Showing posts with label ঝিনাইদহ. Show all posts
Showing posts with label ঝিনাইদহ. Show all posts

Thursday, October 8, 2026

নবীনবরণ ঠেকাতে কলেজে তালা, রাস্তায় শিবিরের অনুষ্ঠান

নবীনবরণ ঠেকাতে কলেজে তালা, রাস্তায় শিবিরের অনুষ্ঠান

 

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ ঝিনাইদহের সরকারি কেশব চন্দ্র (কেসি) কলেজে ছাত্রশিবিরের নবীনবরণকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় সব ধরনের সভা, সমাবেশ, মিছিল ও মিটিং অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কলেজ প্রশাসন। একই সঙ্গে কলেজ ক্যাম্পাসে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে কলেজের সামনে সমাবেশ ও সড়ক আটকে উন্মুক্ত রাস্তায় প্রতীকী নবীনবরণ আয়োজন করে ছাত্রশিবির।

এ সময় কলেজের তালাবদ্ধ প্রধান ফটকের সামনে পুলিশ অবস্থান নেয়। পরে সড়কে ট্রাকের ওপর ভ্রাম্যমাণ মঞ্চ তৈরি করে প্রতিবাদ সমাবেশ করে ছাত্রশিবির। এতে জেলা জামায়াতের আমির ও ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মোহাম্মদ আবু বকর, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল আওয়াল ও সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান বক্তব্য দেন। এ সময় জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিবাদ সমাবেশে সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কলেজের প্রিন্সিপাল ও ভাইস প্রিন্সিপাল ফ্যাসিবাদী আচরণ করেছেন। নবীনবরণের অনুমতি দেওয়ার পরও অনুষ্ঠানের দিন কলেজ বন্ধ করে প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। কলেজ প্রশাসনের এই আচরণের বিচার ঝিনাইদহের মানুষ করবে। প্রিন্সিপাল ও ভাইস প্রিন্সিপালকে এর জন্য জবাবদিহি করতে হবে।

সমাবেশে বক্তারা কলেজের প্রিন্সিপাল ও ভাইস প্রিন্সিপালের পদত্যাগ দাবি করেন। পরবর্তীতে ঝিনাইদহ শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপহারসামগ্রী বিতরণ করে কেসি কলেজ শাখা ছাত্রশিবির। এ সময় ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুর রহমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন।

এদিকে, এ ঘটনায় সরকারি কেসি কলেজের প্রিন্সিপাল ড. মাসরুর উল আলমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


Sunday, May 24, 2026

ভিজিএফ কার্ড ভাগাভাগি, বিএনপির চেয়ে জামায়াতের ভাগ কম হওয়ায় ঝুলে আছে বিতরণ

ভিজিএফ কার্ড ভাগাভাগি, বিএনপির চেয়ে জামায়াতের ভাগ কম হওয়ায় ঝুলে আছে বিতরণ

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ এবার ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে গরিব ও দুস্থ মানুষের মাঝে চাল বিতরণের ভিজিএফ কার্ড রাজনৈতিক সমঝোতায় বন্টন করা হয়েছে। আর এতে বিএনপি, জামায়াত ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) জন্য রয়েছে আলাদা ভাগ। আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে গরীব ও দুস্থ মানুষের মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণ করার কথা থাকলেও এখানো কার্ড বিতরণ করা হয়নি। বিএনপির তুলনায় জামায়াতে ইসলামীর কার্ডের ভাগ কম পড়ায় বিতরণে ঝামেলা হচ্ছে বলে জানা গেছে। আর এতে বিপাকে পড়েছে এলাকার গরীব ও দুস্থ মানুষ।  

কালীগঞ্জ পৌরসভার প্রধান সহকারী আমিনুল ইসলাম ঠান্ডুর কাছ থেকে সংগ্রহ করা বন্টনের তালিকায় দেখা গেছে, ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরে কুরবানির ঈদের আগে কালীগঞ্জ পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে ৪ হাজার ৬২৫টি ভিজিএফ কার্ড তৈরি করা হয়েছে। এরমধ্যে বিএনপি ২ হাজার ৮০০টি, জামায়াত ১ হাজার ৫০০ টি ও ইউএনও ভাগ পেয়েছেন ৩২৫টি।  এর আগে রোজার ঈদে বিএনপি ২ হাজার ৮০০টি, জামায়াত ১ হাজার ২০০টি, নির্বাহী প্রকৌশলী ২৫টি ও গণঅধিকার পরিষদ নেয় ৪০টি। কিন্তু এবার ইউএনও ভাগ নিয়েছেন ৩২৫টি।

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে সরকার গরীব ও দুস্থদের মাঝে ভিজিএফের ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করে। কিন্তু ঈদের আর মাত্র ৩দিন বাকি থাকলেও এখনো পর্যন্ত পৌরসভায় ভিজিএফ কার্ড বিতরণ করা হয়নি। এবার মনে হয় আর ঈদের আগে ভিজিএফের চাল বিতরণ হবে না। উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে ভিজিএফের চাল বিতরণ করা শুরু হলেও পৌরসভায় এখনো কার্ডই বিতরণ করা হয়নি।  

এ ব্যাপারে খোঁজ নিতে রোববার (২৪ মে) দুপুরে কালীগঞ্জ পৌরসভায় গেলে প্রধান সহকারী আমিনুল ইসলাম ঠান্ডু ফাইল থেকে বন্টনের কাগজটি বের করে দেখান। এছাড়াও ভিজিএফ কার্ডগুলো তার কক্ষে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এ সময় তিনি বলেন, এবারের তালিকা করা হয়েছে। তবে মানবে কিনা বলা যাচ্ছে না। কার্ড বিতরণ নিয়ে বিএনপি–জামায়াতের মধ্যে খুব ফিকশন চলছে। গত রোজার ঈদে বিএনপি ২৮০০ আর জামায়াত ১২০০ কার্ড দিয়েছিল। সে সময় একটা কায়দায় মীমাংসা করা হয়েছিল। কিন্তু এবার বিএনপির সমপরিমাণ চেয়েছে জামায়াত। এটা নিয়েই ঝামেলা হচ্ছে।

এদিকে কালীগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ পৌরসভার প্যাডে রাজনৈতিক দল ও নিজের ভাগের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, সোমবারের মধ্যে কার্ড বিতরণ করা হবে। পৌরসভার প্যাড যে কেউ এটা বানাতে পারে। এভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বন্টন করা সরকারের কোনো নির্দেশনা নেই।  

Friday, May 22, 2026

জামায়াত এমপিকে বেড়ে খাওয়ালেন শিবিরকর্মী হত্যা মামলার আসামি আ.লীগ নেতা

জামায়াত এমপিকে বেড়ে খাওয়ালেন শিবিরকর্মী হত্যা মামলার আসামি আ.লীগ নেতা



তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে শামীম হোসেন নামে শিবিরকর্মী হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামির মেয়ের বিয়ের দাওয়াতে গেলেন ঝিনাইদহ-৪ আসনের জামায়াতদলীয় সংসদ সদস্য (এমপি) আবু তালিব। এ সময় জামায়াতের এমপিকে নিজ হাতে বেড়ে খাওয়াতে দেখা গেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা মহিদুল ইসলাম মন্টুকে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) কালীগঞ্জ উপজেলার বগেরগাছি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।  

মহিদুল ইসলাম মন্টু কালীগঞ্জ উপজেলার ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। 

জানা গেছে, নিজ বাড়িতে মহিদুল ইসলাম মন্টুর মেয়ে মেহেজাবিন ইসলাম তুলির সঙ্গে কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মারুফ বিল্লাহর বিয়ের আয়োজন ছিল বৃহস্পতিবার। সেখানে দাওয়াতে যান ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু তালিব। এছাড়াও এ বিয়েতে আসেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রাশেদ খান, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক তবিবুর রহমান মিনি, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ওহিদুজ্জামান ওদু, আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদ শমসেরসহ আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতের অন্যান্য নেতারা। 

মহিদুল ইসলাম মন্টু শিবিরকর্মী শামীম হোসেন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। শামীমের বাবা রুহুল আমিন এ মামলার বাদী। মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৬ সালের ২৪ মার্চ বিকাল ৫টার দিকে শহরের মাহতাব উদ্দিন কলেজের পূর্ব পাশের গেটের সামনে থেকে দুই মোটরসাইকেলে থাকা সাদা পোশাকধারী চারজন শামীমকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। এরপর বিভিন্ন অফিসে খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান পায়নি পরিবার। পরে ২০১৬ সালের ১৩ এপ্রিল যশোর সদরের লাউখালি গ্রামের শশ্মানঘাট এলাকায় তার গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া যায়। 

এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর কালীগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন রুহুল আমিন। মামলায় মন্টুসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক রাজনৈতিক কর্মী বলেন, শিবিরকর্মী হত্যা মামলার আসামির মেয়ের বিয়ের দাওয়াতে গিয়ে খাইলেন জামায়াতের এমপি। এটা একদমই লজ্জার বিষয়। 

এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য আবু তালিব বলেন, ওই ইউনিয়নে আমার গ্রামের বাড়ি। সমাজ ও সামাজিকতার কারণে গিয়েছি। ওই হত্যা মামলায় আমিই সাবেক চেয়ারম্যান মন্টুর নাম দিয়েছি। মামলায় যাতে ভুক্তভোগী পরিবার সঠিক বিচার পায়, সে ব্যবস্থাও করা হবে।

Saturday, May 2, 2026

মেয়ের বিয়ের পাত্র নিয়ে পালালেন মা

মেয়ের বিয়ের পাত্র নিয়ে পালালেন মা

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ ঝিনাইদহের শৈলকুপায় নিজের বড় মেয়ের জন্য পছন্দ করা হবু জামাইয়ের হাত ধরে পালিয়ে গেছেন তিন সন্তানের জননী। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) শৈলকুপা উপজেলার চর-ত্রিবেণী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওই নারীর নাম রিমি খাতুন (৩৫)। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

জানা গেছে, নিজ মায়ের ও হবু জামাইয়ের সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পেরে ওই মেয়ে আত্মহননের পথ বেছে নিলেও থেমে থাকেনি তাদের অবৈধ প্রেমের সম্পর্ক। অবশেষে দুই নাবালক সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে পালিয়ে গেছেন ওই নারী।

 

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৭ বছর আগে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার রিমি খাতুনের সঙ্গে শৈলকুপার চর-ত্রিবেণী গ্রামের গাড়িচালক রাশেদ আলীর (৩৮) বিয়ে হয়। তাদের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে তিন সন্তান জন্ম নেয় । জীবিকার তাগিদে রাশেদ প্রায়ই বাড়ির বাইরে থাকতেন।

 

অভিযোগ উঠেছে, প্রায় এক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টিকটকের মাধ্যমে পার্বতীপুর গ্রামের মামুন হোসেন (২৪) নামে এক যুবকের সঙ্গে পরিচয় হয় রিমির। মামুন নিজেকে সেনাবাহিনীর সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। সেই পরিচয় থেকে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।

 

সেই পরিচয় থেকে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পরে রিমি (মা) তার নিজের মেয়ের বিয়ের জন্য মামুনকে পছন্দ করেন। তবে মা ও হবু জামাইয়ের মধ্যকার অতিরিক্ত মেলামেশা ও ঘনিষ্ঠতা দেখে মেয়ে এই বিয়েতে আপত্তি জানায়। এক পর্যায়ে এই বিষয় নিয়ে পরিবারে অশান্তি ও মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে বড় মেয়ে আত্মহননের পথ বেছে নেয়। বড় মেয়ের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর পরেও থেমে থাকিনি রিমি ও মামুনের পরকীয়ার সম্পর্ক।

 

স্বামী রাশেদ বিষয়টি জানতে পেরে স্ত্রীকে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। অবশেষে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) স্বামী বাড়িতে না থাকার সুযোগে ছোট দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে মেয়ের সাথে বিয়ে ঠিক করা পাত্র মামুনের হাত ধরে ঘর ছাড়েন রিমি।

 

ভুক্তভোগী স্বামী রাশেদ আলী এ ঘটনায় শৈলকুপা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শৈলকুপা থানার ওসি মো. হুমায়ন কবির মোল্লা বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পালিয়ে যাওয়া গৃহবধূর কাছ থেকে শিশু সন্তানদের উদ্ধারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Tuesday, March 11, 2025

ঝিনাইদহে জামায়াতের নারী কর্মীদের ওপর হামলায় বিএনপি সমর্থক গ্রেফতার

ঝিনাইদহে জামায়াতের নারী কর্মীদের ওপর হামলায় বিএনপি সমর্থক গ্রেফতার



তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ রাজপথে ঐক্যবদ্ধ ভাবে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন করলেও তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঝিনাইদহের তৃণমুলে মতবিরোধ এমনকি হামলার ঘটনাও ঘটেছে। ফলে ঝিনাইদহের বিভিন্ন এলাকায় জামায়াত বিএনপি মুখোমুখি দাড়িয়েছে। তৃণমুল নেতাদের এহেন কর্মকান্ডে অনেকটাই বিব্রত দুটি সংগঠনের জেলা নেতৃবৃন্দ। গত শনিবার (৮ মার্চ) ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের কুল্লোপাড়া গ্রামে জামায়াতের নারী কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এনিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের দোষারোপ করে মহেশপুর থানায় মামলা দায়ের করেন জামায়াতের নারী কর্মী হাসিনা খাতুন। কেন্দ্রীয় জামায়াতের আমীর ডাঃ শফিকুর রহমান হামলার ঘটনায় বিবৃতি দেন। প্রতিবাদে মহেশপুরের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক নারী সমাবেশ করতে থাকে জামায়াত। মঙ্গলবার দুপুরেও মহেশপুর সরকারী কলেজ মাঠে জামায়াতের নারী কর্মীরা প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। এতে নড়েচড়ে বসে স্থানীয় প্রশাসন। এদিকে জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় মঙ্গলবার সোহেল হোসেন নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত সোহেল হোসেন মহেশপুর উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের কুল্লোপাড়া গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে ও স্থানীয় বিএনপি সমর্থক। জানা গেছে, গত ৮ মার্চ শনিবার আন্তর্জাতিক নারী দিবসে বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়নের কুল্লোপাড়া গ্রামের খায়রুল ইসলামের বাড়িতে সমাবেশের আয়োজন করা হয়। জামায়াতের অভিযোগ সভা চলাকালে স্থানীয় হায়াত আলীর ছেলে ঝুমুর, ওমর আলীর ছেলে আলআমিন, আব্দুল কাদেরের ছেলে সোহেল, আব্দুল লতিফের ছেলে সাহেব আলী ও ফকির মিয়ার ছেলে আশরাফুলের নেতৃত্বে কয়েকজন হামলা চালায়। হামলায় আহত হন হাসিনা খাতুন নামে জামায়াতের এক নারী কর্মী। বিষয়টি উপজেলা থেকে দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের কানে পৌছে যায়। মহেশপুর উপজেলা বিএনপিও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে। এ ঘটনার সঙ্গে তারা জড়িত নয় বলে তারা দাবী করেছেন। এদিকে ভিজিএফ কার্ড বন্টনে অসচ্ছতার অভিযোগ এনে সদর উপজেলার সাগান্না ইউনিয়ন পরিষদে চড়াও হয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা। ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেত্রী আম্বিয়া খাতুন লাকির উপর তেড়ে যান জামায়াত নেতারা। এ সময় ইউনিয়ন জামায়াতের আমির এ্যাড আকরাম ও সেক্রেটারি ইউনুস আলী উপস্থিত ছিলেন। আবার বাজার কমিটি গঠন নিয়ে সদর উপজেলার হলিধানী ইউনিয়নে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিতদের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়। এ ভাবে প্রায় সারা জেলার তৃণমুলে কমবেশি মতনৈক্য সৃষ্টি হচ্ছে। এ বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা বলেন, জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির কোন বিরোধ নেই। তৃণমুলে যা ঘটছে সেটা হয়তো ভুল বোঝাবুঝি। একটি মহল আমাদের মধ্যে বিবাদ বা অনৈক্য সৃষ্টির জন্যহয়তো এটা করছে। বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল আওয়াল জানান, রাজপথে আমরা ফ্যাসিবাদ শক্তিকে হঠিয়েছি। বিএনপির সঙ্গে আমাদের কোন বিরোধ নেই। তিনি বলেন, তৃণমুলে ফ্যাসিষ্টরা বিভিন্ন দলে ঢুকে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছেন বলে আমি মনে করি।

Wednesday, January 1, 2025