নীলফামারী

সৈয়দপুরে ১৫ জনবল নিয়ে চলছে ট্রাফিক বিভাগ, যানজটে অস্থির মানুষ!

মিজানুর রহমান মিলন, সৈয়দপুর(নীলফামারী) প্রতিনিধি: জনবহুল সৈয়দপুর শহরের যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ জনবল সংকটে ভুগছে। মাত্র ১৫ জন পুলিশ ও কর্মকর্তা নিয়ে চলছে ট্রাফিক পুলিশের কার্যক্রম। ফলে সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে শৃঙ্খলা ফিরছে না। যানবাহনের আধিক্য ও শহরমুখী মানুষের চাপে দিন দিন যানজট প্রকট হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে নীলফামারী জেলা পুলিশ প্রশাসন সৈয়দপুরে ট্রাফিক পুলিশের আলাদা ইউনিট গঠনের প্রস্তাব পাঠিয়েছে পুলিশ হেড কোয়ার্টারে কিন্তু দীর্ঘদিনেও কোন অগ্রগতি নেই ওই প্রস্তাবের। এ নিয়ে কয়েক দফা তাগিদ দিয়ে চিঠি দেয়া হলেও কোন ফল হয়নি। এতে করে নিত্যদিনের যানজটের দুর্ভোগ পিছু ছাড়ছে না সৈয়দপুরবাসীর।
ট্রাফিক পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিমানবন্দর যাত্রীদের যাতায়াত ও সড়কে যানবাহনের সংখ্যা অত্যাধিক বেড়ে যাওয়ায় সৈয়দপুর শহরে ট্রাফিক পয়েন্ট ৮টিতে উন্নীত করা হয়েছে। সকাল-বিকাল এসব পয়েন্টে ডিউটির জন্য ১৬ জন পুলিশ প্রয়োজন। কিন্তু পুলিশ রয়েছে মাত্র ৭ জন। ফলে পুলিশ-কর্মকর্তা মিলে ট্রাফিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে ট্রাফিক বিভাগ। তারপরও জনবল অভাবে সব পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হয় না। এর মধ্যে কেউ অসুস্থ বা ছুটি নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়ানক হয়ে ওঠে।

সূত্র জানায়, সৈয়দপুর ট্রাফিক বিভাগে ২৪ জন জনবল মঞ্জুরী রয়েছে কিন্তু জনবল আছে মাত্র ১৫ জন। ফলে স্বল্পসংখ্যক জনবল দিয়ে যানজট নিরসন স্থায়ী রূপ পাচ্ছে না। এদিকে সড়কে যানবাহনের চলাচল বৃদ্ধি ও ভবিষ্যতে শহরের কর্মব্যস্ততাকে সামনে রেখে সৈয়দপুরে ট্রাফিক পুলিশের আলাদা ইউনিট স্থাপনের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। নীলফামারী জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশ হেড কোয়ার্টারে ওই প্রস্তাব পাঠানো হয়। প্রস্তাবে নির্মাণাধীন সৈয়দপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ১৫০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও প্রস্তাবিত ইকোনমিক জোন স্থাপনসহ সৈয়দপুরের গুরুত্ব এবং ইউনিট স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য কয়েক দফা চিঠিও দেয়া হয়েছে পুলিশ হেড কোয়ার্টারে কিন্তু দীর্ঘদিন গত হলেও ওই প্রস্তাবের অনুমোদন আটকে আছে।

সূত্র মতে, সৈয়দপুরে ট্রাফিক পুলিশের আলাদা ইউনিট স্থাপিত হলে জনবলের ঘাটতি থাকবে না। এতে করে ব্যস্ত এলাকায় আরও ট্রাফিক পয়েন্ট বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে সড়কে ট্রাফিক পুলিশের সার্বক্ষণিক নজরদারি এবং ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা সম্ভব হবে। ফলে যানজট নিরসনসহ সড়কে যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
সূত্র মতে, জনসংখ্যার তুলনায় সৈয়দপুর শহরে প্রশস্ত ও পর্যাপ্ত সড়ক নেই। মূল শহরের ৬টি প্রধান সড়ক ঘিরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাজার গড়ে উঠেছে। ফলে এই ৬টি সড়কে মাত্রাতিরিক্ত যানবাহনের বিশৃঙ্খল চলাচলে যানজট পরিস্থিতি দিন দিন অসহনীয় হয়ে উঠছে। সড়কে যত্রতত্র পার্কিং ও নিত্যদিনের যানজট নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে ট্রাফিক বিভাগ। একই সঙ্গে যানবাহন চালকরা ট্রাফিক আইন না মেনে চলার কারণেও পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না।
পরিবহন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সৈয়দপুরে প্রায় ২৫ হাজার ব্যাটারী চালিত অটো রিক্সাভ্যান ও রিক্সা চলাচল করে। এর সঙ্গে প্রতিদিন যোগ হয় গ্রামাঞ্চল থেকে আসা অসংখ্য যানবাহনও। এছাড়া বিমানবন্দরের কারণে সৈয়দপুর ছাড়াও আশেপাশের জেলা উপজেলা থেকে প্রতিদিন শত শত মাইক্রোবাস প্রাইভেট কারসহ অসংখ্যক যানবাহন শহরে প্রবেশ করায় যানজটের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সূত্র মতে, এই বিপুল সংখ্যক যানবাহনকে শৃঙ্খলায় ফেরাতে ট্রাফিক বিভাগের পর্যাপ্ত জনবল দরকার। কিন্তু বাস্তবে ট্রাফিক বিভাগে ওই পরিমাণ জনবল নেই। সংশ্লিষ্টরা শহর যানজটমুক্ত করতে ট্রাফিক পুলিশের জনবল বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন। অন্যথায় যানজটের দুর্ভোগ থেকে সহসা নিস্তার মিলবে না। এ সমস্যা সমাধানে পৌরসভা ও পরিবহন সেক্টরের সঙ্গে যুক্ত সংগঠনগুলোকে পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসার তাগিদ দেন তারা।
সৈয়দপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র-১ জিয়াউল হক জিয়া শহরের যানজট পরিস্থিতি যন্ত্রণাদায়ক মন্তব্য করে বলেন, শহরে যানজট নিরসন এবং যান চলাচল শৃঙ্খলায় আনতে পৌরসভার পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে। পুলিশের ট্রাফিক বিভাগকে সহায়তা দেয়ার জন্য পৌরসভার ৬ জন লোক নিয়োজিত রয়েছে। এছাড়াও সড়কের পাশে বসা ছোট ছোট ব্যবসায়ীদের নির্দিষ্টস্থানে সরিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু নানা জটিলতায় তা সরানো সম্ভব হচ্ছে না, তবে চেষ্টা অব্যাহত আছে। তিনি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে পৌরসভার করণীয় সম্পর্কে ট্রাফিক বিভাগ তাদের পরামর্শ জানাতে পারে। তাদের পরামর্শ পেলে সেই মত সহযোগিতা দেয়া যেতে পারে। তিনি স্থায়ীভাবে যানজট নিরসনে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া সফলতা পাওয়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন।
জানতে চাইলে, সৈয়দপুর ট্রাফিক পুলিশের শহর ও যানবাহন পরিদর্শক (ট্রাফিক ইন্সপেক্টর) মো. আবু নাহিদ পারভেজ চৌধুরী ট্রাফিক পুলিশের জনবল স্বল্পতার কথা স্বীকার করে জানান, জনবল সংকটের জন্য ট্রাফিক পয়েন্টে সার্বক্ষণিক লোক দেয়া সম্ভব হয় না। ফলে সড়কে যানবাহন চলাচলে শতভাগ শৃঙ্খলা ফেরানো যাচ্ছে না। সৈয়দপুর উপজেলা শহর হলেও নিত্যদিন শহরমুখী মানুষের যাতায়াত এবং সড়কে মাত্রারিক্ত যানবাহনের চলাচল দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমনিতে শহরে সীমিত সড়ক, তার ওপর সড়ক ও ফুটপাত দখল করে দোকান এবং মালামাল রাখায় যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। পথচারীরা ফুটপাত ছেড়ে মূল সড়কে নেমে আসায় সড়কের ধারণ ক্ষমতার মত যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। এর সঙ্গে যানবাহন চালকদের আইন না মানা, ইচ্ছামত যানবাহন পার্কিং করার প্রবণতা সড়কে যানজট সৃষ্টি করছে। তারপরও ট্রাফিক বিভাগ সাধ্যমত কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, সৈয়দপুরের গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে ট্রাফিক পুলিশের একটি আলাদা ইউনিট করার প্রস্তাবনা পুলিশ হেড কোয়ার্টারে পাঠানো হয়েছে। নীতি নির্ধারক পর্যায়ে অনুমোদন হলেই সৈয়দপুরে আলাদা ইউনিট স্থাপিত হবে। তখন সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসার পাশাপাশি যানজটও কমে আসবে। তিনি যানবাহনের স্ট্যান্ড সংখ্যা বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে বলেন, ট্রাফিক পুলিশের জনবল বৃদ্ধির সঙ্গে ট্রাফিক আইন মেনে চলার সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা বিশেষ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন।

Show More

News Desk

তিস্তা নিউজের নিউজ রুম থেকে সমস্ত বিভাগসহ বাংলাদেশের সর্বশেষ সংবাদ প্রকাশ করা হয়। আপনি যদি তিস্তানিউজ ২৪.কম এ প্রকাশের জন্য আমাদের ট্রেন্ডিং নিউজ প্রেরণ করতে চান তবে আসুন এখনই আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। আপনার নিউজটি আমাদের নিউজ রুম থেকে নিউজ ডেস্ক হিসাবে প্রকাশিত হবে। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদান্তে- আব্দুল লতিফ খান, সম্পাদক মন্ডলির সভাপতি।

Related Articles

Back to top button
Close