Wednesday, December 31, 2025

বিশেষ সম্পাদকীয়-বেগম খালেদা জিয়া এক অধ্যায়ের সমাপ্তি

 


মাহমুদ আল-হাছান, তিস্তা নিউজঃ  বেগম খালেদা জিয়া; বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বাস্তবতার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। গনতন্ত্রকামী বাংলাদেশের আপামর মানুষের অভিভাবক হয়ে উঠেছিলেন।বাংলাদেশের ইতিহাস আলোচনা করতে গেলে বেগম খালেদা জিয়াকে বাদ দিয়ে তা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অনাকাঙ্খিত নির্মম হত্যাকান্ডের পরে একজন নিরীহ গৃহবধু থেকে বিএনপি'র চেয়ারপার্সন হয়ে ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে আপোষহীনতার যে অনন্য নজীর স্থাপন করেছেন পরবর্তী ৩৫ বছরে অবিরত চেষ্টা করেও ফ্যাসিস্ট হাসিনা সেই সীমারেখার ধারেকাছেও পৌঁছুতে পারে নাই। আওয়ামী বুদ্ধিজীবিদের বিভিন্ন আলোচনায় বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ এলেই বলতে শোনা যেতো- শেখ হাসিনার সাথে খালেদা জিয়ার তুলনা করা অযৌক্তিক। তারা এভাবে বেগম জিয়াকে ডিমোরালাইজ করার চেষ্টা করেও তাঁর অনন্য ব্যাক্তিত্বের উচ্চতা স্পর্শ করতে সম্পুর্নরুপে ব্যার্থ হয়েছে।


খালেদা জিয়াকে দেখলে মনে হতো ফিফটিন্থ সেঞ্চুরির কোন মুঘল শাহজাদী, যাকে বিংশ শতকের সুবে বাংলার জংলায় ফেলে দেওয়া হয়েছে আর তিনি আপ্রান চেস্টা করছেন এই ইলেকটোরাল পলিটিক্সের নর্দমায় রাজহংসীর মতো আকূল সাঁতরে বেঁচে থাকতে। প্রতিপক্ষ এক লম্পট সেনানায়ক আর বস্তির রাণী সুরাইয়া। এইখানে এই তরুণী বিধবা তার মধুবালা রুপ আর বেহুলার সাহস নিয়ে চষে ফেলেছেন বিস্তীর্ণ বাংলা। একটা কনজার্ভেটিভ প্রায়-ফিউডাল মুসলিম দেশে উনিশ শত একানব্বই সনে একটা আন্ডারডগ দলকে ইলেকশনে জিতিয়ে এনেছেন। ৯১ থেকে ৯৬ ছিলো বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে পিসফুল টাইম। কোন টাইমমেশিন থাকলে আমি বাংলাদেশকে ওই টাইমে ফিরিয়ে নিয়ে বর্তমানের জেনজিকে দেখাতে পারতাম যে কী অস্থির সময়ে কতো দৃঢ়তার সাথে তিনি তার সম্রাজ্যকে সম্রাজ্যবাদীদের রক্তচক্ষু থেকে আগলে রেখেছিলেন। বার্লিন ওয়ালের পরের দুনিয়া, পুরো দুনিয়ায় উইন্ড অফ চেইঞ্জের সুবাতাস, ওইদিকে মনমোহন এইদিকে সাইফুর রহমান বদলে দিচ্ছে ইকোনমির ডায়নামিক্স। রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝে ভব্যতা ছিলো, আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো তাঁবেদারিতে পুরোপুরি মনোনিবেশ করে নাই।সামনে ভালো কিছু হবে এই প্রত্যাশা জনসমাজের ডমিন্যান্ট প্রত্যাশা ছিলো। এরপরের প্রত্যেকটা সরকার তার ইমিডিয়েট আগের সরকারের চেয়ে খারাপ ছিলো। ৯৬ থেকে ২০০১ ছিলো আওয়ামী গডফাদারদের স্বর্নযুগ। তারপরে এলো ২০০১ এর ইলেকশন। খালেদা জিয়া আবার ক্ষমতায়। এই সরকারের কার্যক্রমে বিরক্ত হওয়ার যথেষ্ট উপাদান ছিলো। এর ফলশ্রুতিতে ২০০৮ এ কোন কনফিউশন ছাড়াই সে সময়ের জেনারেশন তাদের প্রথম ভোট আওয়ামীলীগকে দেয়। তারপরেই শুরু হয় খালেদার অনিঃশেষ স্ট্রাগল। এই সতের বছর বয়সী স্ট্রাগলে তাকে অনেককিছু হারাতে হয়েছে। কিন্তু তিনি এমন এক অনতিক্রম্য অবস্থানে পৌঁছে গিয়েছিলেন যে এই “এলিট” ভদ্রমহিলাকে বাদ দিয়ে আপনি বাংলাদেশের ইতিহাস আর লিখতে পারবেননা। বাংলা সালতানাতের শেষ রাণী হিসেবে তিনি বিদায় নিলেন। তার লিগ্যাসি হিসেবে থাকবে অমোঘ বাক্য “ ওদের হাতে গোলামীর জিঞ্জির, আমাদের হাতে স্বাধীনতার পতাকা”। 

পূর্ব বাংলার প্লেবিয়ানরা ইনশাআল্লাহ এই পতাকা সমুন্নত রাখবে। আমরা মনে রাখবো আপনার ওল্ড স্কুল আভিজাত্য, যার সামনে নিজেকে সবসময় দরিদ্র মনে হতো। 

বিদায়ের এই বিয়োগান্তক মুহুর্তে "শাহজাদী খালেদা খানম" আপনি আমাদের অভিবাদন গ্রহণ করুন!


শেয়ার করুন