সারাদেশ

বাগাতিপাড়ায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ‘নাগপুরী’ কমলা লেবু চাষে সফলতা

মোঃ আব্দুল আওয়াল ,বাগাতিপাড়া (নাটোর) সংবাদদাতা: নাটোরের বাগাতিপাড়ায় কৃষক সাজেদুর রহমান আড়াই বিঘা জমিতে সমতল ভূমিতেই গড়ে তুলেছেন ‘নাগপুরী’ জাতের কমলা লেবুর বাগান। উপজেলার রহিমানপুর গ্রামে তিনি নিজ উদ্যোগে বাণিজ্যিকভাবে এ বিদেশী ফলের বাগান করে পেয়েছেন সফলতা । ভরা মৌসুমে গাছে গাছে ঝুলছে কমলা। ফলের ভারে নুব্জ হয়ে গেছে এক একটি গাছ। প্রত্যেক গাছে ১৫ থেকে ২০ কেজি কমলা শোভা পাচ্ছে। তার এ সফলতায় উপজেলার অনেক কৃষকই এখন কমলা লেবু চাষে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন।
এ বছর অক্টোবর মাস থেকে কমলা বিক্রি শুরু করেছেন সাজেদুর, চলবে ডিসেম্বর-জানুয়ারি পর্যন্ত। চলতি মৌসুমে অন্তত ৮০ থেকে ১০০ মণ কমলা বিক্রি করবেন বলে আশা করছেন সাজেদুর-যার বাজার মূল্য প্রায় সোয়াদুই থেকে আড়াই লাখ টাকা। এর আগে গত বছর তিনি এক লাখ ৩৫ হাজার টাকার কমলা বিক্রয় করেছেন।
সাজেদুর রহমানের বাগানে এখন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের সমাগম। নাটোরের আব্দুলপুর থেকে আসা ফল ব্যবসায়ী মাসুদ রানা বলেন, আমি এ বাগান থেকে তিন-চার দিন পর পর পাঁচ থেকে ছয় মণ করে কমলা কিনছি। অপর ক্রেতা নাটোর ষ্টেশন বাজার এলাকার ফল ব্যবসায়ী সেন্টু আলী জানালেন, এখানকার উৎপাদিত কমলার উপরে সবুজ ও হলুদের মিশ্রণ এবং ভেতরে খানিকটা সাদাটে। বাগান থেকে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা কেজি দরে কিনে বিক্রি করি ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে।
সাজেদুর কমলা লেবুর চাষ শুরু করেন চার বছর আগে। বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার উত্তরে প্রতি বছর ৩০ হাজার টাকা হিসেবে ১০ বছরে তিন লাখ টাকা নগদ দিয়ে ইজারা নেয়া আড়াই বিঘা জমিতে উপজেলা তথা জেলার প্রথম চাষি হিসেবে তিনি কমলা লেবুর বাগান করেন। দিনাজপুর থেকে আনা আড়াই’শ কমলার চারা দেড় বছরের মাথায় ফল দিতে শুরু করে। আট থেকে দশ ফুট উচ্চতার কমলা গাছের পরিচর্যায় তেমন কোন বেগ পেতে হয় না। দশ থেকে পনের বছর ধরে একটানা ফল দেয় এক একটি গাছ।
উৎপাদিত কমলার স্বাদ সম্পর্কে স্থানীয়রা জানান, মিষ্টির সাথে একটুখানি টকের মিশ্রণ বাগাতিপাড়ায় উৎপাদিত কমলাকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট এনে দিয়েছে। পাহাড়ের কমলা এখন সমতলে চাষ হচ্ছে এবং এর স্বাদ বাজারের প্রচলিত কমলার প্রায় কাছাকাছি। তাছাড়া ইতিহাস ঐতিহ্যে নাটোরের পরিচিতিতে কমলা আরও এক নতুন মাত্রা যুক্ত করবে।
উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে বাতাবী লেবুর গাছের ডালের সাথে কমলা লেবুর গাছের ডাল গ্রাফটিং করে কমলা লেবুর চারা তৈরি করছেন তিনি। এবং আকার ভেদে প্রতিটি চারা এক’শ থেকে দুই’শ টাকায় বিক্রয় করছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোমরেজ আলী বলেন, অর্গানিক কমলা উৎপাদন এবং প্রচারনার মাধ্যমে বাজার সম্প্রসারণে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে কৃষি বিভাগ। এ উপজেলায় ইতোপূর্বে মাল্টা চাষে সফলতার পথ ধরে এবার কমলা চাষেও সফলতা এসেছে বলে মনে করেন এ কৃষিবিদ। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন অপ্রচলিত ফল ও ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে বৈচিত্র্যময় হয়ে উঠছে বাগাতিপাড়ার কৃষি। কমলা চাষের পরিধি বাড়াতে কৃষি বিভাগ সব রকমের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

Show More

News Desk

তিস্তা নিউজের নিউজ রুম থেকে সমস্ত বিভাগসহ বাংলাদেশের সর্বশেষ সংবাদ প্রকাশ করা হয়। আপনি যদি তিস্তানিউজ ২৪.কম এ প্রকাশের জন্য আমাদের ট্রেন্ডিং নিউজ প্রেরণ করতে চান তবে আসুন এখনই আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। আপনার নিউজটি আমাদের নিউজ রুম থেকে নিউজ ডেস্ক হিসাবে প্রকাশিত হবে। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদান্তে- আব্দুল লতিফ খান, সম্পাদক মন্ডলির সভাপতি।

Related Articles

Back to top button
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker