খেলাধুলা

বিএসএফ-বিজিবি ভলিবলঃ চোখের দেখাতেই শান্তি দুই বাংলার মানুষের

http://tistanews24.com/wp-content/uploads/2015/11/image.jpgতিস্তা নিউজ ডেস্ক : দু’পার বাংলা এক হয়ে গেল ভলিবল মাঠে। দু’পারের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর জওয়ানেরা একে অপরকে বরণ করে নিল ফুল মিষ্টি দিয়েই।

বুধবার গোয়ালপোখর থানার কোকরাদহ সীমান্ত এলাকাতে কাঁটাতারের কাছে ওই বিশেষ মুহূর্তের সাক্ষী রয়ে গেলেন দুই বাংলার কয়েক হাজার মানুষ। দুই দেশের প্রীতি ভলিবল ম্যাচ এদিন দুই বাংলার মানুষকে এক করে দিল। তবে দুই বাংলার পক্ষ থেকে ভ্রাতৃত্ব বোধও বজায় থাকবে বলে জানিয়েছেন দুই বাংলার সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর আধিকারিকেরা।

এ দিন বিকেল প্রায় সাড়ে ৪ টা নাগাদ গোয়ালপোখর থানার কোকড়াদহ সীমান্ত এলাকাতে ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জওয়ানদের ভলিবল ম্যাচটি হয়। ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশের কয়েক শতাধিক লোকও সেই খেলা দেখতে উপস্থিত ছিলেন। তবে দুই দেশের যাতে পারাপার না হয়ে যেতে পারে সেই দিকে অবশ্য সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নজরদারি ছিল অনেক বেশি। তবে তার মধ্যে নিজেদের আত্মীয়দের এক ঝলক দেখার সুযোগ পেয়েছেন অনেকেই। বাংলাদেশের রানিশঙ্কর থানার বাসিন্দা মহম্মদ সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘‘প্রায় ১৫ কিলোমিটার এসেছি। নিজের আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা ছিল। দূর থেকেই দেখা হল। কেবল দেখে হাতই নাড়লাম।’’

 এ দিন চারটি ভলিবল ম্যাচ হয়। তিনটিতে জয়লাভ করে বিএসএফ-এর জওয়ানেরা। একটিতে বিজিবির জওয়ানেরা। খেলায় বাংলাদেশকে বেশ চাপের মধ্যে রেখেছিলেন ভারতীয়রা। যদিও ম্যাচ জিততে না পেরেও এতটুকু দুঃখ নেই বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ দলের  অধিনায়ক সইদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘‘দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব আরও বাড়ুক সেটাই আমরা চাই। এদেশে খেলতে এসে ভালই লাগল। ভবিষ্যতে আবার সুযোগ দিলে আবার আসব।’’

তবে এ পারের লোকেদের মধ্যে নিজেদের দল জেতার উল্লাসও ছিল চোখে পড়ার মতো। কাঁটাতারের ওপারে বেরিয়ে গিয়েও পুরষ্কার বিতরণ কাঁটাতারের ওপার থেকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিলেন প্রত্যেকে। ভারতীয় দলের অধিনায়ক তথা কোকরদহ সীমান্তের এক জওয়ান কৃষ্ণকুমার বলেন, ‘‘বেশ ভালই লাগল এ ধরনের একটি খেলা খেলতে পেরে। আশা করছি ওই দেশও খেলার আয়োজন করলে আমরা ডাক পাব। দুই দেশের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বোধ অনেক বেড়ে যাবে।’’

এদিন বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের ৩০ নম্বর ব্যাটেলিয়ানের লেফ্টেন্যান্ট কর্নেল তুষার বিন ইউনুস। তিনি বলেন, ‘‘দুই দেশের মধ্যে সৌভ্রাতৃত্ব বোধ বজায় থাকবে সব সময়।’’ ১২১ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট দিবাকর কুমার বলেন, ‘‘দুই পারের মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব থাকবে। দুই পারের সীমান্ত এলাকার মানুষদের মধ্যে ভাল একটি বার্তা পৌঁছাবে এর মাধ্যমে।’’

তথ্যসূত্র: দৈনিক আনন্দ বাজার পত্রিকা

Show More

News Desk

তিস্তা নিউজের নিউজ রুম থেকে সমস্ত বিভাগসহ বাংলাদেশের সর্বশেষ সংবাদ প্রকাশ করা হয়। আপনি যদি তিস্তানিউজ ২৪.কম এ প্রকাশের জন্য আমাদের ট্রেন্ডিং নিউজ প্রেরণ করতে চান তবে আসুন এখনই আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। আপনার নিউজটি আমাদের নিউজ রুম থেকে নিউজ ডেস্ক হিসাবে প্রকাশিত হবে। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদান্তে- আব্দুল লতিফ খান, সম্পাদক মন্ডলির সভাপতি।

Related Articles

Back to top button
Close