Saturday, May 9, 2026

গাজীপুরে ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা, আটক ২

 তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ 

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় এক প্রবাসীর বাড়িতে একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। তবে তদন্তের স্বার্থে আটক ব্যক্তিদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

শনিবার (৯ মে) সকালে উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়ি থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দিন দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহতরা হলেন— সন্দেহভাজন ঘাতক ও পলাতক প্রাইভেটকার চালক ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন (৩০), তাদের বড় মেয়ে মীম (১৫), মেজো মেয়ে মারিয়া (৮), ছোট মেয়ে ফারিহা (২) এবং শারমিনের ছোট ভাই রসুল মিয়া (১৮)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাস্থলের দৃশ্য ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। তিন শিশুর গলা কাটা মরদেহ ঘরের মেঝেতে পাশাপাশি পড়ে ছিল। শারমিনের ভাই রসুলের মরদেহ পাওয়া যায় বিছানার ওপর। অন্যদিকে হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় শারমিনের মরদেহ পড়ে ছিল জানালার পাশে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে প্রায় এক বছর ধরে পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকতেন ফোরকান মিয়া। প্রতিবেশীদের দাবি, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক কলহ লেগে থাকত। শুক্রবার রাতেও পরিবারের সদস্যদের স্বাভাবিকভাবে দেখা গেছে বলে জানান তারা।

শনিবার সকালে ঘরের ভেতরে পাঁচজনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর আলম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জেরে ফোরকান মিয়া নিজেই স্ত্রী, সন্তান ও শ্যালককে হত্যা করে পালিয়ে গেছেন। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে।

গাজীপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আশফাক উজ্জামান জানান, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক দুই ব্যক্তি ফোরকানের গাড়ি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।


শেয়ার করুন