Monday, February 2, 2026

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জনগণের দল : এটিএম আজহার

এটিএম আজহারুল ইসলাম 

মাহমুদ আল হাছান তিস্তা  নিউজ : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী জনগণের দল এবং যেকোনো সংকটে এই দলই সবার আগে মানুষের পাশে দাঁড়ায়। আমরা মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করি না। যারা ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই মিথ্যা বলছে, তারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দেশের অবস্থা কী হবে, তা সহজেই অনুমেয়।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নীলফামারী শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নীলফামারী শহর জামায়াতের আমির ও জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, অতীতে জামায়াতের অসংখ্য নেতাকর্মীকে হত্যা, জেল-জুলুম ও অন্যায় অত্যাচারের মাধ্যমে এই দলকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু ২৪-এর ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানে সেই অত্যাচারীরাই আজ দেশছাড়া। তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ইনসাফ কায়েমের লক্ষ্যে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রার্থীদের ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান।

জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, “যারা গত দেড় দশকে চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি করে মানুষের জীবন অতিষ্ঠ করেছে, তাদের আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালটের মাধ্যমে ‘লাল কার্ড’ দেখাতে হবে।”

তিনি জামায়াত আমিরের ঘোষণা উদ্ধৃত করে বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে অবহেলিত উত্তরাঞ্চলকে দেশের ‘কৃষি রাজধানী’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। আধুনিক শিক্ষা, মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করাসহ বেকারত্ব দূরীকরণে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার।

নীলফামারী-২ (সদর) আসনের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আল ফারুক আব্দুল লতিফ প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থেকে বলেন, “জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে নীলফামারীর যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটানো হবে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের মানোন্নয়নসহ মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য।”

জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হালিম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের টিম সদস্য মুহাম্মদ আব্দুর রশিদ এবং জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তারসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। জনসভাটিকে কেন্দ্র করে নীলফামারী সদর ও আশপাশের এলাকা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে শহীদ মিনার চত্বর এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়।


শেয়ার করুন