Tuesday, May 12, 2026

অভিযানে গিয়ে গ্রামবাসীর মার খেলেন ইউএনও-ওসি

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ খাগড়াছড়ির রামগড়ে অবৈধভাবে ছড়া থেকে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযানকালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওপর গ্রামবাসীর হামলার ঘটনা ঘটেছে।

 

হামলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনাকারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শামীম এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজির আলমসহ কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যসরা ১০টি রাবার বুলেট ছোড়ে।

 

মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। ইউএনও-ওসি ছাড়া আহতদের মধ্যে রয়েছেন ইউএনওর নিরাপত্তায় নিয়োজিত চার আনসার সদস্য এপিসি মো. সালাহ উদ্দিন, নুর মোহাম্মদ-১, নুর মোহাম্মদ-২ ও খোরশেদ আলম, ইউএনও অফিসের স্টাফ আব্দুল ওহাব জুয়েল, ইউএনওর ড্রাইভার কামাল উদ্দিন, উপজেলা পরিষদের স্টাফ হারুন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিস স্টাফ জয়নাল আবেদীন, পৌরসভার স্টাফ সিহাব উদ্দিন।

 

এ ছাড়া গ্রামবাসীর মধ্যে নুর হোসেন, সুমন ত্রিপুরা, আজাদ ও আবুল হাসান। তারা রাবার বুলেটে আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শামীম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দুপুরে রামগড় ইউনিয়নের পূর্ববলিপাড়া ও দক্ষিণ লামকপাড়া এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় কিছু লোক অভিযান পারিচালনায় অংশগ্রহণকারীদের ওপর চড়াও হয়। একপর্যায়ে তারা এক-দেড়শ লোক জড়ো হয়ে ইটপাটকেল ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে তিনিসহ ১১ জন আহত হন।

 

ইউএনও বলেন, ওই এলাকায় প্রায় ১০টি স্পটে পাম্প মেশিনের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হয়।

 

রামগড় থানার ওসি মো. নাজির আলম বলেন, শতাধিক নারী ও পুরুষ একত্রিত হয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এ পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ পাঁচটি ফাঁকা গুলি ও আনসার সদস্যরা পাঁচটি রাবার বুলেট ছোড়ে।

 

গ্রামবাসীদের মধ্যে আহত দেলোয়ার, সুমন ও নুর হোসেন অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসন কৃষকদের জমিতে সেচের জন্য খালের পাড়ে রাখা চারটি পাম্প ভেঙে ফেলে। এতে গ্রামবাসী বাধা দিলে তারা গ্রামবাসীর ওপর গুলিবর্ষণ করে।

 

কৃষক ফারুক অভিযোগ করেন, অভিযান পরিচালনাকারীরা তার একটি সেচের পাম্প ভেঙে ফেলেছে। একইভাবে কিবরিয়া ও বশর নামে তিন কৃষকের সেচ পাম্পও ভাঙা হয়।

 

তবে রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কজী শামীম কৃষকদের সেচ পাম্প ধ্বংস করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।


শেয়ার করুন