সর্বশেষ

Friday, October 9, 2026

শান্তিতে নোবেল পেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার নাভি পিল্লাই

শান্তিতে নোবেল পেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার নাভি পিল্লাই

নাভি পিল্লাই নোবেল বিজয়ী 

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ শান্তিতে নোবেল পেলেন মানবাধিকার কর্মী নাভি পিল্লাই। যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় তাকে মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নরওয়ের নোবেল কমিটি।

নাভি পিল্লাই দক্ষিণ আফ্রিকার একজন বিশিষ্ট মানবাধিকার আইনজীবী এবং বিচারক।

তিনি ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৮৯৫ সালে সুইডিশ শিল্পপতি আলফ্রেড নোবেলের উইলের মাধ্যমে সৃষ্ট এই শান্তি পুরস্কার তাকেই দেওয়া হয়, যিনি বা যারা জাতিগুলোর মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ বৃদ্ধি, স্থায়ী সেনাবাহিনী বিলুপ্ত কিংবা হ্রাস এবং শান্তি প্রতিষ্ঠা ও প্রসারে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছেন।

Thursday, October 8, 2026

দুর্গাপূজার ছুটি পুনর্নির্ধারণ করল মন্ত্রিসভা, কত দিন মিলছে?

দুর্গাপূজার ছুটি পুনর্নির্ধারণ করল মন্ত্রিসভা, কত দিন মিলছে?

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। এর ফলে পূজার ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) অতিরিক্ত সরকারি ছুটি ঘোষণার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার) মহানবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে ছুটি এবং ২১ অক্টোবর (বুধবার) বিজয়া দশমী উপলক্ষে সাধারণ ছুটি রয়েছে। এরপর ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার অফিস খোলার কথা ছিল। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের ফলে ওই দিনও ছুটি থাকছে।

এর পরের দুই দিন ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্র ও শনিবার হওয়ায় সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে ২০ অক্টোবর থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন সরকারি ছুটি ভোগ করবেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

অর্থাৎ দুর্গাপূজার ছুটির সঙ্গে একদিনের অতিরিক্ত ছুটি এবং পরপর দুই দিনের সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে এই পাঁচ দিনের ছুটি তৈরি হচ্ছে।

মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর ২২ অক্টোবর ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

নবীনবরণ ঠেকাতে কলেজে তালা, রাস্তায় শিবিরের অনুষ্ঠান

নবীনবরণ ঠেকাতে কলেজে তালা, রাস্তায় শিবিরের অনুষ্ঠান

 

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ ঝিনাইদহের সরকারি কেশব চন্দ্র (কেসি) কলেজে ছাত্রশিবিরের নবীনবরণকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় সব ধরনের সভা, সমাবেশ, মিছিল ও মিটিং অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কলেজ প্রশাসন। একই সঙ্গে কলেজ ক্যাম্পাসে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে কলেজের সামনে সমাবেশ ও সড়ক আটকে উন্মুক্ত রাস্তায় প্রতীকী নবীনবরণ আয়োজন করে ছাত্রশিবির।

এ সময় কলেজের তালাবদ্ধ প্রধান ফটকের সামনে পুলিশ অবস্থান নেয়। পরে সড়কে ট্রাকের ওপর ভ্রাম্যমাণ মঞ্চ তৈরি করে প্রতিবাদ সমাবেশ করে ছাত্রশিবির। এতে জেলা জামায়াতের আমির ও ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মোহাম্মদ আবু বকর, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল আওয়াল ও সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান বক্তব্য দেন। এ সময় জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিবাদ সমাবেশে সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কলেজের প্রিন্সিপাল ও ভাইস প্রিন্সিপাল ফ্যাসিবাদী আচরণ করেছেন। নবীনবরণের অনুমতি দেওয়ার পরও অনুষ্ঠানের দিন কলেজ বন্ধ করে প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। কলেজ প্রশাসনের এই আচরণের বিচার ঝিনাইদহের মানুষ করবে। প্রিন্সিপাল ও ভাইস প্রিন্সিপালকে এর জন্য জবাবদিহি করতে হবে।

সমাবেশে বক্তারা কলেজের প্রিন্সিপাল ও ভাইস প্রিন্সিপালের পদত্যাগ দাবি করেন। পরবর্তীতে ঝিনাইদহ শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপহারসামগ্রী বিতরণ করে কেসি কলেজ শাখা ছাত্রশিবির। এ সময় ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুর রহমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন।

এদিকে, এ ঘটনায় সরকারি কেসি কলেজের প্রিন্সিপাল ড. মাসরুর উল আলমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


Wednesday, October 7, 2026

উপজেলা পরিষদের ‘পরিদর্শন কক্ষ’ শুধু এমপিদের জন্য সংরক্ষণের নির্দেশ

উপজেলা পরিষদের ‘পরিদর্শন কক্ষ’ শুধু এমপিদের জন্য সংরক্ষণের নির্দেশ

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ উপজেলা পরিষদে সংসদ সদস্যদের জন্য বরাদ্দ করা ‘পরিদর্শন কক্ষ’ শুধুমাত্র সংসদ সদস্যদের জন্য সংরক্ষণ করার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। বুধবার (৭ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার বিভাগের উপজেলা-২ শাখা থেকে দেশের সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা পরিষদের প্রশাসকের কাছে এ নির্দেশনা পাঠানো হয়।

স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. মোজাম্মেল হক স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, উপজেলা পরিষদ আইন, ১৯৯৮-এর ২৫ ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য উপজেলা পরিষদের উপদেষ্টা। একই সঙ্গে উপজেলা পরিষদ সংসদ সদস্যের উপদেশ গ্রহণ করবে। চিঠিতে বলা হয়, সংসদ সদস্যদের উপজেলা পরিষদ-সংক্রান্ত উপদেশমূলক কার্যক্রম পরিচালনা ও তদারকির সুবিধার্থে উপজেলা পরিষদে তাদের জন্য ‘পরিদর্শন কক্ষ’ নির্মাণ ও বরাদ্দ করা হয়েছে। এ অবস্থায় সংসদ সদস্যদের নামে বরাদ্দ করা এসব পরিদর্শন কক্ষ অন্য কারও ব্যবহারের জন্য না দিয়ে শুধু সংসদ সদস্যদের জন্য সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে।

একইসঙ্গে কক্ষগুলোর যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৯৮ সালের উপজেলা পরিষদ আইনটি ২০০৯ ও ২০২৬ সালে সংশোধন করা হয়েছে।

Tuesday, October 6, 2026

ঢাকায় হত্যার পর নীলফামারীতে মাটিচাপা, মাটি খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার

ঢাকায় হত্যার পর নীলফামারীতে মাটিচাপা, মাটি খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার


মাহমুদ আল হাছান তিস্তা নিউজ ঃ ঢাকায় হত্যার পর নীলফামারীর ডিমলায় এনে মাটিচাপা দেওয়া রাকিব ইসলাম (১৭) নামে এক কিশোরের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে ডিমলা উপজেলার ছাতনাই ইউনিয়নের বালাপাড়া গ্রাম থেকে মাটি খুঁড়ে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত রাকিব ইসলাম টাঙ্গাইলের গোপালপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার খাদেমুল ইসলামের ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক মাস আগে ঢাকায় রাকিব ইসলামের সঙ্গে ডিমলা উপজেলার ছাতনাই ইউনিয়নের বালাপাড়া গ্রামের মামুনের পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জেরে মামুন রাকিবকে হত্যা করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

হত্যার পর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে মামুন বিশেষ কায়দায় কার্টুনে মুড়িয়ে বাসের লকারে করে তাঁর গ্রামের বাড়ি ডিমলার ছাতনাই ইউনিয়নের বালাপাড়া গ্রামে নিয়ে যান। সেখানে মরদেহটি মাটিচাপা দিয়ে আবার ঢাকায় ফিরে যান তিনি।

পুলিশ জানায়, ঢাকায় ফিরে মামুন এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি ভিডিও তৈরি করেন। পরে ওই ভিডিও দেখিয়ে রাকিবের পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে টাকা নেন। টাকা নেওয়ার পরও রাকিবকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে না দেওয়ায় স্বজনেরা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগের পর পুলিশ তদন্তে নেমে ঢাকার শুক্রাবাদ এলাকা থেকে মামুনকে গ্রেপ্তার করে। পরে মামুনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নীলফামারীর ডিমলায় রাকিবের মরদেহ মাটিচাপা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয় পুলিশ।

নজর কাড়ছে নীলফামারীর বাবুপাড়ার পূজা মণ্ডপ

নজর কাড়ছে নীলফামারীর বাবুপাড়ার পূজা মণ্ডপ



মাহমুদ আল হাছান তিস্তা নিউজ ঃ  শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে নীলফামারী সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের বাবুপাড়ায় বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। এ বছর এখানকার দুর্গাপূজা মণ্ডপটিকে দৃষ্টিনন্দন ও অনন্য রূপে সাজিয়ে তুলতে বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে। প্রায় ২০ লাখ টাকা প্রাক্কলিত বাজেটে নির্মিত হচ্ছে সুবিশাল ও কারুকার্যময় এই পূজা মণ্ডপ।

বর্তমানে বাঁশ, কাঠ ও সুতা ব্যবহার করে মণ্ডপের মূল কাঠামো এবং সুউচ্চ চূড়া নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। স্থানীয় এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা দক্ষ কারিগররা দিনরাত পরিশ্রম করে নিখুঁত কারুকার্যে সাজিয়ে তুলছেন পুরো প্রাঙ্গণ।

পূজা উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতিবছর ভক্ত ও দর্শনার্থীদের জন্য নতুন কিছু উপহার দেওয়ার ধারাবাহিকতায় এবার বৃহৎ পরিসরে এই আয়োজন করা হয়েছে। প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত মণ্ডপটি নীলফামারী জেলার অন্যতম সেরা আকর্ষণে পরিণত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।

মণ্ডপের প্রধান কারিগর জানান, নকশা অনুযায়ী বাঁশের নিখুঁত বুনন ও নান্দনিক রূপ ফুটিয়ে তুলতে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করা হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে নির্ধারিত সময়ের আগেই সাজসজ্জার সম্পূর্ণ কাজ শেষ হবে।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর নীলফামারীর ছয়টি উপজেলায় মোট ৮৯০টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে, যা গত বছরের তুলনায় বেশি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে নীলফামারীর পুলিশ সুপার ফরহাদ হোসেন খান জানান, ৮৯০টি পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপন নিশ্চিত করতে সব উপজেলার পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে সমন্বয় সভা সম্পন্ন হয়েছে। উৎসব সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের জন্য সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

বাঁশ ও কাঠের নির্মিত বিশাল রাজকীয় কাঠামোটি ইতোমধ্যেই পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। প্রতিমা স্থাপন ও আলোকসজ্জার কাজ শেষ হলে মণ্ডপটি আরও মোহনীয় হয়ে উঠবে বলে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী ও দর্শনার্থীরা মনে করছেন।

Monday, October 5, 2026

প্রিজন ভ্যান খুলে দেন এসআই প্রদীপ, প্রাইভেট কারে চলে যান পিচ্চি রাজা

প্রিজন ভ্যান খুলে দেন এসআই প্রদীপ, প্রাইভেট কারে চলে যান পিচ্চি রাজা

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে নেওয়ার পথে পুলিশের প্রিজন ভ্যান থেকে আলোচিত ৩০ মামলার আসামি পিচ্চি রাজা গাজীপুরের বাইমাইল নয়, ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকা থেকে পালিয়েছিলেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পিচ্চি রাজার বোন এবং দুই পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার দুপুরে গাজীপুর মহানগর পুলিশের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার।


পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ৩০ আসামিকে ঢাকার আদালতে হাজিরা ও মামলার শুনানির জন্য নেওয়া হয়। আদালতের কার্যক্রম শেষে তাদের কাশিমপুর কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়ার পথে রাতে পিচ্চি রাজা পুলিশের প্রিজন ভ্যান থেকে কৌশলে পালিয়ে যান।


ওই সময় দায়ের করা মামলায় বলা হয়, আসামি বহনকারী গাড়িটি রাত সাড়ে আটটার দিকে গাজীপুরের বাইমাইল এলাকায় পৌঁছালে সঙ্গে থাকা পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই) প্রদীপ কুমার পিচ্চি রাজাকে টয়লেট করানোর জন্য নিচে নামান। ওই সময়ই তিনি কৌশলে দৌড়ে পালিয়ে যান। অন্য ২৯ আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়।


পরে এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে প্রিজন ভ্যানের সঙ্গে থাকা এসআই প্রবীর কুমার, কনস্টেবল মো. জাকির হোসেন, মো. সাকিব, শাকিল হোসেন ও প্রিজন ভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। গঠন করা হয় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি। এ ছাড়া ২৯ সেপ্টেম্বর মামলাটি ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।


পুলিশ কমিশনার বলেন, তদন্তে দেখা যায়, ২৯ জন আসামি নিয়ে ঢাকা জেলা জজ কোর্ট থেকে স্কট পার্টি প্রিজনার ভ্যানে রওনা দিয়ে তাঁতীবাজার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কাছে এসে প্রিজনার ভ্যান থামিয়ে স্কট পার্টির ইনচার্জ এসআই প্রবীর বিশ্বাস, ড্রাইভার নায়েক কামাল হোসেনের কাছ থেকে প্রিজনার ভ্যানের চাবি নিয়ে আসামি পিচ্চি রাজা ও হাজতি আসামি বাশারকে বের করে ভ্যানের সামনের দিকে নিয়ে যান এবং খাইরুল বাশার প্রিজনার ভ্যানের ড্রাইভারের সিটের পাশে বসেন। এ সময় পিচ্চি রাজা ও এসআই প্রবীর প্রিজনার ভ্যানে ওঠেননি। মূলত সেখান থেকে অপেক্ষমাণ একটি প্রাইভেটকারে আসামি পিচ্চি রাজা পলায়ন করেন। পরবর্তীতে এসআই প্রবীর রাত সাড়ে আটটায় মামলার এজাহারে বর্ণিত ঘটনাস্থলে এসে প্রিজন ভ্যানে উঠে স্কট পার্টির সদস্যদের নিয়ে মামলার এজাহারে বর্ণিত ঘটনাটি সাজান।

তিনি আরও বলেন, তদন্তকারী দল বিভিন্ন সাক্ষ্যপ্রমাণ, আলামত সংগ্রহ ও প্রাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমা, স্কট লিডার এসআই প্রবীর কুমার ও ড্রাইভার নায়েক কামাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় ড্রাইভার কামাল হোসেনের বাড়ি থেকে নগদ ৬০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামি ও পলাতক আসামি পিচ্চি রাজাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে বলে জানান তিনি।