Monday, April 20, 2026

বন্ধুর খোঁড়া কবরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন অপর বন্ধু


তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার কেরোয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এদিন সকালে আবুল হাশেমের দীর্ঘদিনের বন্ধু বাচ্চু পাটওয়ারীর মৃত্যু হয়। বন্ধুর মৃত্যুতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন আবুল হাশেম। দুপুরে বন্ধুর মরদেহ দাফনের জন্য কবর খুঁড়তে গেলে সেই কবরেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। 
বাচ্চু পাটওয়ারী ও আবুল হাশেম ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার ২নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ কেরোয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তাদের দুইজনের বয়স ছিল ৯০ বছরের কাছাকাছি। 
স্থানায়ীরা জানান, বাচ্চু পাটওয়ারী ও আবুল হাশেমের সর্ম্পক দীর্ঘদিনের। একজন পূর্বে কাঠমিস্ত্রির কাজ করতেন এবং আরেকজন ছিলেন মসজিদের মুয়াজ্জিন। তারা সারাক্ষণ একসঙ্গে থাকতেন। এলাকার কারও মৃত্যু হলে দুজনে একসঙ্গে মৃত ব্যক্তিদের জন্য কবর খুঁড়তেন। তাদের কবর খোঁড়ার সংখ্যা শতাধিক ছাড়িয়েছে। 
রোববার রাতেও তারা একসঙ্গে আড্ডা দিয়েছেন। সোমবার একসঙ্গে ফজরের নামাজও পড়েছেন। কিন্তু সকাল বেলা দুই বন্ধুর মধ্যে বাচ্চু পাটওয়ারি বার্ধক্যজনিত কারণে বাড়িতেই মৃত্যুবরণ করেন। সংবাদ পেয়ে দ্রুত ছুটে যান বন্ধু আবুল হাশেম। এরপর বন্ধুর জন্য খুঁড়তে যাওয়া কবরেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। 
আবুল হাশেমের ছেলে জহির হোসেন বলেন, আমার বাবা ও প্রতিবেশী বাচ্চু চাচা দুইজনই ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। একসঙ্গেই সময় কাটাতেন এবং এলাকার কোনো মানুষ মারা গেলে দুজনেই বিনা পারিশ্রমিকে কবর খুঁড়ে দিতেন। 
অন্যদিকে, বাচ্চু পাটওয়ারীর ভাতিজা নাজির আহমেদ হুমায়ুন পাটওয়ারী বলেন, আবুল হাশেম চাচাসহ পাটোয়ারী চাচার কবর খুঁড়ছিলাম। কবর খোঁড়ার শেষ পর্যায়ে হঠাৎ করেই হাশেম কাকা কবরে শুয়ে পড়েন। পরে তাড়াহুড়া করে ওপরে উঠিয়ে দেখি তিনি আর বেঁচে নেই। 
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, আমি বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মধ্যমে দেখেছি , বিষয়টি নিয়ে কেউ যোগাযোগ করেনি।

শেয়ার করুন