এই বয়সে তার ওজন ছাড়িয়েছে ৮০ কেজি। প্রতিদিন সে পানি পান করছে ৩৫ থেকে ৪০ লিটার।
অতিরিক্ত ওজন আর অস্বাভাবিক তৃষ্ণা যেন ধীরে ধীরে আটকে দিচ্ছে তার শৈশবের দরজা।
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার সফাপুর ইউনিয়নের তাতারপুর গ্রামের ভ্যানচালক হাফিজুল ইসলামের ছোট মেয়ে সোহাগী।
চার ভাই-বোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট সে।
সোহাগীর মা হাসিনা বেগম জানান, জন্মের পর সবকিছু স্বাভাবিক ছিল।
কিন্তু ৮ মাস বয়সের পর থেকেই শুরু হয় অদ্ভুত পরিবর্তন। বুকের দুধ ছাড়ার পর থেকেই পানির প্রতি তৈরি হয় তার অস্বাভাবিক আকর্ষণ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার তৃষ্ণা যেন বাড়তেই থাকে। এখন দিন-রাত মিলিয়ে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ লিটার পানি পান করে সোহাগী।
অতিরিক্ত পানি আর ওজনের চাপে ফুলে উঠেছে শরীর। বেঁকে গেছে দুই পা। কিছুদূর হাঁটলেই হাঁপিয়ে ওঠে। গরমে কষ্ট বাড়ে আরও। বন্ধ হয়ে গেছে স্কুলে যাওয়া। সমবয়সীদের সঙ্গে খেলায়ও জায়গা হয় না তার।
সোহাগীর বাবা হাফিজুল ইসলাম বলেন, মেয়েকে সুস্থ করতে চেষ্টা করেছি অনেক। কিন্তু তাতে লাভ হচ্ছে না। স্থানীয় চিকিৎসক, হাতুড়ে ডাক্তার যার কাছে সম্ভব হয়েছে সোহাগীর চিকিৎসা করিয়েছি। কিন্তু সমাধান মেলেনি কোথাও। চিকিৎসকেরা বড় হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। কিন্তু টাকার জন্য এখনো সেটা সম্ভব হয়নি।
সোহাগীর দাদি হামিদা বলেন, স্বাভাবিক খাবার খেলেও অস্বাভাবিক পরিমাণ পানি পান করে সোহাগী। সামান্য হাঁটলেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে। সময়ের সঙ্গে শরীর আরও ভারী হয়ে উঠছে। সকালে ঘুম থেকে উঠেই ৪ থেকে ৫ মগ পানি লাগে সোহাগীর। এমন অবস্থায় চিকিৎসার জন্য সরকারি সহযোগিতা ছাড়া তার চিকিৎসা সম্ভব নয় আমাদের পক্ষে।
সোহাগীর বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলাম জানান, এটি গ্রোথ হরমোনজনিত সমস্যা কিংবা মস্তিষ্কের কোনো জটিলতার কারণে হতে পারে। এরই মধ্যে তার কিছু পরীক্ষা নওগাঁ সদর হাসপাতালে করানো হয়েছে। এবং আরও কিছু পরীক্ষার জন্য রাজশাহীতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
সূত্রঃ বাংলা নিউজ ২৪।


