Showing posts with label জাতীয়. Show all posts
Showing posts with label জাতীয়. Show all posts

Friday, August 21, 2026

মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন চারজন, রাতে শপথ

মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন চারজন, রাতে শপথ

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় আরো চারজন যুক্ত হচ্ছেন। শুক্রবার রাতে বঙ্গভবনে দরবার হলে মন্ত্রিসভার নতুন চার সদস্যকে শপথ পড়াবেন নতুন রাষ্ট্রপতি।

শুক্রবার মন্ত্রিপরিষদ সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।


মন্ত্রিসভার নতুন চার সদস্য হলেন– বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান এমপি, জাতীয় পাটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ এমপি, বান্দরবান থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী ও গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন।

মন্ত্রিপরিষদ সূত্রে জানা গেছে, বিমান মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়েও রদবদল হতে পারে।


এদিকে রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানের জন্য বঙ্গভবনের দরবার হল প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম।

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সব আয়োজন শেষ হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এই শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করছে।’

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, এই শপথ অনুষ্ঠানে বারোশ অধিক অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় নবনির্বাচিত দরবার হলে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ নেবেন। ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি এই শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন।

রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে পাঠানো আমন্ত্রণ কার্ডে বলা হয়েছে, সন্ধ্যায় সাড়ে ৭টায় মহামান্য রাষ্ট্রপতি দরবার হলে আগমণ করবেন। জাতীয় সঙ্গীত ও কোরআন তিলাওয়াতের পর মাননীয় স্পিকার রাষ্ট্রপতির শপথ পরিচালনা করবেন।


সূত্রঃ দৈনিক কালের কণ্ঠ।

Wednesday, August 12, 2026

পদত্যাগ করছেন মির্জা ফখরুল

পদত্যাগ করছেন মির্জা ফখরুল

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর 

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়। বিএনপির মনোনীত প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি হওয়ার বিষয়টি অনেকটাই নিশ্চিত। 

গত কয়েক সপ্তাহের আলোচনা, দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বৈঠক এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক তৎপরতায় সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম।


রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামই এখন সবচেয়ে জোরালোভাবে আলোচনায়। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার তার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে। 


রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন চূড়ান্ত হলে স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর পদ থেকে মির্জা ফখরুলকেও পদত্যাগ করতে হবে। একই সঙ্গে বিএনপির মহাসচিব পদেও আসতে পারে পরিবর্তন।


তবে রাষ্ট্রপতি পদে তার মনোনয়ন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি বিএনপি। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। ফলে শেষ সিদ্ধান্তের জন্য এখন দলের শীর্ষ নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা।


নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিন। ওই দিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে।


জানা গেছে, আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিএনপির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে মির্জা ফখরুলের স্থানীয় সরকারমন্ত্রী হিসেবে শেষ কর্মদিবস আজ অথবা আগামীকাল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

তবে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কিছু দায়িত্ব পালন করার সুযোগ তার থাকতে পারে। ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে।


রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে গত কয়েক দিন ধরে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মির্জা ফখরুলের পাশাপাশি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নামও বেশ জোরেশোরে আলোচনায় আসে।


এ ছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ড. আবদুল মঈন খানের নাম নিয়েও দলের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত মির্জা ফখরুলের নামই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।


গত ১ আগস্ট বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হয়। বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল নিজেই সাংবাদিকদের বিষয়টি জানিয়েছিলেন।


দলের ভেতরে মির্জা ফখরুলের নাম গুরুত্ব পাওয়ার পেছনে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকেই সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিএনপির মহাসচিব হিসেবে এক দশকের বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। জাতীয় রাজনীতিতে তার পরিচিতি দীর্ঘদিনের। পাশাপাশি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার।


দলের নেতাকর্মীদের মতে, বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকটের সময় মির্জা ফখরুল সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দলের নানা প্রতিকূলতার সময় তিনি নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন। পরে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বেও বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।


রাষ্ট্রপতি পদে নিজের সম্ভাব্য মনোনয়ন নিয়ে মির্জা ফখরুল অবশ্য এখনো সরাসরি কিছু বলেননি। গতকাল বিকেলে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে এই মুহূর্তে কিছুই বলার নেই। ১৩ আগস্টের পর দলীয় মনোনয়নের বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে।


তিনি বলেন, বিষয়টি একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। লুকোচুরির বিষয় নেই। আমরা দলের সর্বোচ্চ ফোরামের সিদ্ধান্ত আগেই জানিয়েছি—রাষ্ট্রপতি প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত করবেন পার্টির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি।


রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যরাই ভোটার। গত বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার হিসেবে ৩৪৯ জন সংসদ সদস্যের তালিকা প্রকাশ করেছে।


তপশিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা, ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই এবং ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। ভোট হবে ২০ আগস্ট। ওই দিন জাতীয় সংসদের অধিবেশনকক্ষে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে।


সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর এই ব্যবস্থা চালু হয়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের প্রকাশ্য ভোটের বিধান থাকায় কে কোন প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন, তা গোপন থাকে না।

সূত্রঃ এশিয়া পোস্ট।

Thursday, July 30, 2026

নবম পে স্কেল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুখবর দিলেন অর্থমন্ত্রী

নবম পে স্কেল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুখবর দিলেন অর্থমন্ত্রী

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম বেতন কাঠামো (পে স্কেল) বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, আনুষঙ্গিক কাজ শেষ হলেই প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে এবং অনুমোদন মিললে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

বুধবার (২৯ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন বেতন কাঠামোর অগ্রগতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে নানা ধরনের সংবাদ প্রকাশিত হলেও সরকার নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী দ্রুত কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।

নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে ঋণ পেতে কোনো সমস্যা হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আইএমএফের ঋণের সঙ্গে পে-স্কেল বাস্তবায়নের কোনো সম্পর্ক নেই।


Monday, July 27, 2026

সাবেক ৩২ ডিসি, বাধ্যতামূলক অবসরে

সাবেক ৩২ ডিসি, বাধ্যতামূলক অবসরে

 

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ ২০১৮ সালের ‘বিতর্কিত’ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করা তৎকালীন জেলা প্রশাসক (ডিসি)সহ ৩২ জন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। সবশেষ যুগ্ম সচিব (ওএসডি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন তারা।

সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, তাদের চাকরিকাল ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে এবং যেহেতু সরকার জনস্বার্থে তাকে সরকারি চাকরি হতে অবসর প্রদান করা প্রয়োজন মর্মে বিবেচনা করে; সেহেতু সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ৪৫ ধারার প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকারি চাকরি হতে অবসর প্রদান করা হয়েছে। বিধি অনুযায়ী এসব কর্মকর্তা অবসরজনিত সুবিধাদি প্রাপ্য হবেন।

বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো এই কর্মকর্তারা বিভিন্ন জেলায় জেলা প্রশাসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। 

তারা হলেন— পটুয়াখালীর মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী, ভোলার মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক, বরিশালের এস এম অজিয়র রহমান, ফেনীর ওয়াহেদুজ্জামান, খাগড়াছড়ির মো. শহীদুল ইসলাম, ঝিনাইদহের সরোজ কুমার নাথ, পাবনার মো. জসিম উদ্দিন, সুনামগঞ্জের মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ, কক্সবাজারের মো. কামাল হোসেন, রাঙামাটির এ কে এম মামুনুর রশিদ, লক্ষ্মীপুরের অঞ্জন চন্দ্র পাল, চট্টগ্রামের মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, ময়মনসিংহের মো. মিজানুর রহমান, এ জেড এম নুরুল হক, শরীয়তপুরের কাজী আবু তাহের, নাটোরের মো. শাহরিয়ার, বান্দরবানের মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম, নেত্রকোনার মঈনউল ইসলাম, কুষ্টিয়ার মো. আসলাম হোসেন, কুমিল্লার আবুল ফজল মীর, চাঁদপুরের মো. মাজেদুর রহমান খান, মানিকগঞ্জের এস এম ফেরদৌস, চুয়াডাঙ্গার গোপাল চন্দ্র দাশ, নীলফামারীর নাজিয়া শিরিন, কুড়িগ্রামের মোছা. সুলতানা পারভীন, শেরপুরের আনারকলি মাহবুব, খুলনার মো. হেলাল হোসেন, নরসিংদীর সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন, কিশোরগঞ্জের মো. সারওয়ার মোর্শেদ চৌধুরী, হবিগঞ্জের মাহমুদুল কবির মুরাদ, মো. আলী আকবর ও রাজশাহীর এস এম আব্দুল কাদের।

যুগ্ম সচিব পদের এসব কর্মকত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

Sunday, July 26, 2026

বঙ্গভবন ছাড়লেন সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি চুপ্পু

বঙ্গভবন ছাড়লেন সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি চুপ্পু

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ পদত্যাগের দুদিন পর বঙ্গভবন ছাড়লেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। রোববার (২৬ জুলাই) দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে তিনি বঙ্গভবন ছেড়ে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবন গ্রিন ভিলার উদ্দেশে রওনা হন।

গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। সংবিধান অনুযায়ী তিনি পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হলেও দায়িত্ব পালন করেন তিন বছর তিন মাস।

Thursday, June 11, 2026

তারেক রহমানের সরকারের প্রথম বাজেটে যেসব বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে

তারেক রহমানের সরকারের প্রথম বাজেটে যেসব বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ বাংলাদেশের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট ঘোষণা করা হবে। এটিই হবে গত ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট।

সরকারের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে আজ বেলা তিনটায় এই বাজেট ঘোষণা করবেন, যার সম্ভাব্য আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা হতে পারে বলে জানিয়েছে সরকারি বার্তা সংস্থা বাসস।

এটিই হবে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট এবং সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার পূরণের চাপ থেকেই বাজেটের আকার এত বড় হচ্ছে বলে আভাস দিয়েছে অর্থবিভাগ।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বাসস বলছে, প্রস্তাবিত বাজেটে আগামী অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ৬৮ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে। একই সাথে বাজেটে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে সাড়ে ৬ শতাংশ।

গত কয়েকবছর ধরে দেশে উচ্চমূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, এ বছর মে মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে বাজেটে মূল্যস্ফীতি সাড়ে সাত শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া বাজেটে উদ্যোক্তা উন্নয়ন তহবিলে ২২৫ কোটি টাকা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্য ২ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের প্রস্তাব থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের ঘোষণাও আসতে পারে।

বাজেটের খসড়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সম্প্রসারণ ও ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ তেরটি ইস্যুকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

Tuesday, June 2, 2026

ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের আত্মপ্রকাশ

ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের আত্মপ্রকাশ

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষা, সাংবাদিকতার মানোন্নয়ন এবং সম্পাদকদের পেশাগত স্বার্থ সুরক্ষার লক্ষ্যে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল বা এনইসি গঠন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দৈনিক আমার দেশ কার্যালয়ে এক বৈঠকে বিভিন্ন দৈনিকের সম্পাদকেরা এই কাউন্সিল গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। বৈঠকে যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমানকে আহ্বায়ক ও আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ১৩ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।

এই কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—নয়া দিগন্ত সম্পাদক সালাহ উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, কালের কণ্ঠ সম্পাদক হাসান হাফিজ, যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক মারুফ কামাল খান সোহেল, সংগ্রাম সম্পাদক আযম মীর শাহীদুল আহসান, নিউ নেশন সম্পাদক মোকাররম হোসেন, ওয়াদা সম্পাদক শফিকুল আলম, মানব কণ্ঠ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, লোকসমাজ সম্পাদক শান্তনু ইসলাম সুমিত, ডেইলি পিপলস ভিউ সম্পাদক ওসমান গনি মনসুর ও জালালাবাদ সম্পাদক মুকতাবিস উন নূর।


ফ্যাসিবাদের দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনামলে সংবাদমাধ্যমের যে অবক্ষয় ঘটেছে, তার অবসানের লক্ষ্যে নতুন এই সংগঠন তৈরির প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে সম্পাদকেরা ঐকমত্য পোষণ করেন।


বৈঠকে সংগঠনের গঠনতন্ত্র প্রণয়ন, সাংবাদিকদের পেশাগত উৎকর্ষ অর্জনের লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং যত দ্রুত সম্ভব জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিকের সম্পাদকদের নিয়ে জাতীয় কনভেনশন আয়োজনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।


সূত্রঃ দৈনিক আমার দেশ।

Monday, June 1, 2026

৫ জুন ঘোষণা হতে পারে জামায়াতের ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’

৫ জুন ঘোষণা হতে পারে জামায়াতের ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’

সংগৃহীত ছবি 


তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও বিকল্প নীতি উপস্থাপনের লক্ষ্য নিয়ে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ বা ‘ছায়া সরকার’ গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াত। সুত্র জানায় ৫ জুন এই ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ ঘোষণা হতে পারে।


দলীয় এমপিদের নিয়ে এই কাঠামো গঠনের কাজ প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

দলীয় সূত্র জানায়, সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রচলিত ওয়েস্টমিনস্টার মডেল অনুসরণ করে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে চারটি মূল লক্ষ্য সামনে রেখে এই ছায়া সরকার গঠন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে অনানুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।

আগামী ৭ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া বাজেট অধিবেশনকে কেন্দ্র করে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি চলছে। জোটের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, অধিবেশনের শেষ দিকে ছায়া সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

এর আগে ৫ ও ৬ জুন দলীয় এমপিদের নিয়ে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে ছায়া সরকারের কাঠামো, দায়িত্ব বণ্টন এবং কার্যপদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। 

পাশাপাশি কোন এমপি কোন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব নিতে আগ্রহী, তা-ও জানা হবে। পরে নীতিনির্ধারক পর্যায় থেকে নির্দিষ্ট দায়িত্ব বণ্টন করা হবে। একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব এক ব্যক্তিকে দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
ছায়া সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য হিসেবে চারটি বিষয়কে সামনে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, সরকারি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, বিকল্প নীতি ও কর্মপরিকল্পনা প্রস্তাব, বিরোধী নেতাদের প্রশাসনিক বিষয়ে দক্ষ করে তোলা এবং সরকারের ভুল-ত্রুটি জনসমক্ষে তুলে ধরে জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

বিষয়টি সম্পর্কে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও এমপি রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ছায়া সরকার গঠনের বিষয়ে আগেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, এখন সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি চলছে। সময়মতো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।

আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানান, কাঠামোগত কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং অনানুষ্ঠানিকভাবে কিছু কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বাজেট অধিবেশনের পর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।


দলীয় এমপিদের মধ্যে সম্ভাব্য দায়িত্ব বণ্টন নিয়েও আলোচনা চলছে। প্রাথমিক তালিকায় স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা, স্থানীয় সরকার, আইন, তথ্য ও সম্প্রচার, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আইসিটি, ধর্ম, শ্রম ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওয়েস্টমিনস্টার ধাঁচের সংসদীয় ব্যবস্থায় ছায়া সরকার বিরোধী দলের নীতি প্রণয়ন ও সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনার একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। 

সরকারে থাকা প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে একজন ছায়া মন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেন, যিনি সংশ্লিষ্ট নীতি পর্যবেক্ষণ ও বিকল্প প্রস্তাব দেন।

সূত্রঃ বাংলাদেশ বুলেটিন।

যদিও বাংলাদেশে এ ধরনের কাঠামো আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন, তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিরোধী জোটের এ উদ্যোগ সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। 

সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা না থাকলেও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় শক্তিশালী বিরোধী ভূমিকা নিশ্চিত করতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

Wednesday, May 20, 2026

মন্ত্রিসভার আকার বাড়ছে, ঠাঁই পেতে পারেন শরিকরা

মন্ত্রিসভার আকার বাড়ছে, ঠাঁই পেতে পারেন শরিকরা

 তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ এবং বড় ধরনের রদবদলের জোর আলোচনা চলছে সরকারের ভেতরে। বর্তমান ৫০ সদস্যের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আরো সাত-আটজন নতুন মুখ যুক্ত হতে পারে। তবে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র জানায়, মন্ত্রিসভার আকার ৬০ জনের বেশি হবে।

সূত্র জানায়, কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর কাজে দুর্বলতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে এসেছে। এজন্য প্রবীণ-নবীনের সমন্বয়ে মন্ত্রিসভার আকার বৃদ্ধির ব্যাপারে আলোচনা চলছে। এ ধাপের রদবদলে মন্ত্রীর পাশাপাশি উপমন্ত্রীও থাকতে পারেন। এদের মধ্যে দলের প্রবীণ সংসদ সদস্য, দুয়েকজন নারী সংসদ সদস্য এবং যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলের দুয়েকজন থাকতে পারেন। টেকনোক্র্যাট কোটায় একজনকে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনাও রয়েছে। এছাড়া দুজন নতুন উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।

সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, রাষ্ট্র পরিচালনায় গতিশীলতা বাড়াতে এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজে সমন্বয় আনতে খুব শিগগির মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। তবে কবে নাগাদ মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ করা হবে, তার সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ কেউ বলতে পারছেন না। জনগণের সেবার মান বাড়ানোর আকাঙ্ক্ষাও মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অন্যতম কারণ।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শীর্ষপর্যায়ের এক মন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর চাহিদা অনুযায়ী মন্ত্রিসভার আকার বড় হতে পারে। দপ্তরও রদবদল হতে পারে। খুব শিগগির এ ঘোষণা আসতে পারে।


এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, ‘মন্ত্রিসভার সম্পূর্ণ এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর। তিনি কখন কাকে নেবেন, কোথায় দেবেনÑএটা তার (প্রধানমন্ত্রীর) এখতিয়ার।’


নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, কয়েকজনের ফাইল প্রস্তুত করা হচ্ছে। তবে নতুন মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের নাম কবে ঘোষণা করা হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত নির্দেশনা আসেনি। তিনি জানান, মন্ত্রিসভার কয়েকজনের অভিজ্ঞতার ঘাটতি রয়েছে। সে কারণেই নতুন মন্ত্রী ও উপদেষ্টা যুক্ত করে সরকারের কার্যক্রম আরো গতিশীল ও কার্যকর করার চিন্তা করা হচ্ছে। কাউকে কাউকে দপ্তরবিহীন মন্ত্রীও করা হতে পারে।


মন্ত্রিসভায় ইতোমধ্যে পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন অনেকে। গত ৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর দুজন উপদেষ্টাকে গুরুত্বপূর্ণ দুটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আট প্রতিমন্ত্রীর কাজের চাপ কমাতে দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। এ পদক্ষেপগুলোকে মন্ত্রিসভার বড় ধরনের পুনর্গঠনের প্রাথমিক ধাপ হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো কোনো মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর অধীন একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থাকায় তারা কাজ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। ফলে কাজে আরো গতি আনতে এবং জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে মন্ত্রিসভার আকার বাড়ানো হলে তা হবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সময়োপযোগী ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ক্ষমতাবলে যেকোনো সময় এ ঘোষণা আসতে পারে, যা সরকারের আগামী দিনের পথচলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


বর্তমান মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী বাদে ২৫ জন মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। ৪৯ সদস্যর এ মন্ত্রিসভায় উপমন্ত্রী নেই। ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের আমলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় ২৮ জন মন্ত্রী, ২৮ জন প্রতিমন্ত্রী এবং চারজন উপমন্ত্রী ছিলেন। সে সময় প্রথম দফায় খালেদা জিয়া ৪৬ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করেছিলেন। পরে প্রয়োজন অনুসারে ওই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৬০ জনে।


মন্ত্রিসভার রদবদল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান জানান, সংসদীয় গণতন্ত্রে মন্ত্রিসভায় নতুন যুক্ত বা রদবদল হওয়া বিচিত্র ব্যাপার নয়, এটা স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু তার মানে এটা এখন হবে বা তখন হবে, এমন নয়। এটা একমাত্র প্রধানমন্ত্রী জানেন। প্রধানমন্ত্রী যখন মনে করবেন কাউকে দায়িত্ব দেবেন আবার কাউকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেবেন, এটা তার এখতিয়ার।


আলোচনায় যেসব মন্ত্রণালয়


একাধিক মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার চায় স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রতিটি সেক্টরে আরো দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা। মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য এ সম্প্রসারণ সে লক্ষ্যপূরণের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।


সরকার ও বিএনপির সূত্রগুলো বলছে, ২০০১ সালের মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যার সমান হতে পারে নতুন মন্ত্রিসভা। কারণ, গুরুত্বপূর্ণ একাধিক মন্ত্রণালয়ে এখনো কোনো মন্ত্রী দেওয়া হয়নি। যদিও সম্ভাব্য বর্ধিত মন্ত্রিসভায় কারা স্থান পাচ্ছেন, সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো নাম এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত এবং রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং বিভিন্ন সেক্টরে দক্ষ ও প্রতিষ্ঠিত এমন সক্রিয় নেতাদের মধ্য থেকেই নতুন মুখ মন্ত্রিসভায় বেছে নেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। বিভাগ ও জেলাভিত্তিক জনপ্রতিনিধিত্বের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।

আলোচনায় এগিয়ে যারা


বিএনপির নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানায়, বিএনপির স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ সদস্যকে মন্ত্রিসভার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হলেও ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং বেগম সেলিমা রহমান এখনো সরকারের বাইরে আছেন। ২০০১ সালে খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় চারজনই ছিলেন। এবার তাদের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে দেখা যেতে পারে। তবে সংসদ উপনেতা পদে খন্দকার মোশাররফ হোসেন এগিয়ে আছেন।


অনেকের মতে, সবার কাছে দলের প্রবীণ নেতাদের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তাদের মন্ত্রিসভায় নিলে আগের অভিজ্ঞতার আলোকে তারা ভালো করবেন। তরুণ-প্রবীণের সংমিশ্রণে সরকারের কাজে গতি বাড়বে।


সম্ভাব্য বর্ধিত মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে আলোচনায় আছেনÑনোয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এবং সাবেক বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বরকত উল্লাহ বুলু, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির ঢাকা বিভাগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উপদেষ্টা প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন বকুল, নেত্রকোনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক বিশিষ্ট অর্থপেডিক সার্জন অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক, খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজগর লবি, গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম এবং ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুল।


মূল্যায়ন করা হতে পারে শরিকদেরও


যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোকে নিয়ে জাতীয় সরকার গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিএনপি। সে সময় শরিকদের বলা হয়েছিল, নির্বাচনে জয়লাভ করে আসতে পারলে বা পরাজিত হলেও সবাইকে নিয়ে জাতীয় সরকার গঠন করবে বিএনপি। এরই অংশ হিসেবে গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর, এনডিএমের ববি হাজ্জাজ ও গণতন্ত্র মঞ্চের জোনায়েদ সাকিকে প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। কিন্তু ১২ দলীয় জোটের লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম ও বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ রাজপথে সক্রিয় থাকলেও তাদের কাউকে মন্ত্রিসভায় রাখা হয়নি। এমনকি নির্বাচনে পরাজিত হলেও কাউকে টেকনোক্র্যাট কোটায় বিবেচনা করা হয়নি। নির্বাচনে পরাজিতদের মধ্যে টেকনোক্র্যাট কোটায় বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী ড. রেদোয়ান আহমেদের নাম আলোচনায় আছে।


এদের মধ্যে শাহাদাত হোসেন সেলিমের নামে ২০১৪ সালে মৎস্য ভবনের সামনে পুলিশ হত্যার মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। নির্বাচনের আগে নিজ দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেন সাবেক ছাত্রদল নেতা সেলিম। বিগত আন্দোলন-সংগ্রামেও বিএনপির পরীক্ষিত মিত্র তিনি। বিএনপির হাইকমান্ডের সুনজরে আছেন। অপরদিকে, আন্দালিভ রহমান পার্থের নাম শুরু থেকে আলোচনায় থাকলেও পরে মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাননি। তবে তিনি জামায়াতের বিরুদ্ধে অন্যদের তুলনায় সংসদে বেশ সক্রিয়।


টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী


দুয়েকজনকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী করা হতে পারে বলে জানা গেছে। তবে আলোচনায় সবার চেয়ে এগিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি মন্ত্রিসভায় গেলে তার জায়গায় অন্য কাউকে উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। কারণ, বিগত ১১ বছর ধরে তিনিই দলের মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। খালেদা জিয়া মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত একটানা দুই বছর তিন মাস তিনি নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থান করেন। এছাড়া আলোচনায় আছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবং মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. মওদুদ আহমেদ পাভেল।


সূত্রঃ দৈনিক আমার দেশ।

Thursday, May 7, 2026

দেশের নতুন পাঁচ উপজেলা গঠন

দেশের নতুন পাঁচ উপজেলা গঠন

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ বগুড়া সিটি করপোরেশনসহ পাঁচটি নতুন উপজেলা গঠন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১২০তম বৈঠকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৈঠকে বগুড়া সিটি করপোরেশন, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলাকে ভাগ করে ‘মোকামতলা’, কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলাকে ভাগ করে ‘মাতামুহুরী’, ঠাকুরগাঁওয়ের সদর উপজেলাকে ভাগ করে ‘রুহিয়া’ ও ‘ভুল্লী’ এবং লক্ষীপুরের সদর উপজেলাকে ভাগ করে ‘চন্দ্রগঞ্জ’ নামে নতুন উপজেলা গঠন করা হয়েছে।

বর্তমানে দেশের ৮টি বিভাগের অধীনে মোট ১২টি সিটি করপোরেশন রয়েছে। সর্বশেষ নতুন ১৩তম সিটি করপোরেশন বগুড়া সিটি করপোরেশন। সিটি করপোরেশন হলো– ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, খুলনা সিটি করপোরেশন, রাজশাহী সিটি করপোরেশন, বরিশাল সিটি করপোরেশন, সিলেট সিটি করপোরেশন, রংপুর সিটি করপোরেশন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন, গাজীপুর সিটি করপোরেশন, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন ও ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন।

এছাড়াও দেশে বর্তমানে মোট ৪৯৫টি উপজেলা রয়েছে। নতুন এই পাঁচটি নিয়ে উপজেলার সংখ্যা হবে ৫০০। 

এর আগে, সর্বশেষ মাদারীপুরের ডাসার উপজেলা, কক্সবাজারের ঈদগাঁও এবং সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলা গঠন করা হয়।

Wednesday, May 6, 2026

নবম পে-স্কেলে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতন কত ধরা হয়েছে?

নবম পে-স্কেলে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতন কত ধরা হয়েছে?


তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ২৩ সদস্যের বেতন কমিশন ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে বেতন-ভাতা বৃদ্ধির সুপারিশ সংবলিত প্রতিবেদন জমা দেয়। তখন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের বর্তমান ব্যয় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। কমিশনের প্রস্তাব বাস্তবায়নে প্রয়োজন হতে পারে আরও ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা।

বেসামরিক কর্মচারীদের পাশাপাশি জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন ও সশস্ত্র বাহিনীর জন্যও বেতন কমিটির প্রতিবেদন প্রস্তুত হয়েছে। 

তিনটি প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে বাস্তবায়নের সুপারিশ তৈরির জন্য বিএনপি সরকার গত মাসে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে। এ কমিটিই তিন ধাপে বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করবে। এতে সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার, সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়।প্রস্তাবিত কাঠামোয় ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ রয়েছে। তবে গ্রেড রাখা হয়েছে আগের মতো ২০টি। সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ১:৮, যা আগে ছিল ১:৯ দশমিক ৪। সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা প্রস্তাব রাখা হয়েছে। 

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিব ও সিনিয়র সচিবদের জন্য ২০ ধাপের বাইরে আলাদা ধাপ নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে, যা নিয়ে পরে প্রজ্ঞাপন আকারে জারি হবে।

Tuesday, May 5, 2026

স্থানীয় সরকার নির্বাচন কখন, জানালেন মন্ত্রী

স্থানীয় সরকার নির্বাচন কখন, জানালেন মন্ত্রী

মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর 

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আগামী এক বছরের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। যা আমরা আগেও বলেছি, এখনো বলছি।’

মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের ষষ্ঠ অধিবেশন শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘জেলা প্রশাসকরা আমাদের মন্ত্রণালয় সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন।

কিছু পরামর্শও দিয়েছেন তারা। আমরা পরামর্শগুলো গ্রহণ করেছি। কেননা স্থানীয় সরকার হচ্ছে গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় ভিত্তি। তৃণমূলের সবচেয়ে বড় শক্তিশালী একটি প্রতিষ্ঠান।
আর এ প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে পারলে গণতন্ত্র আরো শক্তিশালী হবে।’

জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ডিসিদের কাজ করতে হবে জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘স্থানীয় পর্যায়ে জেলা প্রশাসকদের নেতৃত্ব দিতে হবে। সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়নে তাদের কাজ করতে হবে। অর্থাৎ জনগণকে সঙ্গে নিয়েই ডিসিদের কাজ করতে হবে।

কারণ জনগণই হচ্ছে এই দেশের মালিক।’

তিনি বলেন, ‘বিগত বছরগুলোতে স্থানীয় সরকারের জায়গাটায় অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক হচ্ছে যে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। সেসব বিষয় মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে আমরা তদন্ত করব। একই সঙ্গে সেগুলো যেন ভবিষ্যতে না ঘটে, সেটাও দেখব।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যেসব কর্মসূচি রয়েছে, সেসব বাস্তবায়িত করার চেষ্টা করব।’

Thursday, April 30, 2026

শেষ হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন

শেষ হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ রাষ্ট্রপতির ঘোষণা পাঠ করার মাধ্যমে শেষ হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাত ৯টায় স্পিকারের সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ২৫ কার্যদিবসের এই অধিবেশনের সমাপ্তি ঘটে।

গত ১২ মার্চ এই সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছিল। অধিবেশনের শেষ দিনে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সমাপনী বক্তব্য দেন।


বৃহস্পতিবার (আজ) সংসদ অধিবেশনের বিকেলের অংশে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং সকালে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।


সমাপনী ভাষণে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন কিছুক্ষণের মধ্যে সমাপ্ত হতে যাচ্ছে। সংসদ পরিচালনায় আপনাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতার জন্য আমি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।’ দীর্ঘ ১৮ বছর পর জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের গুরুত্ব উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা, দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করাই এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য।

অধিবেশনে স্পিকার উল্লেখ করেন যে, বিশ্বখ্যাত মার্কিন সাময়িকী ‘টাইম ম্যাগাজিন’-এ বিশ্বের ১০০ জন প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্থান পাওয়া বাংলাদেশের জন্য এক বড় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে তাকে এই অনন্য অর্জনে অভিনন্দন জানানো হয়।


সংসদীয় কার্যক্রমের খতিয়ান তুলে ধরে স্পিকার জানান, এবারের অধিবেশনে মোট কার্যদিবস ছিল ২৫টি। ১৩৩টি অধ্যাদেশের বিপরীতে ৯১টি বিল এবং সমাপনী দিনে আরও ২টি বিলসহ মোট ৯৪টি বিল পাস হয়েছে। এছাড়া ৫টি স্থায়ী কমিটি ও ২টি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রীর জন্য ৯৩টি প্রশ্নের মধ্যে ৩৫টি এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের জন্য ২ হাজার ৫০৯টি প্রশ্নের মধ্যে ১ হাজার ৭৭৮টি প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেছে।


এবারের সংসদে ২২০ জন সদস্য প্রথমবার নির্বাচিত হয়ে এসেছেন উল্লেখ করে তাদের গঠনমূলক আলোচনার প্রশংসা করেন স্পিকার। তিনি বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ তার বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিতে দেশ গড়ার আহ্বান জানান। তিনি বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ এবং গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে খাল খনন কর্মসূচির প্রশংসা করেন। পাশাপাশি ফ্যাসিস্ট আমলের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার অঙ্গীকারও তার বক্তব্যে উঠে আসে।


অধিবেশন শেষে দেশ ও জাতির সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করে স্পিকার রাষ্ট্রপতির সমাপনী আদেশ পাঠের মাধ্যমে অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।