বৃহত্তর রংপুর

লালমনিরহাটের পাটগ্রামে বিধবার জমি দখলের অপচেষ্টা

প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

আমিনুর রহমান বাবুল,পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) সংবাদদাতা: লালমনিরহাটের পাটগ্রাম পৌরসভার দক্ষিন কোটতলী মৌজার বিধবা লতিফা বেওয়ার (৫০) স্বামীর ওয়ারিশ সুত্রে পাওয়া বসতভিটার জমি ভুয়া দলিল করে জবর দখলের অপচেষ্টা করছে স্থানীয় প্রভাবশালী এক নেতা, এমন অভিযোগ তুলে গত রোববার প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি। শনিবার সকালে ভাড়াটে লোকজন দিয়ে জমি জবরদখল করার চেষ্টা করা হয়। এ সময় এলাকাবাসী এগিয়ে এলে তারা পিছু হটে। তবে আবার যেকোন মুহুর্তে জবর দখল হতে পারে এই শঙ্কায় রয়েছেন লতিফা ও তার পরিবার।

সংবাদ সম্মেলনে লতিফা বেওয়া স্বাক্ষরিত লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার ছোট মেয়ে সুমাইয়া আক্তার সুমি। এ সময় লতিফা বেওয়া কান্নায় ভেঙ্গে পরেন। লতিফা বেওয়া দাবী করেন তার মৃত শশুর রহিমুদ্দিন ১৯৭৩ সালে পাটগ্রাম পৌরসভার রছুলগঞ্জ মৌজায় জেএল নং ২৭, ১২৫৬ নং দলিল মুলে মহেষ মাঝির ছেলে শুকুর চাঁনের নিকট ৩২ শতক এবং ১৯৭৪ সালে ৪৫৫৬ নং দলিল মুলে তার ভাই নিলি কান্ত দাসের নিকট থেকে ২২ শতক জমি কিনেন। বর্তমানে তারা কেউ বেঁচে নেই। পরবত্তীতে ওয়ারিশ সুত্রে স্বামী সফিয়ার রহমানের অংশীয় জমিতে তিনি ঘর বাড়ি করে দীর্ঘদিন থেকে দুই মেয়েকে নিয়ে বসবাস করে আসছেন। ১৯৯০ সালের বিআরএস খতিয়ান দিয়ে শুকুর চাঁনের ছেলে মৃত রামবাবু দাসের স্ত্রী শুশিলা রানী গত ১০ সেপ্টেম্বর ওই জমি বেঁচে দেন স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতার কাছে। লতিফা বেওয়া দাবী করে বলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও জেলা জজের কার্যালয়ে সংরক্ষিত খতিয়ান বইয়ে উল্লেখিত জমির বিআরএস ৪০৪ খতিয়ানের পাতাটি ছেড়া ও জেলা ভুমি রেকর্ড রুম এবং পাটগ্রাম পৌর তহশিল অফিসে রাখা খতিয়ান বইয়ে আঠা দিয়ে লাগানো খতিয়ানের পাতায় রামবাবু দাসের নাম সংযুক্ত করা পাওয়া গেছে।

লতিফা বেওয়ার নিকটাত্বীয় আনিছুর রহমান জানান, গত জানুয়ারী মাসে ওই মৌজার প্রিন্ট (গেজেট) পরচা বিভিন্ন জমির মালিকদের নিকট বিলি করা হলে তারাও ৪০৪ খতিয়ান পান। ওই খতিয়ানে হিস্যা মোতাবেক ৫৪ শতক জমি দং ইয়াছিন আলী সফিয়ার রহমান ছুরুতন বেওয়া সায়েদা খাতুন জোবেদা খাতুন আবেদা খাতুন রহিমা খাতুন উল্লেখ করা থাকলেও এতে রামবাবুর কোন নাম নেই। কিন্ত পরবত্তীতে একই খতিয়ান নং দিয়ে উল্লেখিত নামের নীচে কিভাবে রামবাবু দাসের নাম সংযুক্ত করা হলো তা বোধগম্য নয়।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে পাটগ্রাম পৌর তহশিল অফিসে ৪০৪ খতিয়ানের আগের পাতাটির পৃষ্ঠা নং ৪৬২ এবং পেছনের পাতাটির পৃষ্ঠা নং ৪৬৪ উল্লেখ করা থাকলেও মাঝখানে রামবাবু দাস নামীয় পাতায় কোন পৃষ্ঠা নং উল্লেখ নেই এবং ওই পাতাটি আকারেও কিছুটা ছোট। পাটগ্রাম সাব-রেজিষ্ট্রার রতন অধিকারী বলেন কাগজপত্র দেখে দলিল সম্পাদন করা হয়েছে। এতে ২১.৬০ শতক জমির মুল্য দেখানো হয়েছে ২২ লাখ টাকা। কিন্ত প্রকৃতপক্ষে ওই জমির মুল্য আরও অনেক বেশী।

Show More

News Desk

তিস্তা নিউজের নিউজ রুম থেকে সমস্ত বিভাগসহ বাংলাদেশের সর্বশেষ সংবাদ প্রকাশ করা হয়। আপনি যদি তিস্তানিউজ ২৪.কম এ প্রকাশের জন্য আমাদের ট্রেন্ডিং নিউজ প্রেরণ করতে চান তবে আসুন এখনই আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। আপনার নিউজটি আমাদের নিউজ রুম থেকে নিউজ ডেস্ক হিসাবে প্রকাশিত হবে। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদান্তে- আব্দুল লতিফ খান, সম্পাদক মন্ডলির সভাপতি।

Related Articles

Back to top button
Close