তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপকে ন্যাটোর যুদ্ধ নয় বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্যের মন্ত্রী প্যাট ম্যাকফ্যাডেন। তিনি বলেছেন, বর্তমান সংঘাতকে ন্যাটো জোটের সামরিক অভিযানের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা ঠিক হবে না; এটি মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ পদক্ষেপ।সংবাদমাধ্যম বিবিসি রেডিও ৪ এর ‘টুডে’ অনুষ্ঠানে দেয়া সাক্ষাৎকারে ম্যাকফ্যাডেন বলেন, ন্যাটো যে উদ্দেশ্যে গঠিত হয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে যে ধরনের পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে তার সঙ্গে জোটের উদ্দেশ্য মেলে না। তার মতে, ন্যাটোর মূল লক্ষ্য ছিল সদস্যভুক্ত দেশগুলোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা।
১৯৪৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ ১২টি দেশ নিয়ে যাত্রা শুরু করে ন্যাটো। জোটটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নীতি হলো ‘আর্টিকেল ৫’, যেখানে বলা হয়েছে-কোনো সদস্য দেশের ওপর হামলা হলে তা সব সদস্য দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে এবং সবাই মিলে প্রতিরক্ষা করবে।
একই অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সাবেক ব্রিটিশ চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ নিক কার্টার। তিনি বলেন, ন্যাটো এমন একটি সামরিক জোট নয় যা কোনো সদস্য দেশের ‘পছন্দের যুদ্ধ’-এ স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্য সদস্যদের অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করে। তার ভাষায়, ‘ন্যাটো এমন জোট নয় যেখানে একটি দেশ নিজের সিদ্ধান্তে যুদ্ধে যাবে এবং তারপর অন্যদের বাধ্য করবে সেই যুদ্ধে অনুসরণ করতে।’
জেনারেল কার্টারের এই মন্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন ম্যাকফ্যাডেন। তিনি বলেন, বর্তমান সংঘাতকে ন্যাটোর সামরিক অভিযান হিসেবে দেখা ঠিক নয়; বরং এটি ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পদক্ষেপ’। তবে একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাজ্য ন্যাটোর প্রতি তার অঙ্গীকারে দৃঢ় রয়েছে এবং জোটটির প্রতি লন্ডনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্য ইঙ্গিত করছে যে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে পশ্চিমা সামরিক জোট হিসেবে ন্যাটো সরাসরি জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা আপাতত কম। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পদক্ষেপকে অনেক দেশ বিচ্ছিন্ন সামরিক উদ্যোগ হিসেবে দেখছে, ন্যাটোর সম্মিলিত অভিযানের অংশ হিসেবে নয়।


