Thursday, March 12, 2026

লাখে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেন যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা!

মোঃ আলমগীর হোসেন 

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ নীলফামারী সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ও গোড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে লাখে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে আলমগীর হোসেন ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এলে ইউপি সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।


অভিযোগ উঠেছে, ইউনিয়ন পরিষদের টিআর, কাবিখা, কাবিটা প্রকল্পের রাস্তা-ঘাট সংস্কারসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ইউপি সদস্যদের বরাদ্দ দেওয়ার সময় প্রতিটি প্রকল্প থেকে লাখে ২০ হাজার টাকা করে ঘুষ নেন তিনি। এ ছাড়া আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ভিজিএফের চাল বিতরণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া ৪০০টি কার্ড নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন ইউপি সদস্যরা।

ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য বিলকিস বেগম বলেন, ‘আমাকে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার টাকার একটি প্রকল্প দেওয়া হয়েছে। কাজটি শেষ করেছি, কিন্তু এখনো বিল পাইনি। কাজ দেওয়ার সময় প্রশাসক অগ্রিম ৪০ হাজার টাকা নিয়েছেন।’

আরেক সংরক্ষিত নারী সদস্য চম্পা রানী বলেন, ‘প্রশাসক যে সদস্যকে প্রকল্প দিয়েছেন, তার কাছ থেকেই টাকা নিয়েছেন।

আমাকেও ২ লাখ ৬৩ হাজার টাকার একটি প্রকল্প দিয়েছেন। এজন্য আমার কাছ থেকেও ৪০ হাজার টাকা নিয়েছেন। এটা নাকি তার প্রাপ্য।’
ইউপি সদস্য মশিউর রহমান বলেন,‘টি আর, কাবিটা ও কাবিখা প্রকল্পের প্রতি লাখে ২০ হাজার টাকা দিতে হবে বলে জানিয়েছেন যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন।

আমি তাকে টাকাও দিয়েছি। এ ছাড়া ভিজিএফ চালের ৪০০টি কার্ড তিনি নিজের কাছে রেখেছেন। সেগুলো কি করবেন আমাদের কিছুই বলেনি।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রশাসক মো. আলমগীর হোসেন বলেন,‘মেম্বারদের সঙ্গে আমার কোনো আর্থিক লেনদেন হয়নি। কেউ বলতে পারবে না আমি তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছি। আজ আমাকে অবরুদ্ধ করা হয়নি, সবাই মিলে কিছু কথা হয়েছে।’

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ বলেন,‘অভিযোগগুলোর বিষয়ে আগে জানা ছিল না। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শেয়ার করুন