Featured

সরকারি টাকা আত্মসাৎ: ৩ কর্মচারী বরখাস্ত, ইউএনও’র বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

সরকারি টাকা আত্মসাৎ: ৩ কর্মচারী বরখাস্ত, ইউএনও’র বিরুদ্ধে ব্যবস্থামোহাম্মদ মানিক হোসেন,চিরিরবন্দর(দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, বিধবা ভাতাসহ সরকারি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তিন কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।  এ ঘটনায় তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জনপ্রশাসন বিভাগে চিঠি দেয়া হয়েছে বলে জানাগেছে।

দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের দপ্তরের এক আদেশে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে উপজেলা স্টেনোটাইপিস্ট দিলীপ কুমার রায়, অফিস সহায়ক সুফিয়া আক্তার এবং নিরাপত্তা প্রহরী জগবন্ধু দত্তকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এছাড়া তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান যিনি বর্তমানে লক্ষীপুর জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। ৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে চিঠি দিয়েছেন দিনাজপুর জেলা প্রশাসক।

জেলা প্রশাসকের চিঠিতে বলা হয়েছে, দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসার এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসের প্রধান অফিস সহকারী মিলে উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা ভাতাসহ বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা ব্যাংক থেকে ভুয়া বিল-ভাউছারের মাধ্যমে প্রথমে প্রকল্পের ৮০ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। পরে আবার ১৪ সালের শেষে ৩৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা উত্তোলন এবং হাটবাজারের ১ কোটি ২৮ লাখ টাকাসহ মোট ৫ কোটি টাকা ইউএনও ও উপজেলা চেয়ারম্যানের যৌথ স্বাক্ষরে উত্তোলন করা হয়। এ ছাড়া বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতার টাকা নিয়েও দুর্নীতি ঘটেছে।

বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আফতার উদ্দিন মোল­া জেলে থাকার সময় যুবলীগের সভাপতি ও ভাইস চেয়ারম্যানের লিটু মিয়া উপজেলা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন বলে তদন্ত কমিটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন।

দিনাজপুরে জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম কর্তৃক গঠিত ওই তদন্ত কমিটির প্রধান ছিলেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার) মো. ইমতিয়াজ হোসেন।

ইমতিয়াজ হোসেন বলেন, ‘সরকারি অর্থের জবাবদিহি নির্বাহী কর্মকর্তাকে করতে হবে। কারণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা চেয়ারম্যানের যৌথ স্বাক্ষরে টাকা উত্তোলন করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা থাকতে সরকারের এতগুলো টাকা উত্তোলন হয়ে গেল, তা তিনি জানবেন না, এটা ঠিক না।’

তিনি বলেন, ‘তদন্ত চলছে। এর ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়া হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।’

চিরিরবন্দরের তৎকালীন ইউএনও (বর্তমানে লক্ষীপুর জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, আমি ২০১২ সালে যোগদান করার পর থেকে ২০১৪ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেছি। আমি এডিসি হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে লক্ষীপুরে বদলি হয়ে আসি। এরপরে জেলা প্রশাসকের পত্রের মাধ্যমে জানতে পারলাম ৩৩টি চেকের মাধ্যমে আমার স্বাক্ষরে টাকা উত্তোলন করা হযেছে।

এসব টাকা উত্তোলনে তার স্বাক্ষর ছিল না বলে দাবি করে মিজানুর রহমান বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আমাকে জানিয়েছেন আরো ৫ বছর আগে থেকে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। এর বিরুদ্ধে আমি অনেক পদক্ষেপ নিয়েছি।

এ বিষয়ে চিরিরবন্দরের বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফিরোজ মাহমুদ তার দপ্তরের তিন কর্মচারীর সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমি যোগদান করার পরে ঘটনাটি ধরা পড়েছে। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসক মহোদয় কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে  গত ২৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৬ ইং তারা সাময়িক বরখাস্ত হয়েছে।

Show More

News Desk

তিস্তা নিউজের নিউজ রুম থেকে সমস্ত বিভাগসহ বাংলাদেশের সর্বশেষ সংবাদ প্রকাশ করা হয়। আপনি যদি তিস্তানিউজ ২৪.কম এ প্রকাশের জন্য আমাদের ট্রেন্ডিং নিউজ প্রেরণ করতে চান তবে আসুন এখনই আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। আপনার নিউজটি আমাদের নিউজ রুম থেকে নিউজ ডেস্ক হিসাবে প্রকাশিত হবে। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদান্তে- আব্দুল লতিফ খান, সম্পাদক মন্ডলির সভাপতি।

Related Articles

Back to top button
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker