Showing posts with label ধর্ম. Show all posts
Showing posts with label ধর্ম. Show all posts

Wednesday, August 12, 2026

আজ পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বা : ইতিহাস, বাস্তবতা ও করণীয়

আজ পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বা : ইতিহাস, বাস্তবতা ও করণীয়

সম্পাদকীয় কলাম ঃ আখেরি চাহার সোম্বা। এটি আরবি ও ফারসি বাক্য।

এর অর্থ হলো, শেষ। ফারসি ‘চাহার’ শব্দের অর্থ হলো, সফর মাস এবং ফারসি ‘সোম্বা’ শব্দের অর্থ হলো, বুধবার। এখন অর্থ দাঁড়ায় ‘আখেরি চাহার সোম্বা’র অর্থ দাঁড়ায়, সফর মাসের শেষ বুধবার।

আখেরি চাহার সোম্বা কী?

হিজরি সনের সফর মাসের শেষ বুধবারকে আখেরি চাহার সোম্বা বলে।

সফর মাসের শেষ বুধবারে মহানবী (সা.) প্রচণ্ড অসুস্থতা থেকে সুস্থতা অনুভব করলে সাহাবিরা খুশি হয়ে দান সদকা করেন ও শুকরিয়া আদায় করেন বলে মত পাওয়া যায়। এ জন্য কোনো কোনো দেশে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এ দিনে দান সদকাসহ বিভিন্ন নফল ইবাদত পালন করেন। বাংলাদেশে এ দিবস উপলক্ষে বার্ষিক সরকারি ছুটির তালিকায় একটি ঐচ্ছিক ছুটি উল্লেখ আছে। তবে বাংলাদেশে এ দিবস পালন নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্যও দেখা যায়।

আখেরি চাহার সোম্বা উদযাপন!

 কারো মতে মহানবী (সা.) কোন দিনে সুস্থ হয়েছিলেন, কোন অসুস্থতার পর সুস্থ হয়েছিলেন ইত্যাদি স্পষ্ট করে ইতিহাসে বর্ণিত নেই। আবার মহানবী (সা.)-এর মৃত্যুর পর কোনো সাহাবি এই দিবস পালন করতেন না। তাই এই দিবস পালনে তারা নিরুৎসাহিত করেন।

 

যারা এই দিবস পালন করে থাকেন তারা দুই সময়ের অসুস্থতার কথা বলে থাকেন। কেউ বলেন সপ্তম হিজরিতে মহানবী (সা.)-এর জাদুতে আক্রান্ত হওয়ায় অনেক অসুস্থ হয়ে পড়েন।

এবং সফর মাসের শেষ বুধবারে তিনি সুস্থ হয়ে উঠেন। আবার কেউ কেউ বলেন, মহানবী (সা.) মৃত্যুর আগে যে অসুস্থ হয়েছিলেন সে সময় সফর মাসের শেষ বুধবারে সুস্থতা অনুভব করেন এবং মসজিদে নামাজ পড়তে আসেন। এ সময় হজরত আবু বকর (রা.)-কে ইমামতির দায়িত্ব দেন তিনি। সে বুধবারের পর আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন। 


মহানবী (সা.) যখন সুস্থ হয়ে মসজিদে আসেন তখন উপস্থিত সাহাবায়ে কেরাম অনেক আনন্দিত হন এবং শুকরিয়া স্বরূপ দান সদকা করেছিলেন। সে ঘটনাকে স্মরণ করে অনেকে সফর মাসের শেষ বুধবারে ‘আখেরি চাহার সোম্বা’ পালন করে থাকেন। তবে মহানবী (সা.)-এর মৃত্যুর পরে সাহাবায়ে কেরাম এবং তাবেয়িদের মধ্যে কেউই কখনো এই দিন উদযাপন করেননি। 

 

বর্ণিত আছে, আবু বকর (রা.) খুশিতে ৭ হাজার দিনার এবং ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.) ৫ হাজার দিনার, ওসমান (রা.) ১০ হাজার দিনার, আলী (রা.) ৩ হাজার দিনার, আবদুর রহমান ইবনে আওফ (রা.) ১০০ উট ও ১০০ ঘোড়া আল্লাহর পথে দান করেছিলেন। এসব বর্ণনা ‘বারো চান্দের ফজিলত’ ও ‘রাহাতুল কুলুব’ ইত্যাদি বইয়ে বলা আছে। তবে উল্লিখিত কিতাব দুটিতে বর্ণিত ও বহুল প্রচলিত সফর মাসের শেষ বুধবারের বিষয়টিকে ইসলামি পণ্ডিত ও গবেষকগণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।

 

তাদের বক্তব্য হলো, মহানবী (সা.) অসুস্থ হওয়ার দিনক্ষণ নিয়ে যথেষ্ট মতপার্থক্য থাকায় নির্দিষ্ট কোনো দিনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। অথচ রসুল (সা.)-এর অসুস্থতাজনিত বর্ণনা অসংখ্য হাদিসে রয়েছে, তবে কোথাও দিন-তারিখ নির্দিষ্ট করে উল্লেখ নেই। তা ছাড়া প্রখ্যাত তাবেয়ি ইবনে ইসহাক বলেন, মহানবী (সা.) যে অসুস্থতায় ইন্তিকাল করেন, সেই অসুস্থতার শুরু হয়েছিল সফর মাসের শেষ কয়েক রাত থাকতে অথবা রবিউল আউয়াল মাসের শুরু থেকে। (ইবনে হিশাম, সিরাহ আন-নাবাবিয়্যাহ : ৪/২৮৯)

 

এ ছাড়া ইবনে হিশাম বিভিন্ন বর্ণনার আলোকে মহানবী (সা.)-এর অসুস্থতার দিন ঠিক করেছেন ১৮ সফর থেকে একনাগাড়ে ১৩ দিন পর্যন্ত। (ইবনে হিশাম ৯৯৯) এই মতের মতোই হুবহু পাওয়া যায় ইসলামি বিশ্বকোষের ১৩নং পৃষ্ঠায়।

শুধু তা-ই নয়, মহানবী (সা.) কোন দিন থেকে অসুস্থ হয়েছিলেন, সে বিষয়েও বিস্তর মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেছেন শনিবার, কেউ বলেছেন বুধবার এবং কেউ বলেছেন সোমবার। এমনকি কত দিনের অসুস্থতার পর তিনি ইন্তিকাল করেন, সে বিষয়েও রয়েছে মতভেদ। কেউ বলেছেন ১০ দিন, কেউ বলেছেন ১২ দিন, কেউ বলেছেন ১৩ দিন, কেউ বলেছেন ১৪ দিন। এরপর তিনি ইন্তিকাল করেন। (জারকানি/শারহুল মাওয়াহিব-১২/ ৮৩; কাসতালানি, আহমদ ইবনে মুহাম্মদ, আল-মাওয়াহিব আল-লাদুন্নিয়া : ৩/ ৩৭৩)

 

সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার হলো, মহানবী (সা.)-এর ওপর জনৈক ইহুদির জাদুর প্রভাব ছিল হুদায়বিয়ার সন্ধির পরে সপ্তম হিজরির মহররম মাসের প্রথম দিকে। এই জাদুর প্রভাব কোনো বর্ণনায় ছয় মাসের কথা এসেছে, আর কোনো বর্ণনায় এসেছে ৪০ দিনের কথা। সুতরাং সুস্থতার তারিখ কোনোভাবেই ১১ হিজরির সফর মাসের ‘আখেরি চাহার সোম্বা’ বা ‘শেষ বুধবার’ হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রখ্যাত অনেক গবেষক আলেম। (ফাতহুল বারি : ৭/৭৪৮, কিতাবুল মাগাজি : ৪৪৪২, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া : ৪/১৯৩, সিরাতুন নবী, শিবলী নোমানী : ২/১১৩)

 

এ কথাও ঠিক নয় যে, বুধবারের পর সুস্থতায় কোনোরূপ উন্নতি হয়নি। বরং এরপর আরেক দিন সুস্থতা বোধ করেছিলেন এবং জোহরের নামাজ আদায় করেছিলেন। (বুখারি ৬৬৪, ৬৮০, ৬৮১; মুসলিম ৪১৮) এমনকি সোমবার সকালেও সুস্থতা অনুভব করেছিলেন, যার কারণে আবু বকর (রা.) অনুমতি নিয়ে বাড়ি চলে গিয়েছিলেন। (সিরাতে ইবনে ইসহাক ৭১১-৭১২, আর রাওজাতুল উলুফ ৭/৫৪৭-৫৪৮)


বিশেষভাবে লক্ষনীয় হলো!

 এই দিনটি যদি আমলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতো তাহলে এ দিনটি সম্পর্কে হাদিসে বা সাহাবিদের বর্ণনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতো। আর ধর্মীয় সব রীতিনীতি নির্ভরযোগ্য সনদে পাওয়া না গেলে সেটার অনুকরণ-অনুসরণ উম্মতের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। সেটা শরিয়তে বিদআত এবং নিষিদ্ধ।  


কেননা ইসলামে কেউ যদি নিজের থেকে ভালো মনে করে ইবাদতের পদ্ধতি তৈরি করে সওয়াবের আশায় পালন করে তাহলে সেটা বিদআত হিসেবে পরিগণিত হয়। কেননা, মহানবী (সা.) বলেন, কেউ যদি এমন কোনো আমল করে, যার প্রতি আমাদের নির্দেশ নেই, তা প্রত্যাখ্যাত। (বুখারি, হাদিস : ২৬৯৭; মুসলিম, হাদিস : ১৭১৮)

Saturday, May 23, 2026

হজের খুতবা বাংলায় অনুবাদ

হজের খুতবা বাংলায় অনুবাদ

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ বিশ্বের মানুষের কাছে পবিত্র ইসলামের বাণী পৌঁছে দিতে চলতি বছরও বাংলাসহ ৫০টি ভাষায় পবিত্র হজের খুতবার অনুবাদ সম্প্রচার করা হবে। এ নিয়ে টানা সপ্তম বারের মতো বাংলা ভাষায় হজের খুতবার অনুবাদ সম্প্রচার হচ্ছে।

সৌদি আরবের পবিত্র মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীর তত্ত্বাবধানকারী জেনারেল প্রেসিডেন্সি বিভাগের অধীনে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

আগামী মঙ্গলবার (২৭ মে) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পবিত্র হজের কার্যক্রম। এ বছর খুতবার বাংলা অনুবাদ কার্যক্রমে রয়েছেন ড. মুহাম্মদ খলীলুর রহমান, ড. আ ফ ম ওয়াহিদুর রহমান, মুবিনুর রহমান ফারুক ও নাজমুস সাকিব।

তারা সবাই মক্কার উম্মুল কুরা ইউনিভার্সিটিতে বিভিন্ন সময়ে পড়াশোনা করেছেন।

পবিত্র মসজিদুল হারামের খুতবা অনুবাদ প্রকল্পের বাংলা বিভাগের পরিচালক ড. মুহাম্মদ খলীলুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, আরাফাতের খুতবা অনুবাদ কার্যক্রম এ বছর বাংলাসহ বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ সম্প্রচার করা হবে। আমাকে বাংলা বিভাগের পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। এবারসহ পাঁচ বার হজের খুতবা অনুবাদ কার্যক্রমে যুক্ত থেকে দায়িত্ব পালন করেছি। অনুবাদ কার্যক্রমে টিমের সব সদস্য অংশগ্রহণ থাকে। তবে উপস্থাপনায় থাকেন দুজন। এর আগে আমি দুবার হজের খুতবার অনুবাদ উপস্থাপন করেছি।

মক্কার উম্মুল কুরা ইউনিভার্সিটি থেকে অনার্স, মাস্টার্স ও পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন করা ড. মুহাম্মদ খলীলুর রহমান দীর্ঘ এক দশক সৌদি ইন্টারন্যাশনাল রেডিওতে অনুবাদক ও সংবাদ উপস্থাপক হিসেবে কাজ করেছেন। পবিত্র হজ এবং মক্কা ও মদিনার পবিত্র দুই মসজিদের জুমার খুতবার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন দরসের অনুবাদ ও উপস্থাপনা করে থাকেন। তার বাড়ি কুমিল্লার শাসনগাছায়। ১৯৯২ সালে তিনি ধামতী ইসলামিয়া কামিল মাদরাসা থেকে কামিল পরীক্ষায় সারা দেশে প্রথম স্থান অধিকার করেন।

ড. মুহাম্মদ খলীলুর রহমান বলেন, হজের খুতবা অনুবাদ কার্যক্রম একটি সম্মানের কাজ। এর মাধ্যমে বাংলাভাষী মুসলিমদের কাছে ইসলামের সুমহান বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়। মহান আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহে আমরা চারজন বাংলাদেশি দায়িত্বটি পালন করছি। একজন বাংলাদেশি হিসেবে আমি মনে করি, হজের খুতবা নিজ ভাষায় শুনতে পাওয়া গৌরব ও সম্মানের বিষয়। আশা করি, বাংলাভাষী মুসলিমরা হারামাইন থেকে সম্প্রচারিত খুতবা নিজ ভাষায় শুনবেন। সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করি, যেন আমরা সবাই গুরুত্বপূর্ণ এই দায়িত্ব সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে পারি।

আগামী ২৬ মে (৯ জিলহজ) পবিত্র আরাফাতের ময়দানে হাজিদের সবাই অবস্থান করবেন। সেদিন লাখ লাখ হাজির উদ্দেশে মসজিদে নামিরা থেকে খুতবা দেবেন মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়খ ড. আলী বিন আবদুর রহমান আল-হুজাইফি। সারা বিশ্বের মানুষের কাছে ইসলামের বাণী পৌঁছে দিতে বিশ্বের ৫০টি ভাষায় খুতবা সম্প্রচার করা হবে। এসব কাজের তত্ত্বাবধান করছে মক্কা ও মদিনার পবিত্র দুই মসজিদের তত্ত্বাবধানকারী জেনারেল প্রেসিডেন্সি বিভাগের ভাষা ও অনুবাদ এজেন্সি।

সৌদি বার্তা সংস্থা সূত্রে জানা যায়, ১৪৩৯ হিজরি মোতাবেক ২০১৮ সালে সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজের বিশেষ নির্দেশনায় আরাফার খুতবা অনুবাদ প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম পর্যায়ে শুধু পাঁচটি ভাষায় তা সম্প্রচার করা হয়। পরে ভাষার সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে।



প্রসঙ্গত, ২০২০ সালে প্রথমবারের মতো হজের খুতবা অনুবাদ প্রকল্পে বাংলা ভাষা যুক্ত হয়। ওই বছর মোট ১০টি ভাষায় হজের খুতবার সম্প্রচার করা হয়। তখন প্রথমবার বাংলা অনুবাদ করেছিলেন ড. আ ফ ম ওয়াহিদুর রহমান। ২০২১ সালেও বাংলাসহ মোট ১০টি ভাষায় খুতবার অনুবাদ সম্প্রচার করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন ভাষায় সাপ্তাহিক জুমার খুতবার অনুবাদ সম্প্রচার কার্যক্রম শুরু হয়।



এরপর ২০২২ সালে ১৪টি, ২০২৩ সালে ২০টি ও ২০২৪ সালে ২০টির বেশি ভাষায় আরাফার খুতবা অনুবাদ করা হয়। একই সঙ্গে মদিনার পবিত্র মসজিদে নববী থেকেও জুমা ও ঈদের খুতবার অনুবাদ সম্প্রচার কার্যক্রম পরিচালিত হয়।



মূলত অনুবাদ কার্যক্রম এখন শুধু আরাফাতের খুতবার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং প্রতি সপ্তাহের জুমা, দুই ঈদ, সালাতুল ইসতিসকা বা বৃষ্টির নামাজ, সালাতুল কুসুফ ও খুসুফের খুতবার পাশাপাশি বিভিন্ন আলোচনা এবং হজ ও ওমরাহ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও অনুবাদ করা হচ্ছে। সর্বোচ্চসংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছাতে প্রতিবছর অনুবাদ কার্যক্রমে নতুন ভাষা যুক্ত করা হচ্ছে।

আরবিতে উপস্থাপিত হজের খুতবার অনুবাদ বাংলাসহ বিভিন্ন ভাষায় সম্প্রচার করা হয়। এরমধ্যে রয়েছে ফ্রেঞ্চ, মালয়, উর্দু, ফারসি, চাইনিজ, তুর্কি, রাশিয়ান, হাউসা, ইংরেজি, সুইডিশ, স্প্যানিশ, সোয়াহিলি, আমহারিক, ইটালিয়ান, পর্তুগিজ, বসনিয়ান, মালায়লাম, ফিলিপিনো, জার্মান ইত্যাদি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইউটিউবের (Al-haramain-Sermons) আল-হারামাইন চ্যানেল থেকে একটি ভাষা নির্বাচন করে খুতবার অনুবাদ শোনা যাবে। তা ছাড়া manaratal haramain ওয়েবসাইট থেকে বিগত বছরের খুতবা ও এর অনুবাদও পাওয়া যাবে।


Tuesday, March 17, 2026

রমজানের শেষ দিনের চাঁদ দেখা গেছে, আমিরাতে ঈদুল ফিতরের তারিখ জানা গেল

রমজানের শেষ দিনের চাঁদ দেখা গেছে, আমিরাতে ঈদুল ফিতরের তারিখ জানা গেল


তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশে রমজানের শেষ দিনের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে চলতি বছর রমজান ৩০ দিন পূর্ণ হতে পারে এবং ঈদুল ফিতর শুক্রবার উদযাপিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ভোরে রাজধানী আবুধাবিসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চাঁদটি দেখা যায়। এমিরেটস অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি-র সদস্য তামিম আল তামিমি রমজানের ২৮তম দিনে (১৪৪৭ হিজরি) ভোর ৬টার দিকে আমিরাতের আকাশে এই চাঁদের ছবি ধারণ করেন। খবর গালফ নিউজের।

জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী, এ বছর রমজান পূর্ণ ৩০ দিন হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। সেই হিসেবে আগামী ২০ মার্চ (শুক্রবার) ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে, যা শাওয়াল মাসের প্রথম দিন হিসেবে গণ্য হবে। অন্যদিকে, সোসাইটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আল জারওয়ান জানিয়েছেন, ১৮ মার্চ বুধবার নতুন চাঁদ দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ফলে পরদিন থেকেই নতুন চন্দ্রমাস শুরু হওয়ার সম্ভাবনাও কম বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সর্বশেষ চাঁদ দেখা সাপেক্ষেই ঈদের চূড়ান্ত ঘোষণা দেয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

Monday, March 16, 2026

মহিমান্বিত পবিত্র লাইলাতুল কদর আজ

মহিমান্বিত পবিত্র লাইলাতুল কদর আজ


মাওঃ রুহুল আমিন ঃ আজ সোমবার রাতে পবিত্র লাইলাতুল কদর বা শবেকদর পালিত হবে। এই রাত মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত মহিমান্বিত একটি রাত। প্রতিবছর পবিত্র রমজান মাসের ২৬ তারিখ রাতে শবেকদর পালন করা হয়। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে এই রাত কাটান।

শবেকদরের এই রাতে পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে। এই রাতকে কেন্দ্র করে কোরআনে ‘আল-কদর’ নামে একটি সুরা নাজিল করা হয়েছে। ‘শবেকদর’ ফারসি শব্দ। শব মানে রাত বা রজনী, আর কদর মানে সম্মান, মর্যাদা, গুণাগুণ, সম্ভাবনা, ভাগ্য ইত্যাদি।

শবেকদর অর্থ হলো মর্যাদার রাত বা ভাগ্যরজনী। শবেকদরের আরবি হলো লাইলাতুল কদর তথা সম্মানিত রাত।

ইসলাম ধর্ম অনুসারে, এই রাতে মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর অনুসারীদের সম্মান বৃদ্ধি করা হয় এবং মানব জাতির ভাগ্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়। তাই মুসলমানদের কাছে এই রাত অতীব পুণ্যময় ও মহিমান্বিত।

হাদিসের বর্ণনা অনুসারে ২০ রমজানের পর যেকোনো বিজোড় রাত শবেকদর হতে পারে। তবে ২৬ রমজানের দিবাগত রাতে লাইলাতুল কদর আসে বলে আলেমদের অভিমত।

পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আমি লাইলাতুল কদরে কোরআন নাজিল করেছি। আর আপনি কি জানেন লাইলাতুল কদর কী? লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। সেই রাতে ফেরেশতারা ও রুহ (জিবরাঈল আ.) নাজিল হন তাঁদের রবের অনুমতিতে সকল নির্দেশ নিয়ে।

শান্তিময় সে রাত, ফজরের উদয় পর্যন্ত।’ (সুরা কদর, আয়াত : ১-৫)

ইবাদতের মাধ্যমে এই রাত জাগরণ করলে জীবনের পাপরাশি ক্ষমা করে দেওয়া হয়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের নিয়তে কদরের রাতে ইবাদত করবে, তার অতীতের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। (বুখারি, হাদিস : ২০১৪)

অন্য সময় এক হাজার মাস ইবাদত করলে যে সওয়াব পাওয়া যায়, কদরের রাতের ইবাদতে তার চেয়ে বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। তাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলমানদের মতো বাংলাদেশের মুসলমানরাও নিজেদের গুনাহ মাফ এবং বেশি সওয়াব হাসিলের আশায় নফল ইবাদত, কোরআন তিলাওয়াত ও জিকির-আজকারের মধ্য দিয়ে রাতটি অতিবাহিত করবেন।

পবিত্র লাইলাতুল কদর উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশবাসীসহ বিশ্বের সব মুসলমানকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পবিত্র লাইলাতুল কদরের শিক্ষা আমাদের ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে শান্তি, ন্যায় ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় অনুপ্রাণিত করে। আমি মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে প্রার্থনা করি, তিনি যেন পবিত্র লাইলাতুল কদরের অসীম রহমত ও বরকত আমাদের সবার ওপর বর্ষণ করেন। আমাদের দেশ ও জাতিকে অগ্রগতি, শান্তি, সম্প্রীতি এবং কল্যাণের পথে পরিচালিত করেন।’

পবিত্র শবেকদর উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এবং বাংলাদেশ বেতার ও বেসরকারি রেডিও বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আজ বাদ মাগরিব বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে আলোচনাসভা ও দোয়া আয়োজন করা হয়েছে।

Saturday, March 14, 2026

যেসব কারণে রোজা ভাঙলে গুনাহ হবে না

যেসব কারণে রোজা ভাঙলে গুনাহ হবে না


শায়খ জামাল উদ্দিন ঃ রমজানের রোজা মুসলমানদের ওপর ফরজে আইন। শরিয়ত সমর্থিত কারণ ছাড়া ছেড়ে দেওয়া কবিরা গুনাহ। আর যে তা অস্বীকার করবে, সে কাফির হয়ে যাবে। কেউ বিনা ওজরে রোজা না রাখলে— ফাসিক ও কঠিন গুনাহগার হতে হবে।

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘তোমারদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে- যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল। যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৩; ফাতওয়া তাতারখানিয়া, খণ্ড : ০৩, পৃষ্ঠা : ৩৫০)


তবে কিছু কারণে শরিয়ত রোজা ভেঙে ফেলার অনুমতি দিয়েছে। কী কী কারণে বা কোন কোন ব্যক্তির রোজা না রাখা কিংবা ভেঙে ফেলা জায়েজ— তা নিয়ে সংক্ষিপ্তভাবে এই লেখা।


এক. যদি এমন অসুস্থ হয়ে পড়ে যে রোজা রাখার শক্তি নেই বা রোজা রাখার দ্বারা অসুস্থতা বেড়ে যাবে, তাহলে তার জন্য রোজা না রাখার অনুমতি রয়েছে। তবে হ্যাঁ, যখনই সুস্থ হয়ে যাবে, তখনই তার ওপর রোজা কাজা করে নেওয়া ওয়াজিব। (আপকে মাসায়েল : খণ্ড : ৩, পৃষ্ঠা : ২০২)

দুই. রোজাদার যদি এমন দুর্বল হয়ে পড়ে যে, রোজা রাখার শক্তিই নেই। (আপকে মাসায়েল : খণ্ড. ৩, পৃষ্ঠা : ২০৩)


তিন. এমন ক্ষুধা বা পিপাসা লাগে যে প্রাণ চলে যাওয়ার উপক্রম হয়ে যায়। (আলমগিরি : খণ্ড. ১, পৃষ্ঠা : ২০৭)

চার. কেউ যদি রোজা থাকার কারণে জীবনযাপনের উপকরণ উপার্জন করতে দুর্বল হয়ে যায়, তাহলে তার জন্য রোজা ভেঙে ফেলার অনুমতি রয়েছে। তবে তা পরে কাজা করে নিতে হবে। তা-ও সম্ভব না হলে ফিদিয়া আদায় করবে এবং প্রতি রোজার পরিবর্তে সদকায়ে ফিতর পরিমাণ দান করে ফিদিয়া আদায় করবে। (শামি : খণ্ড : ৩, পৃষ্ঠা : ৪০০)


পাঁচ. গর্ভধারিণী বা স্তন্যদানকারিণী মহিলা যদি নিজের অথবা নিজের বাচ্চার প্রাণনাশের আশঙ্কা করেন, তাহলে তার জন্য রোজা ভেঙে ফেলা জায়েজ আছে। (আলমগিরি : খণ্ড : ১, পৃষ্ঠা : ২০৭)

ছয়. অনুরূপভাবে ফসল কর্তন করার ক্ষেত্রে। যদি রোজা থাকা অবস্থায় ফসল কর্তন করা সম্ভব না হয়। অন্যদিকে দেরি হলে ফসল নষ্ট হয়ে যাবে। তাহলে রোজা না রাখার অনুমতি আছে এবং অন্য সময় কাজা করে নেবে। (শামি : খণ্ড : ৩, পৃষ্ঠা : ৪০০)


আল্লাহ তাআলা আমাদের সঠিকভাবে ও সুস্থ থেকে সবগুলো রোজা রাখার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Saturday, March 7, 2026

ঐতিহাসিক বদর দিবস আজ, ইসলামের প্রথম বিজয়

ঐতিহাসিক বদর দিবস আজ, ইসলামের প্রথম বিজয়


নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ ইতিহাস কেবল অতীতের গল্প নয়; বরং ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষার আয়না। সে আয়নায় ধুলা জমলে জাতি নিজের পরিচয়ও হারিয়ে ফেলে। মুসলিম উম্মাহর গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের অন্যতম উজ্জ্বল অধ্যায় হলো গাজওয়ায়ে বদর। এ যুদ্ধ শুধু একটি সামরিক সংঘর্ষ ছিল না; বরং এটি ছিল ঈমান, নেতৃত্ব ও তাওয়াক্কুলের এক ঐতিহাসিক পরীক্ষা।

প্রেক্ষাপট : মক্কা থেকে মদিনা ঃ

নবুয়তের সূচনালগ্নে মহানবী হজরত মুহম্মদ (সা.)-এর দাওয়াত মক্কার কুরাইশ নেতারা সহজভাবে গ্রহণ করেনি। যিনি এক সময় ‘আল-আমিন’ নামে পরিচিত ছিলেন, তিনি ইসলাম প্রচারের কারণে দ্রুত বিরোধিতার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন। মক্কায় ১৩ বছরের দাওয়াতি জীবনে মুসলমানদের ওপর বিভিন্ন নির্যাতন ও ষড়যন্ত্র নেমে আসে। পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করলে আল্লাহর নির্দেশে মহানবী (সা.) ইয়াসরিবে (বর্তমান মদিনা) হিজরত করেন।


সেখানে তিনি একটি সুসংগঠিত সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করেন। মসজিদে নববী প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইবাদত, শিক্ষা ও প্রশাসনের কেন্দ্র গড়ে তোলেন। প্রণয়ন করেন ‘মদিনা সনদ’, যাকে ইতিহাসের প্রথম লিখিত সংবিধান হিসেবে অভিহিত করা হয়। মুহাজির ও আনসারদের মাঝে ভ্রাতৃত্ব স্থাপনের মাধ্যমে সামাজিক সংহতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।


অন্যদিকে কুরাইশরা হিজরতের পরও তাদের শত্রুতা অব্যাহত রাখে। তারা বিপুল পুঁজি বিনিয়োগ করে বাণিজ্য কাফেলা পাঠাতে থাকে এবং সে অর্থের জোরে মদিনা আক্রমণের পরিকল্পনা করতে থাকে, যেন মুহম্মদ (সা.) ও তাঁর সঙ্গীদের চিরতরে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া যায়।

বদর যুদ্ধের সূচনা


হিজরি দ্বিতীয় সনের রজব মাসে ‘নাখলা’ অঞ্চলে একটি খণ্ডযুদ্ধের ঘটনা ঘটে, যা কুরাইশদের প্রতিশোধস্পৃহা আরো উসকে দেয়। পরবর্তীতে সিরিয়া থেকে ফেরত আসা একটি বাণিজ্য কাফেলাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা চরমে পৌঁছে। মক্কার মুশরিকরা গুজব ছড়িয়ে দেয়—মুসলিমরা ওই কাফেলায় হামলা করেছে।


এ প্রেক্ষাপটে মক্কার কুরাইশরা প্রায় এক হাজার সৈন্য নিয়ে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়। অন্যদিকে মুসলিম বাহিনীর সংখ্যা ছিল মাত্র ৩১৩ জন। তাদের ছিল মাত্র দুটি ঘোড়া ও ৭০টি উট। বিপরীতে কুরাইশদের ছিল প্রায় ১০০ ঘোড়া, ৬০০ লৌহবর্ম এবং বিপুল সামরিক সরঞ্জাম। যুদ্ধ মুসলমানদের কাম্য ছিল না; কিন্তু পরিস্থিতি একে অনিবার্য করে তোলে।


হিজরি দ্বিতীয় সনের ১৭ রমজান, মদিনা থেকে প্রায় ৮০ মাইল দূরে বদর উপত্যকায় ইসলামের প্রথম সশস্ত্র যুদ্ধ সংঘটিত হয়, যা ইতিহাসে Battle of Badr নামে পরিচিত।


যুদ্ধের প্রাক্কালে রাসুলুল্লাহ (সা.) আন্তরিকভাবে দোয়া করেন)‘হে আল্লাহ! যদি এই দলটি ধ্বংস হয়ে যায়, তবে পৃথিবীতে আপনার ইবাদত করার মতো আর কেউ থাকবে না।’ (আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া)


বেজে ওঠে যুদ্ধের দামামা। ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রার্থনা ও মুসলিম বাহিনীর সাহায্যের পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহতায়ালা প্রেরণ করেন এক হাজার ফেরেশতা। আবু জাহেল, ওতবা, শাইবার মতো কুরাইশদের প্রভাবশালী নেতারা যখন একের পর এক নিহত হতে লাগল, তখন পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে কুরাইশরা ময়দান থেকে পলায়ন করল। মুসলিমদের ১৪ জন শাহাদতবরণ করেন। অপরদিকে কুরাইশদের ৭০ জন নিহত ও ৭০ জন বন্দি হয়।

Monday, February 2, 2026

শবেবরাত: রহমত, তওবা ও আত্মশুদ্ধির রাত

শবেবরাত: রহমত, তওবা ও আত্মশুদ্ধির রাত


মাওঃ রুহুল আমিন ঃ ইসলামের বারো মাসের ধারায় শা‘বান হচ্ছে রমজান প্রস্তুতির মাস। এই মাসের মধ্যভাগে যে রাতটি মুসলিম সমাজে বিশেষভাবে আলোচিত, তা হলো শবেবরাত। এ রাতকে ঘিরে আবেগ, ইবাদত, ভুল ধারণা; সবকিছু মিলিয়ে বিষয়টি বহুস্তরপূর্ণ। কোরআন-হাদিসের আলোকে শবেবরাতকে বুঝতে হলে প্রয়োজন ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি, যাতে ফজিলতের স্বীকৃতির পাশাপাশি বিদআত ও কুসংস্কার থেকেও বাঁচা যায়।

শবেবরাত : নাম ও অর্থের পটভূমি


‘শবেবরাত’ শব্দবন্ধটি গঠিত হয়েছে দুটি ভিন্ন ভাষার শব্দ দিয়ে। ‘শব’ ফার্সি শব্দ, যার অর্থ রাত। আর ‘বরাআত’ আরবি শব্দ, যার অর্থ মুক্তি বা দায়মুক্তি। এ দুটি মিলিয়ে অর্থ দাঁড়ায় মুক্তির রাত।


যদিও হাদিসে এই নামটি সরাসরি ব্যবহৃত হয়নি, তবে ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শা‘বান’— অর্থাৎ শা‘বান মাসের মধ্যরাত— হিসেবে এ রাতের উল্লেখ পাওয়া যায়। মুসলিম মনীষীদের একটি বড় অংশ এই নামকরণকে তাৎপর্যপূর্ণ মনে করেছেন, কারণ এ রাতে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে ব্যাপক ক্ষমা ও অনুগ্রহের ঘোষণা রয়েছে।

শবেবরাতের ফজিলত : হাদিসের আলোকে


বিশুদ্ধ ও গ্রহণযোগ্য একাধিক হাদিস থেকে প্রতীয়মান হয় যে, শাবান মাসের মধ্যরাত আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। মুআয ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, এই রাতে আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টির প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন।


(সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদিস : ৫৬৬৫; সুনানে ইবনে মাজাহ্, হাদিস: ১৩৯০)

আয়েশা (রা.) বর্ণিত হাদিসেও দেখা যায়, রাসূলুল্লাহ (সা.) এ রাতে দীর্ঘ সিজদায় মশগুল ছিলেন এবং তিনি স্পষ্ট করে বলেন—এ রাতে আল্লাহ ক্ষমাপ্রার্থীদের ক্ষমা করেন, দয়া প্রার্থীদের প্রতি দয়া করেন, তবে বিদ্বেষীদের তাদের অবস্থাতেই ছেড়ে দেন। (শুআবুল ঈমান, বায়হাকী ৩/৩৮২-৩৮৩)।

এ রাতের মূল শিক্ষা


শবেবরাতের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো আত্মশুদ্ধি। এটি কোনো উৎসবের রাত নয়, বরং আত্মসমালোচনা, তাওবা ও আল্লাহমুখী হওয়ার রাত। এখানে নির্দিষ্ট কোনো বিশেষ নামাজ বা নির্ধারিত রাক‘আতের বিধান নেই। বরং যে আমল মানুষকে আল্লাহর নৈকট্যে পৌঁছে দেয়—সেগুলিই এ রাতে বেশি গুরুত্ব পায়।

শবেবরাতে করণীয় নেক আমল

এই রাতে করণীয় আমলগুলোর মধ্যে রয়েছে—


ফরজ নামাজসমূহ যথাযথভাবে আদায় করা, বিশেষত মাগরিব, এশা ও ফজর জামাআতের সঙ্গে আদায় করা।

নফল নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার ও দরুদ পাঠ।

আন্তরিক তাওবা ও ইস্তিগফার—যার মধ্যে পাপের অনুশোচনা, পাপ ত্যাগ, ভবিষ্যতে না করার দৃঢ়সংকল্প এবং বান্দার হক আদায়ের চেষ্টা অন্তর্ভুক্ত।

গুরুত্বের সঙ্গে দু‘আ করা, কেননা হাদিসে এ রাতে দোয়া কবুলের কথা বিশেষভাবে এসেছে।

সামর্থ্য অনুযায়ী দান-সদকা করা এবং নফল ইবাদতের সাওয়াব মৃত মুসলিমদের জন্য পাঠানো।

শাবান মাসের ১৫ তারিখে নফল রোযা রাখা।

নফল ইবাদত : একাকী হওয়াই উত্তম

ইসলামের মূলনীতি অনুযায়ী নফল ইবাদত গোপনে ও একাকী করাই উত্তম। ফরজ নামাজ অবশ্যই জামাআতের সঙ্গে আদায়যোগ্য, কিন্তু নফল আমলের ক্ষেত্রে সমবেত আয়োজন, উচ্চৈঃস্বরে জিকির বা আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির কোনো প্রমাণ নেই। সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন ও তাবে-তাবেঈনের যুগেও এ ধরনের সমষ্টিগত নফল আমলের প্রচলন ছিল না। তবে অলসতার আশঙ্কায় কেউ মসজিদে এসে ব্যক্তিগতভাবে ইবাদত করলে তাতে দোষ নেই।

যারা এ রাতেও ক্ষমা থেকে বঞ্চিত

হাদিসের আলোকে জানা যায় যে কিছু মানুষ এই ব্যাপক ক্ষমার রাতেও বঞ্চিত থাকে, যতক্ষণ না তারা তাওবা করে ফিরে আসে। এর মধ্যে রয়েছে— মুশরিক, হিংসুক, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী, পিতা-মাতার অবাধ্য, মদ্যপায়ী এবং অন্যায় হত্যায় লিপ্ত ব্যক্তি। এটি আমাদের জন্য সতর্কবার্তা—ইবাদতের পাশাপাশি চরিত্র ও সামাজিক সম্পর্ক সংশোধনও অপরিহার্য।

শবেবরাতে বর্জনীয় বিষয়

শবেবরাতকে কেন্দ্র করে কিছু কুসংস্কার ও অনৈসলামিক চর্চা সমাজে প্রচলিত হয়েছে। যেমন— আতশবাজি ফোটানো, আলোকসজ্জা, বিশেষ খাবার রান্নাকে ইবাদতের অংশ মনে করা ইত্যাদি। এগুলোর কোনোটি হাদিস বা সালাফে সালেহীনের আমল দ্বারা প্রমাণিত নয়। বরং এগুলো অপচয়, অনুকরণ ও ইবাদতের পরিবেশ বিনষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

শবেবরাত আমাদের জন্য এক অনন্য সুযোগ— নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার, আল্লাহর দিকে ফিরে আসার এবং বিদ্বেষ ও গুনাহের বোঝা নামিয়ে রাখার। এই রাতের মর্যাদা রক্ষা মানে—অপ্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা বর্জন করে আন্তরিক ইবাদতে আত্মনিয়োগ করা। আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের সবাইকে এ বরকতপূর্ণ রাতের যথাযথ মূল্যায়ন করার এবং তাঁর ক্ষমাপ্রাপ্ত বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার তাওফিক দান করেন। আমীন।

Friday, January 16, 2026

পবিত্র লাইলাতুল মেরাজ আজ

পবিত্র লাইলাতুল মেরাজ আজ

 

পবিত্র লাইলাতুল মেরাজ বা শবেমেরাজ আজ শুক্রবার। মহানবী হজরত মুহম্মদ (সা.)-এর জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় সম্পন্ন হয় রজব মাসের ২৬ তারিখের এই রাতে। এ সময় তিনি ঐশ্বরিক উপায়ে ঊর্ধ্বাকাশে আরোহণ করে মহান আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। ইসলাম ধর্মের তাৎপর্যপূর্ণ এই রাত ইবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

উল্লেখ্য, মেরাজের ঘটনার মধ্য দিয়েই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মুসলমানদের জন্য ফরজ করা হয়। এ রাতেই প্রতিদিন পাঁচবার নামাজ আদায়ের বিধান নিয়ে আসেন হজরত মুহম্মদ (সা.)।

ইসলামের ইতিহাস অনুযায়ী, মহানবী (সা.)-এর নবুওয়াতের দশম বছরে বা ৬২১ খ্রিষ্টাব্দের এক রাতে কাবা শরিফ থেকে জেরুজালেমে অবস্থিত ‘বায়তুল মুকাদ্দাস’ বা আল-আকসা মসজিদে গমন করে নবীদের জামাতে ইমামতি করেন। মসজিদুল আকসায় গমনের এ ঘটনাকে কোরআনের ভাষায় ‘ইসরা’ বলা হয়। সেখান থেকে তিনি ‘বুরাক’ নামের বিশেষ বাহনে চড়ে ঊর্ধ্বাকাশে গমন করেন এবং এ ঘটনাকে ‘মেরাজ’ বলা হয়। এ সফরে তার সঙ্গী ছিলেন ফেরেশতা জিবরাইল (আ.)।

জিবরাইল (আ.) হজরত মুহম্মদকে (সা.) ঊর্ধ্বাকাশে অবস্থিত ‘সিদরাতুল মুনতাহা’, বেহেশতের নদী ও ফেরেশতাদের জন্য আল্লাহর নির্ধারিত ইবাদতখানা ‘বায়তুল মামুর’ পরিদর্শন করান। এরপর হজরত মুহম্মদ (সা.) মহান আল্লাহ তাআলার সাক্ষাৎ লাভ করেন।

মহান রাব্বুল আলামিনের রহমত কামনায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা শবেমেরাজের এই রাতে মসজিদে, বাসায় বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কোরআনখানি, জিকির-আজকার ও ইবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে কাটিয়ে দেন। এ উপলক্ষে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

Friday, October 31, 2025

কৃতজ্ঞতার সিজদা কখন ও কিভাবে আদায় করবেন

কৃতজ্ঞতার সিজদা কখন ও কিভাবে আদায় করবেন


তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ আল্লাহ মুসলমানদের এমন বহু ইবাদত ও সৎকর্মের নির্দেশ দিয়েছেন, যা দ্বারা তাঁর সান্নিধ্য ও সন্তুষ্টি অর্জন করা যায়। সেই ইবাদতের অন্যতম হলো কৃতজ্ঞতার সিজদা (সিজদায়ে শুকর)। যখন কোনো ব্যক্তি আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ কোনো নিয়ামত বা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হয়, অথবা কোনো বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা পায়, তখন সে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উদ্দেশ্যে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে। এটি তার ঈমান শক্তিশালী করে, অন্তরে প্রশান্তি বয়ে আনে এবং জীবনের বরকত বৃদ্ধি করে।

আল্লাহ তাআলা বলেন : ‘আল্লাহর ইবাদত করো এবং কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হও।’

(সুরা : জুমার, আয়াত : ৬৬)

কৃতজ্ঞতার সিজদার মাধ্যমে মানুষ স্বীকার করে যে তার পাওয়া প্রতিটি অনুগ্রহ ও বিপদমুক্তি একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকেই এসেছে। কিন্তু যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি অকৃতজ্ঞ থাকে এবং তাঁর অনুগ্রহ অস্বীকার করে, সে নিঃসন্দেহে সেই নিয়ামত থেকে বঞ্চিত হবে—এটিই তার অকৃতজ্ঞতার শাস্তি।

যেসব কারণে কৃতজ্ঞতার সিজদা করা উচিত

একজন মুসলিম তার জীবনে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনার জন্য আল্লাহ তাআলার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সিজদায় লিপ্ত হয়।

কৃতজ্ঞতার সিজদা আদায়ের কিছু সাধারণ কারণ হলো—

সন্তান লাভ : দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে পুত্র বা কন্যা সন্তান দান করেন, তখন সে কৃতজ্ঞতার সিজদা করে।

রোগমুক্তি : আল্লাহ তাআলা যখন কোনো অসুস্থ ব্যক্তিকে আরোগ্য দান করেন এবং তার দুঃখ-কষ্ট দূর করেন, তখন সেই বান্দা কৃতজ্ঞতায় সিজদায় পড়ে।

বিপদ থেকে রক্ষা : আল্লাহ যখন কোনো মানুষকে আসন্ন বিপদ থেকে রক্ষা করেন—যেমন গাড়ি দুর্ঘটনা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা থেকে, তখন সে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে সিজদা করে।

বিজয় ও সাফল্য : আল্লাহ যখন মুসলমানদের বিজয় দান করেন—যুদ্ধক্ষেত্রে, সমাজে বা জীবনের অন্য যেকোনো ক্ষেত্রে, তখনো কৃতজ্ঞতার সিজদা আদায় করা হয়।

সুতরাং একজন মুসলিমের কর্তব্য হলো জীবনের প্রতিটি অবস্থায়—সুখে, দুঃখে, প্রাচুর্যে ও অভাবে—আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। কেননা কৃতজ্ঞতার মাধ্যমেই নিয়ামতের বৃদ্ধি ও নবায়ন ঘটে, আর আল্লাহ তাআলা কৃতজ্ঞ বান্দাকে মহান প্রতিদান দেন। আল্লাহ তাআলা বলেন : ‘অতএব, তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমিও তোমাদের স্মরণ করব। আমার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকো, অকৃতজ্ঞ হয়ো না।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১৫২)।

তাই কৃতজ্ঞতার সিজদা একজন মুমিনের হৃদয়ে বিনয়, আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা ও তাঁর অনুগ্রহের প্রতি সচেতনতা জাগিয়ে তোলে।


কৃতজ্ঞতার সিজদা যেভাবে করতে হয়


কৃতজ্ঞতার সিজদা হলো এক ধরনের সিজদা—এটি কোনো নামাজ বা দোয়া নয়, যেমন অনেকেই ভুলভাবে মনে করেন। এটি একটি একক সিজদা, যা একজন মুসলিম আদায় করে আল্লাহ তাআলার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উদ্দেশ্যে—যখন তিনি কোনো বড় নিয়ামত দান করেন বা কোনো বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করেন। এই সিজদায় মুসলিম বলে ‘সুবহানা রব্বিয়াল আলা’ (পবিত্র আমার প্রতিপালক, যিনি সর্বোচ্চ), অন্তত একবার, আর তিন বা পাঁচবার বললে তা আরো উত্তম। কৃতজ্ঞতার সিজদা তিলাওয়াতের সিজদার মতোই; এতে নামাজের শর্তগুলো পূরণ করা আবশ্যক নয়। অর্থাৎ এই সিজদার জন্য অজু করা, কিবলামুখী হওয়া বা শরীর সম্পূর্ণ ঢাকা রাখা ফরজ নয়—যদিও এগুলো মানা উত্তম। কৃতজ্ঞতার সিজদা আদায়ের সময় তাকবির (আল্লাহু আকবার) বলারও প্রয়োজন নেই। কেউ যদি বসা অবস্থায় থাকে, তাহলে সে সেখান থেকেই সিজদায় যেতে পারে; দাঁড়ানোর প্রয়োজন নেই। সিজদা শেষ করার পর সালাম ফিরানোও জরুরি নয়। এভাবে বিনয় ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে আল্লাহর সামনে সিজদা করা একজন মুমিনের ঈমানকে দৃঢ় করে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথ সুগম করে।


Friday, October 10, 2025

প্রতিবেশী সম্পর্কে মহানবী (সা.) যা বলেছেন

প্রতিবেশী সম্পর্কে মহানবী (সা.) যা বলেছেন

 

তিস্তা নিউজ ডেস্ক:  সামাজিক জীবনের পথচলায় আমরা জড়িয়ে আছি প্রতিবেশীদের সঙ্গে। প্রতিবেশীরা জড়িয়ে আছেন আমাদের সঙ্গে। মানুষ সমাজে একাকী বসবাস করতে পারে না। সবার সঙ্গে মিলেমিশে বসবাস করতে হয়।

তবু পাশাপাশি পথ চলায় ভুল হয়ে যায়, যা কখনোই কাম্য নয়। প্রতিবেশীর সঙ্গে সদাচার ঈমানের পূর্ণতা। প্রতিবেশীর সঙ্গে উত্তম আচরণ আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি ও খুশির কারণ।

মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা ইবাদত করো আল্লাহর, তাঁর সঙ্গে কোনো কিছুকে শরিক কোরো না।

আর সদ্ব্যবহার করো মাতা-পিতার সঙ্গে, নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে, এতিম, মিসকিন, নিকটাত্মীয় প্রতিবেশী, অনাত্মীয় প্রতিবেশী, পার্শ্ববর্তী সাথি, মুসাফির এবং তোমাদের মালিকানাভুক্ত দাস- দাসীদের সঙ্গে, নিশ্চয়ই আল্লাহ পছন্দ করেন না তাদেরকে যারা দাম্ভিক, অহংকারী।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৩৬)

নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহও শেষদিনের ওপর বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে সম্মান করে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬০১৯)

প্রতিবেশীকে কষ্ট দেওয়ার ক্ষতি

নবীজি (সা.) প্রতিবেশীকে কষ্ট দেওয়ার অনেক ক্ষতি ও বঞ্চনা উল্লেখ করেছেন। তার কয়েকটি তুলে ধরা হলো—

১. ঈমানের অপূর্ণতা : আবু শুরাইহ (রা.) বলেন, নবীজি (সা.) একবার বলেছিলেন, আল্লাহর শপথ! সে ব্যক্তি মুমিন নয়, আল্লাহর শপথ! সে ব্যক্তি মুমিন নয়, আল্লাহর শপথ! সে ব্যক্তি মুমিন নয়।

জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল! কে সে লোক? তিনি বললেন, যে ব্যক্তির অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ থাকে না। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬০১৬)

ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) বলেন, যে ব্যক্তি কথা ও কাজের মাধ্যমে প্রতিবেশীর অনিষ্ট সাধন করে হাদিসে তার কথা বলা হয়েছে। তবে ঈমানহীন হওয়ার অর্থ হলো, সে পরিপূর্ণ ঈমানদার নয়। (ফাতহুল বারি : ১০/৪৪৪)

২. জান্নাত থেকে বঞ্চিত হওয়া : রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে লোকের প্রতিবেশী তার অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকে না সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৪৬)

৩. প্রতিবেশীকে কষ্ট দেওয়া গুরুতর বিষয় : মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ (রা.) বলেন, নবীজি (সা.) সাহাবিদের জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা ব্যভিচারের ব্যাপারে কি বলো? তাঁরা বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সেটিকে হারাম করে করে দিয়েছেন।

সুতরাং কিয়ামত পর্যন্ত সেটি হারাম। তখন তিনি বললেন, প্রতিবেশীর স্ত্রীর সঙ্গে ব্যভিচার করার অপরাধের চেয়ে অন্য ১০ জন নারীর সঙ্গে ব্যভিচার করার অপরাধ অনেক লঘু।... (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ২৩৩৪২)

৪. আল্লাহ ও মানুষের অভিশাপের কারণ : আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, একবার এক ব্যক্তি নবী করিম (সা.)-এর কাছে এসে তার প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে তিনি বললেন, যাও ধৈর্য ধরো। এরপর সে দুইবার, তিনবার এসে অভিযোগ করলে তিনি বললেন, তুমি গিয়ে তোমার জিনিসপত্র রাস্তায় ফেলে রাখো। এরপর সে তার জিনিসপত্র রাস্তায় ফেলে রাখলে লোকেরা তাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করতে লাগল এবং তার প্রতিবেশীর খবর জানাতে থাকল। লোকেরা তার প্রতিবেশীকে অভিশাপ দিতে লাগল, আল্লাহ তোমার এরূপ এরূপ করুন। তার প্রতিবেশী তার নিকট এসে তাকে বলল, তুমি ফিরে যাও। ভবিষ্যতে আমার পক্ষ থেকে এরূপ কোনো কিছুর পুনরাবৃত্তি দেখবে না। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৫১৫৩)

৫. অধিক ইবাদত কাজে না আসা : প্রতিবেশীকে কষ্ট দিয়ে যত ইবাদতই করা হোক না কেন, সেটা কোনো কাজে আসবে না। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, জনৈক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহ রাসুল! অমুক নারীর অনেক নামাজ, রোজা ও সদকার আলোচনা হয়, তবে সে মুখ দিয়ে তার প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়। নবীজি (সা.) বললেন, সে জাহান্নামি। সে বলল, হে আল্লাহ রাসুল! অমুক নারীর নামাজ রোজা ও সদকা অল্প বলে তার আলোচনা হয় এবং সে আসওয়ার সদকা করে, তবে সে তার জবান দ্বারা তার প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয় না। নবীজি (সা.) বললেন, সে জান্নাতি। (মিশকাতুল মাসাবিহ)

এই আয়াত ও হাদিসগুলো দ্বারা বোঝা যায়, মুসলমানের করণীয় হলো পারস্পরিক আন্তরিকতা বজায় রাখা, প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেওয়া, প্রতিবেশীর সঙ্গে যথাসম্ভব সদাচার বজায় রাখা।

Saturday, September 13, 2025

বায়তুল মোকাররমে ইসলামি বইমেলার উদ্বোধন আজ

বায়তুল মোকাররমে ইসলামি বইমেলার উদ্বোধন আজ


তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ 
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ১৪৪৭ হিজরি উদযাপন উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মাসব্যাপী ইসলামি বইমেলা শুরু হচ্ছে আজ শনিবার। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে আয়োজিত এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।

বাদ আসর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খান। এতে ধর্ম মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং অতিথিরা উপস্থিত থাকবেন।গতকাল শুক্রবার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ ও পূর্ব চত্বরে আয়োজিত মেলা চলবে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত। প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। ছুটির দিনে মেলা চলবে সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত।

মাসব্যাপী এই মেলায় প্রায় দেড় শতাধিক স্টল স্থান পেয়েছে। পাশাপাশি মিসর, লেবানন ও পাকিস্তান থেকে প্রায় পাঁচটি আন্তর্জাতিক স্টল এবারের বইমেলায় অংশ নিচ্ছে। মেলায় পবিত্র কোরআনের অনুবাদ, তাফসির, হাদিসগ্রন্থসহ ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ের ওপর মৌলিক ও গবেষণাধর্মী বই পাওয়া যাবে। এছাড়া প্রতিদিন লেখক, পাঠক ও প্রকাশকদের অংশগ্রহণে থাকবে ইসলামি সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, আলোচনা সভা ও নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান। থাকবে শিশু চত্বর, মিডিয়া কর্নার, তথ্য কেন্দ্রসহ নারীদের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থা।

মাসব্যাপী বইমেলা উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের স্টলে এবং বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়গুলোয় প্রকাশিত সব বইয়ে দেওয়া হবে ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়।

Saturday, September 6, 2025

মহানবী (সা.)-এর অনুপম জীবনাদর্শ বিশ্বে শান্তি ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে পারে: প্রধান উপদেষ্টা

মহানবী (সা.)-এর অনুপম জীবনাদর্শ বিশ্বে শান্তি ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে পারে: প্রধান উপদেষ্টা










তিস্তা নিউজ ডেস্ক
 ঃ প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অনুপম জীবনাদর্শ, সর্বজনীন শিক্ষা ও সুন্নাহর অনুসরণ আজকের এ দ্বন্দ্ব-সংঘাতময় বিশ্বে শান্তি, ন্যায় এবং কল্যাণ নিশ্চিত করতে পারে।

‘পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.)’ উপলক্ষ্যে দেওয়া গতকাল শুক্রবার এক বাণীতে তিনি বলেন, ‘ধর্মীয় ও পার্থিব জীবনে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুমহান আদর্শ ও সুন্নাহ বিশ্ববাসীর জন্য উৎকৃষ্টতম অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় এবং এর মধ্যেই মুসলমানদের জন্য অফুরন্ত কল্যাণ, সফলতা ও শান্তি নিহিত রয়েছে।

বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব, সর্বশেষ নবী ও রাসূল হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাতের পবিত্র স্মৃতি বিজড়িত ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) সারাবিশ্বের মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র ও মহিমান্বিত একটি দিন উল্লেখ করে এ উপলক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টা দেশবাসীসহ সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানান।

তিনি বলেন, ‘হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন ‘রাহমাতুল্লিল আলামিন’ তথা সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য রহমত। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাঁকে সমগ্র মানবজাতির হেদায়েত ও নাজাতের জন্য প্রেরণ করেছেন। নবী করিম (সা.) সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘হে নবী, আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য কেবল রহমতরূপে প্রেরণ করেছি’ (সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত : ১০৭)। হজরত মুহাম্মদ (সা.) দুনিয়ায় এসেছিলেন ‘সিরাজাম মুনিরা’ অর্থাৎ আলোকোজ্জ্বল প্রদীপরূপে। সব ধরনের কুসংস্কার, অন্যায়, অবিচার, দাসত্ব ও পাপাচারের অন্ধকার থেকে মানুষকে মুক্তি ও আলোর পথ দেখাতে শান্তি, প্রগতি ও কল্যাণের বার্তা নিয়ে এসেছিলেন তিনি।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আল্লাহর প্রতি অসীম আনুগত্য ও ভালোবাসা, অনুপম চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, অপরিমেয় দয়া ও মহৎ গুণের জন্য পবিত্র কুরআনে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনকে বলা হয়েছে ‘উসওয়াতুন হাসানাহ্’ অর্থাৎ সুন্দরতম আদর্শ। তিনি বিশ্ব মানবতার জন্য যে অনিন্দ্য সুন্দর অনুসরণীয় শিক্ষা ও আদর্শ রেখে গেছেন, তা প্রতিটি যুগ ও শতাব্দীর মানুষের জন্য মুক্তির দিশারী হিসেবে পথ দেখাবে।’

পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) সকলের মাঝে বয়ে আনুক অপার শান্তি ও সমৃদ্ধি এই কামনা করে তিনি বলেন, ‘সমগ্র মুসলিম উম্মাহর ঐক্য আরো সুসংহত হোক। মহানবী (সা.)-এর সুমহান জীবনাদর্শ লালন ও অনুসরণের মাধ্যমে আমাদের ইহকালীন ও পরকালীন জীবনের সার্বিক কল্যাণ ও মুক্তি সুনিশ্চিত হোক—এ কামনা করি। আমিন।’

Wednesday, July 30, 2025

তাবলীগ জামাতের দু'গ্রুপের বিবাদ মীমাংসায় ধর্ম উপদেষ্টা

তাবলীগ জামাতের দু'গ্রুপের বিবাদ মীমাংসায় ধর্ম উপদেষ্টা

ধর্ম উপদেষ্টা আফম খালিদ হোসেন 


 তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন। বৈঠকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বখস চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে জানানো হয়, বিবাদ মেটাতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রতিনিধি নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হচ্ছে।

বুধবার (৩০ জুলাই) সচিবালয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা আ ফম খালিদ হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।

ধর্ম উপদেষ্টা জানান, ‘তাবলিগের বিবাদ নিরসনে একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে এ কমিটি হবে। দুই পক্ষ থেকে প্রতিনিধি থাকবেন এই কমিটিতে। আশা করি, এই কমিটির মাধ্যমে উভয় গ্রুপ একটি সমঝোতায় উপনীত হতে পারবে। সামনে সংঘাতের পথ বন্ধ হয়ে যাবে। আমরা এটাই চাইছি।’

তিনি বলেন, ‘তাবলিগ জামাতের দুই গ্রুপ অনেকদিন ধরে আমাদের সঙ্গে বৈঠক করতে চাইছিলেন। আমরা সময় দিতে পারছিলাম না। আজকে তাদের সঙ্গে বৈঠকের দিন নির্ধারিত ছিল, যদিও সময় আলাদা আলাদা ছিল। কিন্তু আমরা একসঙ্গে বৈঠক করেছি। বৈঠকে দুই গ্রুপের সম্মানিত মুরুব্বিরা ছিলেন। কিছু সমস্যা দুই গ্রুপের মধ্যে আছে, সেগুলোকে সহনীয় পর্যায়ে আনার জন্য অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আমরা কথা বলেছি।’

উপদেষ্টা বলেন, ‘আগামী দিনে তাদের সঙ্গে আরও বৈঠক করব। একটু কাছাকাছি নিয়ে আসা। আপনারা জানেন, গত বছর একটি হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছে। এ রকম পরিস্থিতি যাতে আগামী দিনে পুনরাবৃত্তি না ঘটে এ ব্যাপারে উভয়পক্ষের সহযোগিতা চেয়েছি।’

‘ইজতেমা একসঙ্গে করা, কাকরাইল মসজিদ—এসব বিষয় নিয়ে কমিটি আলোচনা করে যে ফল বেরিয়ে আসবে সেটাই আমরা বিবেচনা করব।’ জানান উপদেষ্টা। 


সূত্রঃ দৈনিক রুপালী বাংলাদেশ 

Friday, July 4, 2025

মহররম ও আশুরার কিছু জরুরি বিষয়

মহররম ও আশুরার কিছু জরুরি বিষয়

 


তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ . মহররম শব্দের অর্থ হলো- সম্মানিত বা মর্যাদাপ্রাপ্ত। সূরা তওবার ৩৬ নম্বর আয়াতে বর্ণিত বছরের সম্মানিত ও বিশেষ মর্যাদাপ্রাপ্ত ৪ মাসের অন্যতম হলো- মহররম মাস।
-সহিহ বোখারি: ৪৬৬২

. এ মাসের একমাত্র বিশেষ আমল হলো- নফল রোজা পালন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, রমজানের পর শ্রেষ্ঠ রোজা হলো- আল্লাহর মাস মহররমের রোজা।

-সহিহ মুসলিম: ১১৬৩

. মহররমের ১০ তারিখকে বলা হয় আশুরা। এ দিনটি হলো- মহররম মাসের বরং সারা বছরের সেরা তাৎপর্যপূর্ণ দিন।

হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, আমি আল্লাহর রাসূলকে (সা.) আশুরার দিনের মতো গুরুত্ব ও মর্যাদা দিয়ে অন্যকোনো দিনে রোজা রাখতে দেখিনি। -সহিহ বোখারি: ২০০৬, সহিহ মুসলিম: ১১৩২
৪. আশুরার উপলক্ষে কমপক্ষে দু’টি রোজা রাখার নির্দেশ।
মদিনায় আগমনের পর যখন হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) আশুরার দিনে রোজার নির্দেশ দিলেন, তখন লোকেরা বলে উঠলো, এ দিনকে তো ইহুদি-খ্রিস্টানরা মর্যাদা দিয়ে থাকে। তিনি উত্তর করলেন, আগামী বছর এলে আমি ৯ তারিখেও রোজা রাখবো। অবশ্য পরবর্তী মহররম মাস আসার পূর্বেই তিনি ইন্তেকাল করেন। -সহিহ মুসলিম: ২৬১৯

৫. আশুরার দিনে রোজার মর্যাদা। হজরত আবু কাতাদা (রা.) হতে বর্ণিত আছে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আল্লাহর নিকট আমার আশা হলো- তিনি আশুরার দিনের রোজার বিনিময়ে এক বছরের পূর্বের গোনাহ মাফ করে দেবেন। -সহিহ মুসলিম: ১১৬৩

৬. ইসলামের প্রথম ফরজ রোজা ছিলো আশুরার দিনের রোজা। হজরত আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত, ইসলাম পূর্বযুগে কুরাইশের লোকেরা আশুরার দিনে রোজা রাখতো। আল্লাহর রাসূলও (সা.) এই দিনে রোজা রাখতেন। মদিনার আগমনের পর তিনি নিজে রোজা রাখার পাশাপাশি সবাইকে সেদিন রোজা রাখার নির্দেশ জারি করলেন। এরপর যখন রমজানের রোজার বিধান এলো, তিনি বললেন- যে ইচ্ছা আশুরারটা রাখবে যে ইচ্ছা রাখবে না। -সহিহ বোখারি: ৩৭৪৪
৭. আশুরার রোজাই একমাত্র নফল আমল, যার প্রতি শিশুদেরও উৎসাহিত করা হয়েছে। হজরত রুবাইয়্যি (রা.) বলেন, আশুরার দিন সকালে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) এক ঘোষককে আনসারিদের পাড়ায় পাড়ায় এ মর্মে ঘোষণা করার জন্য প্রেরণ করেছিলেন, যারা কিছু খেয়ে ফেলেছে তারা যেন দিনের অবশিষ্ট অংশ পানাহার থেকে বিরত থাকে। আর যারা রোজা রেখেছে তারা যেন সেটা পূর্ণ করে। বর্ণনাকারী বলেন, সে কারণে আমরা নিজেরা রোজা রাখতাম এবং আমাদের শিশুদেরকে খেলনা দিয়ে ভুলিয়ে রেখে রোজা রাখাতাম। -সহিহ বোখারি: ১৬৯০

৮. আশুরার রোজা একটি নয়, দু’টি। ইবাদত-বন্দেগির বিষয়ে ইহুদি-খ্রিস্টানদের অনুকরণ নিষেধ। ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমরা আশুরার দিনে রোজা রাখবে কিন্তু ইহুদিদের চেয়ে ভিন্নতর এবং ব্যতিক্রম করে রাখবে। অর্থাৎ (ওরা শুধু আশুরার দিন রাখে, তোমরা) তার আগে বা পরে আরেকটি রোজা যোগ করবে। -মুসনাদে আহমাদ: ১/২৪১, ইবনে খুজাইমা: ২০৯৫

৯. আশুরার দিনে রোজার রহস্য। এ দিনে হজরত মুসা (আ.) ও তার সম্প্রদায় বনি ইসরাইলকে আল্লাহতায়ালা ফেরআউনের কবল থেকে মুক্ত করেছিলেন, তারই শুকরিয়াস্বরূপ তিনি এ দিন রোজা রাখতেন। মদিনায় ইহুদিরাও তার অনুকরণে এ দিন রোযা রাখত। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) এটা জেনে বললেন, তোমাদের চেয়ে আমরাই বরং মুসার অনুকরণের অধিক উপযুক্ত। এরপর থেকে তিনি রোজা রাখতেন এবং সবাইকে রোজার নির্দেশ দিয়েছেন। -সহিহ বোখারি: ১৯০০

১০. আশুরার দিনটি হজরত মুসা (আ.)-এর জন্য বিজয়ের দিবস হলেও কাকতালীয়ভাবে একই দিনে কারবালার নির্মম ঘটনাটিও ঘটেছিল। তাই বলে এ দিনকে শোকের দিন হিসেবে পালন করা উল্লেখিত হাদিসসমূহের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এ দিনে রোজা না রেখে উল্টো মাতম করা, শোক মিছিল বের করা, নখ বা ছুরি দিয়ে নিজের মুখ-শরীর ক্ষত-বিক্ষত করা চরম ভ্রষ্টতা ও জঘন্য বিদআত।

আশুরার দিনে ভালো খাবার গ্রহণ করা সম্পর্কিত হাদিসটিও শুদ্ধতার মানদণ্ডে উত্তীর্ণ নয়। আল্লাহতায়ালা সবাইকে সঠিক উপায়ে ইসলামের অনুকরণ করার তওফিক দান করুন। আমিন।

Friday, June 13, 2025

ইসলামিক জিজ্ঞাসা ও জবাব

ইসলামিক জিজ্ঞাসা ও জবাব



প্রশ্ন : আমরা জানি যে, নামাজের প্রথম রাকাতে তাকবীরে তাহরীমা বাধার পর প্রথমে ছানা, তারপর আউজুবিল্লাহ বিসমিল্লাহ পড়ে সুরা ফাতেহা পড়তে হয়। ফরজ নামাজের ক্ষেত্রে ২য় রাকাতে এবং সুন্নত বা নফল নামাজের পরবর্তী রাকাত ও রাকাতসমূহেও কি সূরা ফাতেহা পড়ার পূর্বে আউজুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ পড়ে সুরা ফাতেহা পড়তে হয়? আর সুরা ফাতেহা পড়ার পর অন্য সুরা মিলানোর পূর্বেও কি একইভাবে পড়তে হয়?


উত্তর : প্রতি রাকাতেই সুরা ফাতেহা ও অন্য সুরার আগে বিসমিল্লাহ পড়া সুন্নত। আউজুবিল্লাহ পড়ার প্রয়োজন নেই। আর ছানাও কেবল প্রথম রাকাতে পড়তে হয়।


উত্তর দিয়েছেন : আল্লামা মুফতি উবায়দুর রহমান খান নদভী।

Thursday, June 5, 2025

মুসলমানদের ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখার আহ্বান

মুসলমানদের ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখার আহ্বান



তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃমুসলমানদের পরস্পরের মধ্যে ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখার কথা বলেছেন মসজিদুল হারামের ইমাম শায়খ ড. সালেহ বিন হুমাইদ। বৃহস্পতিবার মসজিদে নামিরায় হজের খুতবায় তিনি এ আহ্বান জানান।তিনি বলেন, ঈমানদারদের উচিত আল্লাহকে ভয় করা এবং তাকওয়া অবলম্বন করা। তাকওয়া ঈমানদারের বৈশিষ্ট্য। তিনি বলেন, শয়তান মুসলমানদের প্রকাশ্য শত্রু। মুসলমানদের উচিত পরস্পরের মধ্যে ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখা।

শায়খ সালেহ বিন হুমাইদ বলেন, আল্লাহ তায়ালা ইসলামকে মানবজাতির জন্য দ্বীন হিসেবে পছন্দ করেছেন। যদি তুমি তোমার শত্রুকে ক্ষমা করো, তাহলে আল্লাহ তোমাকে তাঁর বন্ধু বানিয়ে নেবেন।

তিনি আরও বলেন, সৎকর্ম পাপসমূহকে মুছে দেয়। তাই আমাদের উচিত যতটা সম্ভব নেক কাজের চেষ্টা করা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আল্লাহর এবাদত এমনভাবে করো যেন তুমি তাকে দেখছ।

মসজিদুল হারামের সাবেক ইমাম বলেন, ইসলাম ধর্মের তিনটি স্তর রয়েছে, যার মধ্যে সর্বোচ্চ স্তর হলো ‘ইহসান’। পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার, নম্রতা প্রদর্শন এবং প্রতিশ্রুতি পূরণ করাও ইসলামেরই অংশ। আর লজ্জাশীলতা বা হায়া হলো ঈমানের একটি শাখা।