া গ্রামের ফজিলা নামের এক গৃহবধু কাটা পড়েন। মাড়িয়া রেলগেটে গরু নিয়ে পারাপারের সময় ধাক্কায় মকছেদ নামের এক কৃষকসহ ওই রেলগেটে কয়েক বছরে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে প্রায় আট থেকে নয়জন জন নিহত হয়েছে। সর্বশেষ গত ১৩ জুলাই অজ্ঞাত ব্যক্তি এই গেটে কাটা পড়েন। এর দুইদিন আগে আইয়ুব আলী নামের একজন ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যান। এছাড়াও হাড়ডাঙ্গী রেলগেট সংলগ্ন চা দোকানদার জমসেদ আলী জানান, বছর দুয়েক পূর্বে তার চোখের সামনে পারাপারের সময় এক ট্রলি চলন্ত ট্রেনের ধাক্কা খায়। তাতে থাকা চালকসহ অন্যরা ছিটকে পড়েন। এতে মৃত কুরবান আলী সরকারে ছেলে আব্দুল খালেক সরকার নামের একজন মারা যান। তাছাড়াও ওই গেটে প্রায় প্রতিবছরই যানবাহনসহ পথচারীরা দুর্ঘটনার শিকার হন। এছাড়াও এসব রেলগেট পারাপারের সময় নসিমন, খাবারের গাড়ি, সাংবাদিকদের মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন যান রেলের ধাক্কা খেয়েও বড় ধরনের প্রাণহানি থেকে রক্ষা পাওয়ার তথ্য মিলেছে। স্থানীয়রা আরও জানান, গুরুত্বপূর্ণ এসব রেলগেটে নিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় তাদের ঝুঁকি নিয়েই পারাপার হতে হচ্ছে। অটো চালক জহুরুল ইসলাম জানান, রাতে ট্রেনের আলো দেখে ওইসব রেলগেটের ওপর দিয়ে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে হয়। কিন্তু দিনে ট্রেন আসছে কিনা তা বোঝা যায় না। ফলে রেলগেটে গাড়ি থামিয়ে দু’পাশ দেখে পারাপার হতে হয়। এরপরও রেল কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয় না।
এব্যাপারে নাটোর রেলস্টেশন মাস্টার অশোক কুমার চক্রবর্তী বলেন, রেলের গেটের একটি তালিকার বই রেল দপ্তরের কাছে রয়েছে। ওই রেলগেটগুলো সেই তালিকায় অন্তর্ভূক্ত কিনা যাচাই করে দেখে তিনি উর্দ্ধতন বরাবর জানাবেন। তবে পায়ে হাঁটা বা অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বের গেটগুলোতে রেলের পক্ষ থেকে নিজ দায়িত্বে সতর্কতার সাথে পারাপারের ব্যপারে সাইনবোর্ড দেয়া আছে।

Show More

News Desk

তিস্তা নিউজের নিউজ রুম থেকে সমস্ত বিভাগসহ বাংলাদেশের সর্বশেষ সংবাদ প্রকাশ করা হয়। আপনি যদি তিস্তানিউজ ২৪.কম এ প্রকাশের জন্য আমাদের ট্রেন্ডিং নিউজ প্রেরণ করতে চান তবে আসুন এখনই আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। আপনার নিউজটি আমাদের নিউজ রুম থেকে নিউজ ডেস্ক হিসাবে প্রকাশিত হবে। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদান্তে- আব্দুল লতিফ খান, সম্পাদক মন্ডলির সভাপতি।

Related Articles

Back to top button
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker