হাকিম বদিউজ্জামান, জলঢাকা (নীলফামারী): নীলফামারীর জলঢাকায় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ দিন দিন বেড়েই চলেছে। অভিযোগ রয়েছে, অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে সরকারি বিদ্যুতের পোল বিক্রি করা হচ্ছে এবং সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, একাধিকবার অভিযোগ দায়ের করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বরং কর্মকর্তাদের নীরবতা এসব অনিয়মকে আরও উৎসাহিত করছে বলে তারা মনে করছেন।
বালাগ্রাম ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মন্থেরডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা মো. সাইদুল ইসলাম জানান, নতুন নির্মিত বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করেছেন। তার বাড়ি থেকে নিকটস্থ বিদ্যুতের খুঁটির (পোল)দূরত্ব ১৪০ ফুট হওয়ায় তাকে জানানো হয়, ১৩০ ফুটের বেশি দূরত্ব হলে নতুন একটি পোল স্থাপন করতে হবে এবং সেটি নিজ খরচে কিনতে হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, পল্লী বিদ্যুতের তালিকাভুক্ত ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত লাইনম্যান মো. জিয়াউর রহমান জিয়া তাকে একটি পোল দেওয়ার কথা বলে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন এবং অগ্রিম ৫ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। পাশাপাশি ওয়্যারিংয়ের জন্য আরও ৬ হাজার টাকা দাবি করে ৩ হাজার টাকা অগ্রিম নেন।
সাইদুল ইসলামের অভিযোগ, টাকা নেওয়ার পর বিষয়টি প্রকাশ না করার জন্য তাকে চাপ দেওয়া হয় এবং প্রকাশ করলে সরকারি নির্ধারিত ২৮,৫০০ টাকা ফি দিতে হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়।
এ ধরনের অভিযোগ শুধু বালাগ্রাম ইউনিয়নেই সীমাবদ্ধ নয়; উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকেও একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে জলঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম মেহেদী মাসুদের সঙ্গে ২৫/০৩/২৬ বুধবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে অফিসে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি অসুস্থতার কথা জানিয়ে বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরে জানাবেন।”
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে সাধারণ মানুষ হয়রানি থেকে মুক্তি পায়।


