সারাদেশ

বোদায় আইপিএল জুয়ায় ধ্বংসের মুখে যুব সমাজ

বোদায় আইপিএল জুয়ায় ধ্বংসের মুখে যুব সমাজমোঃ মোফাজ্জল হোসেন বিপুল, বোদা (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি:  পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার প্রতিটি পাড়া মহল্লা, খেলার মাঠে, হাট বাজারে এমনকি গ্রামগঞ্জের প্রতিটি চায়ের দোকানে আইপিএল ক্রিকেট খেলা নিয়ে বাজির নামে চলছে জুয়ার জমজমাট আসর।

দুর্বল টিমের সঙ্গে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের খেলা থাকলে সে ক্ষেত্রে দেয়া হচ্ছে লোভনীয় অফার। আইপিএল ঘিরে চলছে বাজিকরদের রমরমা বাজি। এক ম্যাচের পাওয়ার প্লেতে কত রান হবে! ৫-১০ ওভারে কত রান হবে! খেলায় কে কতটি উইকেট পাবে! কে কত রান করবে ইত্যাদি  বাজিতে মেতে উঠে ক্রীকেট জুয়াড়ীরা।

বিশ্লেষকদের মতে, আমাদের দেশে ক্রীড়াবাজির আবির্ভাব ঘটেছে পার্শ্ববর্তী দু’দেশ ভারত ও পাকিস্থান থেকে। যা গ্রাম বাংলার আনাচে কানাচে ছড়িয়ে পড়েছে। চলমান আইপিএলকে ঘিরে চলছে ধুম-ধামাক্কা জুয়ার আসর। টেলিভিশনের সামনে বসে খেলা দেখা দর্শকদের মাঝে চলে দর কষাকষি। ১৫-২৮ বছর বয়সীরাই ক্রিকেট জুয়ায় মেতে উঠছে বেশী। জুয়াড়ীদের এই নতুন ধান্ধায় মেতে উঠেছে উপজেলার অভিজাত এলাকাগুলো। ধনীর দুলালরা বাজি ধরেন মোবাইলের মাধ্যমে ক্ষুদে মেসেস বার্তা দিয়ে। তাদের বাজি ধরার ধরন ভিন্ন এবং বড় বাজেট।

মোবাইল ফোনের বড় বাজির ধরার কথাগুলো রেকর্ড করে রাখে। বিভিন্ন মোড়ের দোকানগুলোতে প্রকাশ্যে চলে এই ক্রিকেট বাজি। দলগত হার-জিত নির্ধারণ বাজির পাশাপাশি চলে ওভার বা বল বাই বল বাজি। বিশেষ করে বোদা বাজারের স্বর্ণকার, জেলা পরিষদ মার্কেট, নিউ মার্কেট ও এলাহী মার্কেটের ব্যবসায়িরা এতে মেতেছেন বেশি।

এছাড়াও খেলা শুরুর পূর্বে উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে বসে বাজিকরদের হাট। এ দেখে নতুন প্রজন্মের অনেকেই বাজি ধরে সর্বস্ব হারিয়ে মাদক সেবনে জড়িয়ে পড়ছে। নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক এক জুয়া/বাজীকরদের মাধ্যম জানান, প্রতিটি খেলায় আমার মাধ্যমে নূন্যতম ৫ লক্ষ টাকার বাজি ধরা হয়। প্রতিদিন আমার আয় ১০ হাজার টাকা। আর এ টাকায় আমার সাথে আরো ১০ জন কাজ করছে। তাদের কাজ হচ্ছে নতুন প্রজন্মের ছেলেদের উৎসাহিত করা।

এ বিষয়ে বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় ঘুরে আরো জানা যায়, মহল্লার কিছু দোকান মালিকরা বাজিকরদের মাধ্যম হিসেবে টাকা জমা, আদান প্রদানসহ বাজি ধরার জুয়াড়ী ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। আজকাল একটু খেয়াল করলেই দেখা যায়, যখন কোন খেলা চলে বিশেষ করে টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট ম্যাচ হলে জটলা বেধে যায় মোড়ের দোকান গুলোতে।

বোদা থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ জানান, বিষয়টি এর আগেও শুনিছি। পুলিশের পক্ষে গোয়েন্দা নজরদারী সহ বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে এব্যাপারে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। প্রশাসন ক্রিকেট বাজিকরদের দমন করলে হয়ত কিছুটা বাজি বন্ধ করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন সচেতন মহল। সমাজের সকল অপকর্ম থেকে রেহাই পেতে অভিভাবকদের দৃঢ় সচেতনতার পাশাপাশি সামাজিক প্রশাসনিক গোয়েন্দা নজরদারি খুবই জরুরী হয়ে পড়েছে বলে সুধিসমাজের অভিমত।

মোঃ মোফাজ্জল হোসেন বিপুল
প্রতিনিধি, বোদা, পঞ্চগড়।
মোবাঃ ০১৭১৮৬২৭৭৭৫
তাং ০২/০৫/২০১৬ ইং

Show More

News Desk

তিস্তা নিউজের নিউজ রুম থেকে সমস্ত বিভাগসহ বাংলাদেশের সর্বশেষ সংবাদ প্রকাশ করা হয়। আপনি যদি তিস্তানিউজ ২৪.কম এ প্রকাশের জন্য আমাদের ট্রেন্ডিং নিউজ প্রেরণ করতে চান তবে আসুন এখনই আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। আপনার নিউজটি আমাদের নিউজ রুম থেকে নিউজ ডেস্ক হিসাবে প্রকাশিত হবে। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদান্তে- আব্দুল লতিফ খান, সম্পাদক মন্ডলির সভাপতি।

Related Articles

Back to top button
Close