Featured

হাটহাজারী মাদ্রাসার বার্ষিক মাহফিল ও দস্তারবন্দী সম্মেলন অনুষ্ঠিত

http://tistanews24.com/wp-content/uploads/2016/01/742.jpgআবুল বাশার,হাটহাজারী(চট্টগ্রাম) সংবাদদাতাঃ এশিয়ার অন্যতম বিখ্যাত ও প্রাচীন ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার বার্ষিক মাহ্ফিল ও দস্তারবন্দী সম্মেলন  (শুক্রবার, ২৯ জানুয়ারি) লক্ষাধিক মুসল্লীর অংশগ্রহণে আখেরী মুনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয়েছে।

সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক, হেফাজতে ইসলামের আমীর, দেশের শীর্ষ আলেম, পীরে কামেল আল্লামা শাহ্ আহ্মদ শফী বলেছেন, ঈমানী চেতনাবোধের অভাব ও আদর্শহীনতা এবং কথায় কথায় মিথ্যাচারের সংস্কৃতির কারণেই দেশ গভীর সংকটের মুখে পড়েছে। একদিকে সমাজের নেতৃত্বদানকারী এবং বিত্তশালীদের মধ্যে ভোগবাদি মানসিকতার আধিক্য, নীতি-নৈতিকতাহীনতা ও শ্রেণী শোষণের মানসিকতা দেখা দিয়েছে, অন্যদিকে শাসক শ্রেণীর মধ্যেও অত্যধিক ক্ষমতা লিপ্সার কারণে দেশ ও জাতীয় স্বার্থের প্রতি চরম অবজ্ঞা ও আনুগত্যহীনতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। এসব কারণে জনগণের মধ্যে চরম হতাশাবোধ তৈরী হয়েছে। যে কারণে জাতীয় পর্যায়ে সকল ক্ষেত্রে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, ব্যক্তি থেকে শুরু করে সমাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে ধর্মীয় অনুশাসন তথা ইনসাফ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই কেবল বর্তমান সংকট থেকে মুক্তি পেতে আল্লাহর সাহায্য আশা করা যায়। তিনি বলেন, ঈমানী দুর্বলতা ও অনৈক্যের সুযোগে দেশী-বিদেশী ইসলামের দুশমনরা নানা অপপ্রচার, ঘৃণা-বিদ্বেষ ছড়িয়ে মুসলমানদের ঈমানী চেতনাকে নষ্ট করার গভীর ষড়যন্ত্র চলাচ্ছে। সাংস্কৃতিক আগ্রাসন, বেহায়াপনা, উলঙ্গপনা ও নারী-পুরুষের অবাধ চলাফেরার বিস্তার ঘটিয়ে তরুণ সমাজকে বিভ্রান্ত করে ধর্মহীন করে তুলতে চাইছে। ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ওলামায়ে কেরাম, মাদ্রাসা শিক্ষা ও দাড়ি-টুপীধারিদের বিরুদ্ধে নানা মিথ্যাচার, কাল্পনিক তথ্য ও চক্রান্ত চালিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, সবার আগে আমাদের মধ্যে ঈমানী চেতনাববোধ ও ইনসাফপূর্ণ বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

হেফাজত আমীর কতিপয় মন্ত্রী, এমপি ও কর্মকর্তার থেমে থেমে উলামা-মাশায়েখ, কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা, দাড়ি-টুপি, হিজাব, আযানসহ ইসলামী নিদর্শন ও বিধানের বিরুদ্ধে উক্তির তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, একদিকে দেশে তারা জনগণের স্বার্থ নিয়ে ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে বলে দাবী করছে, অন্যদিকে তারা দেশের ৯০ ভাগ মুসলমানের ধর্মীয় বিশ্বাস ও অনুভ‚তিতে আঘাত দিয়ে যাচ্ছে। তাদের কথা বার্তায় মনে হয়, তারা দেশের ৯০ ভাগ মুসলমানের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে বিশেষ কোন গোষ্ঠিকেই খুশী করতে চাচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, যেই মন্ত্রীরা কথায় কথায় জঙ্গীবাদের আশংকার কথা বলছে, সেই একই মন্ত্রীরাই বার বার উলামা-মাশায়েখ ও মাদ্রাসা ছাত্রসহ ৯০ ভাগ মুসলমানের বিশ্বাসকে কটাক্ষ করে ধর্মীয় অনুভ‚তিতে আঘাত দিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, এরাই দেশ ও জাতীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে এবং এরাই মূলতঃ দেশে জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাস বিস্তার করতে চায়। তিনি হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন, শান্তিপ্রিয় মুসলমানরা কখনোই এদের ফাঁদে পা দিবে না; বরং ষড়যন্ত্রকারীরাই এক সময় উচ্ছেদ হয়ে যাবে।
হেফাজত আমীর দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্যে সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করবেন না। মানুষকে সাহসের সাথে তাদের ভাল লাগা ও খারাপ লাগা এবং পছন্দ ও অপছন্দের কথা নির্দ্বিধায় প্রকাশ করার সুযোগ দিন। ধর্মীয় কর্মকান্ডে অন্যায্য হস্তক্ষেপ বন্ধ করুন। মুসলমানদের ঈমানী চেতনাবোধ বিলুপ্তকরণ ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের সকল ষড়যন্ত্র বন্ধ করুন। বিভিন্ন মহাসড়ক, ব্রিজ ও অবকাঠামো নির্মাণ, নগরায়ন ও উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের গ্রামীণ জনপদ, কৃষক, গরীব, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায়ও কাজ করুন। কারণ, দেশের কোটি কোটি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, দিন মজুর, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও কৃষক দিন দিন নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে।
আল্লামা শাহ্ আহম্মদ শফী আরো বলেন, ইসলামে অসত্য, অন্যায়, সন্ত্রাস ও ষড়যন্ত্রের কোন স্থান নেই। ইসলাম ন্যায় ও শান্তির ধর্ম। ইসলামকে অনুসরণ করতে পারলে এদেশে কোন হানাহানি ও সন্ত্রাস থাকবে না। আর ইসলামী শিক্ষায়ও কোন প্রকার সন্ত্রাসের স্থান নেই। তিনি বলেন, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীস্টান ধর্মাবলম্বীরা নিজ নিজ ধর্ম পালন করলে, ধর্মীয় তৎপরতা চালালে এবং তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিলে কেউ মৌলবাদী, প্রগতি বিরোধী ও জঙ্গীবাদি হয় না। অথচ নামায আদায় ও দাড়ি-টুপী পরলে অথবা ইসলাম ধর্মীয় কোন আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নিলেই প্রগতি বিরোধী, দেশ বিরোধী ও মৌলবাদীর রং লাগানো হয়। এটা চরম অন্যায় ও ইসলাম বিরোধী ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছু নয়।

শুক্রবার (২৯ জানুয়ারী)  অনুষ্ঠিত হাটহাজারী মাদ্রাসার বার্ষিক মাহফিল ও দস্তারবন্দী সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন, হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমীর আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, মাওলানা তফাজ্জুল হক হবিগঞ্জী, মুফতীয়ে আযম মুফতী নূর আহমদ, দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসার বিশিষ্ট মুহাদ্দিস ও হেফাজত মহাসচিব আল্লামা হাফেজ মুহাম্মদ জুনায়েদ বাবুনগরী, আল্লামা নূরুল ইসলাম ওলীপুরী, মাওলানা সালাহ উদ্দীন নানুপুরী, মুফতী মোজাফফর হোসাইন, মাওলানা সাজেদুর রহমান, মুফতী জসীম উদ্দীন, মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী, মাওলানা মুহাম্মদ ইয়াহ্্ইয়া, মাওলানা আনাস মাদানী, মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম ঢাকা, মাওলানা নজির আহমদ ঢাকা, ড. আ.ফ.ম. খালেদ হোসেন, মাওলানা আজিজুল হক মাদানী, মাওলানা নোমান মেখলী, মাওলানা মাহমুদুল হাসান প্রমুখ।

বার্ষিক মাহফিলে হেফাজত মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী দেশে নাস্তিকতা ও ইসলাম বিদ্বেষকে পরিকল্পিতভাবে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে বলে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এনে বলেন, সংবিধান থেকে আল্লাহর উপর আস্থা-বিশ্বাসের নীতি বাদ দিয়ে ধর্মনিরপেক্ষতা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ার শুরু থেকেই দেশের আলেম সমাজ ও তৌহিদী জনতা এমন আশংকা থেকেই এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিল। অথচ সরকার কোটি কোটি তৌহিদী জনতার মতামতের প্রতি কোনরূপ তোয়াক্কা না করেই সংবিধান সংশোধন করে ধর্মনিরপেক্ষ নীতি চালু করে। যার কুফল হিসেবে শুধু নাস্তিক্যবাদিদের মুখে নয়, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্তাব্যক্তিরাও প্রকাশ্যে ইসলাম, উলামা-মাশায়েখ ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিদ্বেষী ও অবমাননাকর বক্তব্য একের পর এক দিতে শুরু করেছে। নাটক-সিনেমা, হাটবাজার, স্কুল-কলেজ ও রাস্তা-ঘাটে সাংস্কৃতিক চর্চার নামে ইসলাম বিরোধী কর্মকান্ড এখন প্রকাশ্যে চলতে দেখা যায়।

হেফাজত মহা-সচিব বলেন, রাজনীতিতে এখন সত্যের মতো করে মিথ্যার চার্চা চালু হয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে নেতৃত্বশূন্য করার পর ক্ষমতাসীন মহল এবার দেশের আলেম সমাজ ও ক্বওমি মাদ্রাসার দিকে নজর দিয়েছে। কথায় কথায় তারা কওমি মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক ও আলেমদের বিরুদ্ধে জঙ্গীবাদের অভিযোগ এনে অপপ্রচার চালাচ্ছে। জনগণ থেকে আলেমদেরকে বিচ্ছিন্ন করার নানা ষড়যন্ত্র করছে। শহর-বন্দর থেকে শুরু করে গ্রামগঞ্জ পর্যন্ত ইসলামী সম্মেলন, তাফসীর মাহফিল, ওয়াজ-মাহফিলসহ ধর্মীয় যে কোন অনুষ্ঠান আয়োজনে অনুমতির বিধান চালু করে ইসলামী কর্মকান্ডকে সংকোচিত করার চেষ্টা করছে। সরকারের বিভিন্ন মহল থেকে জুমার খুতবা নিয়ন্ত্রণ, মসজিদের ইমাম-খতীব ও ক্বওমি মাদ্রাসায় গোয়েন্দা নজরদারির কথা বলা হচ্ছে। ক্বওমি শিক্ষা ব্যবস্থায় বিভেদের বীজ বপনের জন্যে কিছু বামপন্থী মিডিয়াকে দিয়ে গত কয়েক মাস থেকে সনদ, শিক্ষা পদ্ধতি ও সিলেবাস নিয়ে মনগড়া রিপোর্ট করিয়ে নানা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। জেনারেল শিক্ষা থেকে ইসলামী শিক্ষাকে উৎখাতের পর এবার তারা মাদ্রাসা শিক্ষাকে ধ্বংস করতে চাচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রতিবেশী বৃহৎ দেশটির উস্কানী ও ষড়যন্ত্রে নাস্তিক্যবাদি ও ক্ষমতাসীন মহল একদিকে নগ্নপনা ও বেহায়াপনার বিস্তারসহ সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ঈমানী চেতনাবোধকে ধ্বংস করে আদর্শিকভাবে ভোগবাদিতার প্রতি উদ্বুদ্ধ করছে, অন্যদিকে ইসলামপন্থী ও দেশপ্রেমিদের বিরুদ্ধে মনগড়া নানা অভিযোগ এনে তাদেরকে জনবিচ্ছিন্ন করে ধ্বংস করতে চাচ্ছে। এভাবে নাস্তিক্যবাদি ও ক্ষমতালিপ্সুদের হাতে দেশ ও জাতিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়া যায় না। এদেশের মানুষের ভেতরে ঈমান, ইসলাম, দেশপ্রেম ও ন্যায়-নীতির চেতনাবোধ জাগিয়ে সকল অন্যায় ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী আরো বলেন, রাজনীতির শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে বিভিন্ন বক্তৃতা বিবৃতি ও মিডিয়ায় এখন মিথ্যাচারের সংস্কৃতি চালু করা হচ্ছে। রাজনৈতিক নেতারা এখন কথায় কথায় সত্যের মতো করে মিথ্যার চর্চা করেন। খুন-খরাবি, ধর্ষণ, অপহরণ, রাজনৈতিক হামলা-মামলা, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও মিথ্যাচার এখন আমাদের দৈনন্দিন বিষয়ে পরিণত হয়েছে। দেশ ও জাতির জন্যে এটা অশনি সংকেত। বক্তাগণ সরকারের প্রতি আহŸান জানিয়ে বলেন, সকল ষড়যন্ত্র ও মিথ্যাচার বন্ধ করে মানুষের বাকস্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দিন। উলামা-মাশায়েখ ও ক্বওমি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে সকল ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার বন্ধ করুন। মানুষকে স্বাধীনভাবে ওয়াজ-মাহফিলসহ ধর্মকর্ম করতে দিন। স্কুল-কলেজে ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করুন। প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিন। সড়ক-মহাসড়ক, টনেল, ফাইওভার, মনোরেল-পাতাল রেল ও পদ্মা সেতুর মধ্যে উন্নয়নকে বন্দি করে না রেখে দেশের ৮০ ভাগ গরীব, কৃষক, মাঝারি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, দিন মজুর, বেকার জনগণসহ গ্রামীণ অর্থনীতির প্রতি নজর দিন। দেখবেন, দেশে রাতারাতি শান্তি চলে আসবে।

সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ ইস্যুর উল্লেখ করে হেফাজত মহাসচিব বলেন, কথায় কথায় আলেম-উলামা ও ক্বওমি মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষদের বিরুদ্ধে জঙ্গীবাদের আঙ্গুলি নির্দেশ বন্ধ করে প্রকৃত সন্ত্রাসীদেরকে খুঁজে বের করুন। দেশের আলেম সমাজ ও ইমাম-খতীবগণ তো সব সময় কুরআন-হাদীসের আলোকে বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিল, তাফসীর মাহফিল, তাবলীগ জামাতের কার্যক্রম ও মসজিদের সাপ্তাহিক ওয়াজ মাহফিলে প্রচারণা ও বক্তব্য দিয়ে জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়তই কাজ করে যাচ্ছে। কেন তাদের প্রতি মিথ্যে আঙ্গুলি হেলন করেন। বরং জঙ্গীবাদ দমনে ভ‚মিকা রাখার জন্যে আপনাদের উচিত ছিল এদেশের আলেম সমাজের প্রশংসা করা। তিনি বলেন, আলোচিত শায়খ আব্দুর রহমান, বাংলা ভাইসহ গ্রেফতারকৃত সন্ত্রাসীরা এদেশের আলেম সমাজের প্রতিনিধিত্ব করে না। গ্রেফতারকৃতদের বেশির ভাগই স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি ও জেনারেল শিক্ষার্থী। অথচ স্কুল, কলেজ, ভার্সিটি থেকে জঙ্গী তৈরী হচ্ছে, এ কথা বলা হয় না। তিনি বলেন, দেশ থেকে জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাস নির্মুলের জন্যে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় প্রচারিত বিভিন্ন রাজনৈতিক সংঘর্ষে পুলিশের পাশে যেসব অস্ত্রধারী দলীয় সন্ত্রাসীদেরকে দেখা যায়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিন, দলীয় সন্ত্রাসীদের হাতে লাইসেন্সকৃত অস্ত্র তুলে দেওয়া বন্ধ করুন এবং প্রকৃত বোমাবাজদেরকে গ্রেফতারে নিরপেক্ষ অভিযান চালান। এদেশের আলেম সমাজ সহযোগিতা করবে।

জুনায়েদ বাবুনগরী আরো বলেন, বিশ্বে ইসলাম ও মুসলিম মিল্লাতের বিরুদ্ধে পরিচালিত ইহুদী-খ্রীস্টান মিশনারি ও ইঙ্গ-মার্কিন সাম্রাজ্যবাদীদের সর্বাত্মক আগ্রাসনের কবলে বাংলাদেশের ইসলামপন্থী মুসলমানরা তথাকথিত নাস্তিক্যবাদী ও ফ্যাসিবাদীদের চক্রান্তের শিকারে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, দেশকে ইসলাম শূন্য ও ঈমানী চেতনাহীন করার ষড়যন্ত্রে ওলামা-মাশায়েখ ও তৌহিদী জনতা চোখবুজে থাকবে না।

উল্লেখ্য, বার্ষিক মাহফিলের পাশাপাশি দস্তারবন্দী সম্মেলন বা বিশেষ সমাবর্তনে দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে দাওরায়ে হাদীস (টাইটেল) উত্তীর্ণ আড়াই হাজার তরুণ আলেমকে প্রতিষ্ঠানের নাম ও মনোগ্রাম খচিত বিশেষ সম্মানসূচক পাগড়ী প্রদান করা হয়। পাগড়ী প্রদান করেন হেফাজত আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফীসহ প্রতিষ্ঠানের মুহাদ্দিসবৃন্দ। বিশেষ সমাবর্তনে দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক হেফাজত আমীর আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী তরুণ আলেমদের উদ্দেশ্যে উপদেশমূলক দীর্ঘ বক্তব্য রেখে বলেন, তোমরা ইসলামের আদর্শ ও শান্তির বাণী প্রচার করার জন্য দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়।

গতকালের হাটহাজারী মাদ্রাসার বার্ষিক মাহফিলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের হাজার হাজার উলামায়ে কিরাম ছাড়াও লক্ষাধিক মুসল্লী অংশগ্রহণ করেন। আল্লামা শাহ আহমদ শফী শুক্রবার বাদ জুমা উপস্থিত লক্ষাধিক উলামায়ে কেরাম ও তৌহিদী জনতার উদ্দেশ্যে বিশেষ হিদায়াতী বয়ান পেশ করেন। আখেরী মুনাজাতে জামিয়া প্রধান দেশে সকল হানাহানি, সন্ত্রাস বন্ধ হয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং রাজনৈতিক দ্ব›দ্ব-সংঘাতে সকলপক্ষের মধ্যে শুভ বুদ্ধির উদয় হওয়ার জন্য আল্লাহর সাহায্য কামনা করে বিশেষ মুনাজাত পরিচালনা করেন। এ সময় সমগ্র ক্যাম্পাস জুড়ে কান্নার রোল পড়ে যায়।

এশিয়ার অন্যতম বিখ্যাত দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসার বার্ষিক মাহফিল উপলক্ষ্যে শিক্ষা ভবন, ছাত্রাবাস, বিশাল প্যান্ডেল এবং চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কসহ সমগ্র হাটহাজারী এলাকা যেন হাজার হাজার উলামা-মাশায়েখ ও তরুণ আলেমের এক মিলন মেলায় পরিণত হয়।

Show More

News Desk

তিস্তা নিউজের নিউজ রুম থেকে সমস্ত বিভাগসহ বাংলাদেশের সর্বশেষ সংবাদ প্রকাশ করা হয়। আপনি যদি তিস্তানিউজ ২৪.কম এ প্রকাশের জন্য আমাদের ট্রেন্ডিং নিউজ প্রেরণ করতে চান তবে আসুন এখনই আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। আপনার নিউজটি আমাদের নিউজ রুম থেকে নিউজ ডেস্ক হিসাবে প্রকাশিত হবে। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদান্তে- আব্দুল লতিফ খান, সম্পাদক মন্ডলির সভাপতি।

Related Articles

Back to top button
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker