Featured

শেষ দফায় ওরা রক্তের বাঁধন ছিড়ে গেল

http://tistanews24.com/wp-content/uploads/2015/11/IMG_1559.jpgইনজামাম-উল-হক নির্ণয়, নীলফামারী :  নীলফামারীর চিলাহাটি-হলদিবাড়ি অভিবাসন সীমান্ত পথে বিলুপ্ত ছিটবাসীর চতুর্থ বা শেষ দলটির ১০৫ জন সদস্যকে বরন করে নিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বনমন্ত্রী বিনয় কুমার।

আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুর সাড়ে ১২টায় পঞ্চগড় জেলার দেবিগঞ্জ উপজেলার দখলা খাগড়াবাড়ি ও দইখাতা ছিটের ২১ পরিবারের ওই ১০৫ জন সদস্য তিনটি বাসে ও চারটি ট্রাকে মালামাল নিয়ে ভারত গমন করে। এদের মধ্যে পুরুষ ৩৯জন,নারী ৩০ জন ও শিশু ৩৬ জন ছিল। এই পথে শেষ দফায় ১০৮ জনের তালিকা থাকলেও জমি বিক্রি করতে  না পারায় যেতে পারেননি এদের তিনজন। তবে একই কারনে যেতে না পারা আরো ৩১ জন ভারত যাবে রির্জাভ ডে হিসাবে আগামী ৩০ নবেম্বর লালমনিরহাটের বুড়িমারি সীমান্ত দিয়ে।  চিলাহাটি-হলদিবাড়ি সীমান্ত পথ দিয়ে শেষ দলটি বরনে ও বিদায় জানাতে  অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভারতের কুচবিহারের এডিএম আয়শা রানী, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনের ফাস্ট সেক্রেটারী রমা কান্ত গুপ্ত, নীলফামারীর ডোমার উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সাবিহা সুলতানা,দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সফিকুল ইসলাম প্রমুখ। এ সময় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বনমন্ত্রী বিনয় কুমার বলেন মাঝে কাঁটাতারের বেড়া থাকলেও আমরা বাঙালী। তাই বাঙালী হয়ে বাঙালীর দুঃখ বুঝি। দুই বাংলার সর্ম্পক এখন অনেক গভীর। এই গভীরতা নিয়ে আমরা একে অপরের সহযোগীতায় হাত বাড়িয়ে দিয়েছি। এ সময় তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে পরিচিত হন এবং ছবি তোলেন।
একটি সময় লাল-সবুজের  পতাকা তলের বাংলাদেশে ওদের বেড়ে উঠা ছিল তাদের। সেই মানুষগুলোর  চলে গেল। এরা সকলে পঞ্চগড় জেলা  অভ্যান্তরে থাকা ৩৬ বিলুপ্ত ভারতীয় ছিটের মধ্যে ১১টি ছিটের বাসিন্দা ছিল।  এর আগে এই সীমান্ত পথে গত ২২-২৩ ও ২৪ নবেম্বর  তিন দফায় ভারত গমন করেছিল ৭২ পরিবারের ৩৪৭ জন সদস্য। শেষ দফা মিলে এই সীমান্ত পথে মোট ৪৫২ জন ভারত গমন করলো।
ভারত গমনের আগে  এই সীমান্ত পথে শেষ বা চতুর্থ দফায় যারা ভারত গেলেন তাদের  বুধবার দেবীগঞ্জ ডিগ্রী কলেজে জড়ো করা হয়। সেখানে কাষ্টমসের কাজ শেষে রাত্রিযাপনের পর বৃহ®পতিবার সকালে তারা তিনটি বাস ও চারটি ট্রাকে মালামাল নিয়ে সকাল ১০টায় আসে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার ভোগডাবুড়ি ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়াস্থ্য আব্দুর রউফ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে। এখানে তাদের ইমিগ্রেশন শেষ হবার পর দুপুর সাড়ে ১২টায় ভারত সীমান্ত অতিক্রম করে দেয়া হয়।
যাওয়া আগে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারনা হয়। কেউ সন্তান ছেড়ে যাচ্ছে, কেউ বা বাবা মাকে, কেউবা অসংখ্য আত্মীয় স্বজন। হৃদয়ের ভেতরের ভালবাসাটুকু উজার করে ভারত চলে যাওয়া আগে আত্মচিৎকারের কোন্দন (কান্না) মাটিতে শুয়ে গড়াগড়া। এ যেন স্বাধীন বাংলার মাটিকে ছুঁয়ে যায়। #

Show More

News Desk

তিস্তা নিউজের নিউজ রুম থেকে সমস্ত বিভাগসহ বাংলাদেশের সর্বশেষ সংবাদ প্রকাশ করা হয়। আপনি যদি তিস্তানিউজ ২৪.কম এ প্রকাশের জন্য আমাদের ট্রেন্ডিং নিউজ প্রেরণ করতে চান তবে আসুন এখনই আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। আপনার নিউজটি আমাদের নিউজ রুম থেকে নিউজ ডেস্ক হিসাবে প্রকাশিত হবে। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদান্তে- আব্দুল লতিফ খান, সম্পাদক মন্ডলির সভাপতি।

Related Articles

Back to top button
Close