Featured

ভারতে ৭৮ হাজার ভিক্ষুক দ্বাদশ শ্রেণি থেকে স্নাতকোত্তর পাস

http://tistanews24.com/wp-content/uploads/2015/12/31-12.jpgতিস্তা নিউজ ডেস্ক : ভারতে আদমশুমারি রিপোর্ট অনুযায়ী ৩ লাখ ৭২ হাজার ভিক্ষুক রয়েছেন। এদের মধ্যে ৭৫ হাজারের যোগ্যতা দ্বাদশ শ্রেণি পাস এবং ৩ হাজারের বেশি ভিখারীর রয়েছে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর এমনকি কারো কারো কারিগরি শিক্ষায় ডিপ্লোমা ডিগ্রিও রয়েছে। অর্থাৎ মোট ভিখারির ২১ শতাংশই লেখাপড়া জানা মানুষ।

২০১১ সালের আদমশুমারি রিপোর্টের ভিত্তিতে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। সূত্রে প্রকাশ, লেখাপড়া শেখার পরও তারা সন্তোষজনক চাকরি না পাওয়াতেই ভিক্ষাবৃত্তির পথ বেছে নিয়েছে।

আহমদাবাদের ভদ্রকালী মন্দিরে ৩০ জনের একটি গ্রুপে ভিক্ষা করা ৪৫ বছর বয়সী দ্বাদশ শ্রেণি পাস দীনেশ খোধাবাই জানান, ‘এখানে প্রতিদিন ২০০ টাকার বেশি রোজগার করে থাকি যেটি আমার শেষ কাজের চেয়ে বেশি উপার্জন। এর আগে একটি হাসপাতালে ওয়ার্ড বয় হিসেবে কাজ করতাম, সেখান থেকে মাত্র দৈনিক ১০০ টাকা উপার্জন হতো।’ অনর্গল ইংরেজিতে কথা বলা ওই ব্যক্তি জানান, আমি গরীব হতে পারি কিন্তু আমি সৎ।

৫২ বছর বয়সী স্নাতক বাণিজ্য বিভাগে তৃতীয় বর্ষ পর্যন্ত পড়া সুধীর বাবুলাল দৈনিক ১৫০ টাকা রোজগার করে থাকেন। আহমদাবাদের বীজাপুরের বাসিন্দা সুধীর জানান, ভালো কাজের সন্ধানে থেকে দৈনিক ১০ ঘণ্টা খেটে মাসে মাত্র ৩ হাজার টাকা উপায় হতো। তার স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যাওয়ায় এখন ভিক্ষাবৃত্তির পথ বেছে নিয়েছেন তিনি।

গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম. কম করা ৫২ বছর বয়সী দশরথ সরকারি চাকরি পাওয়ার প্রস্তুতির জন্য বেসরকারি চাকরি ছেড়ে দিলেও জোটেনি কাঙ্ক্ষিত চাকরি। তিনি এখন বিনামুল্যে বিলি করা খাবার খেয়ে এবং মানুষের দান করা টাকার ওপর জীবন ধারণ করছেন। তিন সন্তানের বাবা ওই ব্যক্তির মা বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

ভিখারীদের নিয়ে কাজ করা মানব সাধনা এনজিও’র সঙ্গে যুক্ত বীরেন যোশী বলেন, ভিক্ষুকদের পুনর্বাসন খুব সমস্যার ব্যাপার। কারণ এরা খুব সহজেই টাকা পেয়ে যায়। এর প্রলোভনে তারা ভিক্ষাবৃত্তি ছাড়তে পারে না। সমাজতত্ত্ববিদ গৌরাঙ্গের মতে ডিগ্রি প্রাপ্ত হওয়ার পরেও লোকেরা ভিক্ষা করছে এতে দেশের বেকারত্ব পরিস্থিতিই প্রতিফলিত হচ্ছে।

দেশে উপার্জনের পরিস্থিতি এমনই অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে যে সামান্য চাপরাসি পদে চাকরির জন্যও পিএইচডি এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিপ্রাপ্ত লোকেরাও আবেদন জানাচ্ছে।

ভিখারীরা অবশ্য নিজেদের জন্য বিহারের গয়া জেলায় সম্প্রতি একটি ব্যাংক তৈরি করেছেন। এই ব্যাঙ্কের গ্রাহক হতে পারবেন কেবল ভিখারিরাই। তারা নিজেরাই পরিচালনা করে থাকেন এই ব্যাংক। দুঃসময়ে আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিনব এই ব্যাংক তৈরি করা হয়েছে।সূত্র: রেডিও তেহরান

Show More

News Desk

তিস্তা নিউজের নিউজ রুম থেকে সমস্ত বিভাগসহ বাংলাদেশের সর্বশেষ সংবাদ প্রকাশ করা হয়। আপনি যদি তিস্তানিউজ ২৪.কম এ প্রকাশের জন্য আমাদের ট্রেন্ডিং নিউজ প্রেরণ করতে চান তবে আসুন এখনই আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। আপনার নিউজটি আমাদের নিউজ রুম থেকে নিউজ ডেস্ক হিসাবে প্রকাশিত হবে। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদান্তে- আব্দুল লতিফ খান, সম্পাদক মন্ডলির সভাপতি।

Related Articles

Back to top button
Close