Tuesday, June 23, 2026

জলঢাকায় টেন্ডার ছাড়াই সরকারি গাছ কর্তনের অভিযোগ বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

 

মাহমুদ আল-হাছান, তিস্তা নিউজ :  নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় রাস্তায় লাগানো সামাজিক বনায়নের গাছ নিয়ম বহির্ভূতভাবে কর্তন ও আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. জোবায়ের আলমের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী প্রদীপ কুমার রায়কে ব্যবহার করে উপজেলার বিভিন্ন স্থানের সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে পরস্পর যোগসাজসে তারা আত্মসাত করে আসছেন।

জানা যায়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে উপজেলার কৈমারী-দোলাপাড়া এলাকায় ২ হাজার ১০০ মিটার সড়ক উন্নয়ন কাজে এলজিইডির মাধ্যমে ২ কোটি ২৯ লাখ ৮০ হাজার ৭৩৫ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল গত ১২ মে ২০২৬। তবে সড়কের পাশে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় রোপণ করা বেশ কয়েকটি বৃহদাকৃতির ইউক্যালিপটাস গাছ থাকায় সেগুলো অপসারণের প্রয়োজন দেখা দেয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি বিধি অনুযায়ী গাছগুলো নিলাম ও টেন্ডারের মাধ্যমে অপসারণের কথা থাকলেও সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে বন বিভাগ কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও প্রদীপ কুমার রায়ের মাধ্যমে  গাছগুলো কেটে ফেলে এবং পরে সেগুলো অন্যত্র সরিয়ে বিক্রির পাঁয়তারা করেন বলে অভিযোগ করেছেন সামাজীক বনায়নের সদস্যবৃন্দ। 

সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির সদস্য ধীরেন্দ্র অধিকারী বলেন, “আমরা এই বাগানের সদস্য। কিন্তু গাছ নিলাম বা কর্তনের বিষয়ে আমাদের কিছুই জানানো হয়নি। প্রদীপ যেভাবে নির্দেশ দিয়েছে সেভাবেই গাছ কর্তন হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক সদস্য বলেন, “এ বিষয়ে কিছু বলতে গেলে ভয়ভীতি ও মারধরের আশঙ্কা থাকে। তাই কেউ মুখ খুলতে চায় না।”

এদিকে গাছ অপসারণে ব্যবহৃত স্কাভেটর মেশিনের পরিচালক জানান, প্রদীপ কুমার রায়ের নির্দেশেই তারা গাছগুলো কেটেছেন।


অভিযোগের বিষয়ে প্রদীপ কুমার রায়ের দৃষ্টি আকর্ষন করা হলে তিনি বলেন, “আমার কোনো দোষ নেই।  জলঢাকা বন বিভাগ কর্মকর্তা  আমাকে যে নির্দেশনা দিয়েছেন, আমি সে অনুযায়ী কাজ করেছি।”

উপজেলা প্রকৌশলী মো. তারিকুজ্জামান বলেন, “আমরা অনেক আগেই বন বিভাগকে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে আমাদের করার কিছু নেই।”

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. জোবায়ের আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে স্থান ত্যাগ করেন।

এ বিষয়ে জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা শাহিকুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সামাজিক বনায়নের গাছ কর্তন ও বিক্রির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


শেয়ার করুন