মাহমুদ আল-হাছান, তিস্তা নিউজ : নীলফামারী- ৩ (জলঢাকা) আসনের চায়ের দোকান গুলোতে জমে উঠেছে নির্বাচন কেন্দ্রীক রাজনীতি। প্রতিটি টি-স্টলে এখন আলোচনার প্রধান বিষয় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) আসনে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফী সহ তাঁর সংগঠন জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মাঠ দখলের চেষ্টায় মরিয়া হয়ে লড়ছেন আলহাজ্ব সৈয়দ আলী ও তার সংগঠন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী বৃন্দ। লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে রোহান চৌধুরীও তার অস্তিত্ব জানান দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। হাতপাখা প্রতীক নিয়ে আমজাদ হোসেন সরকারেরও দেখা মিলছে মাঝে মাঝে পথে ঘাটে।
এই আসনের চায়ের দোকানগুলো এখন প্রায় সবসময় ভোটের আলোচনায় সরগরম হয়ে থাকছে। বন্ধু-বান্ধব কিংবা পরিচিত জনের সাথে চা আড্ডায় অবধারিতভাবে উঠে আসছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের 'ভোট' ও ভোটের পরিস্থিতি। গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত ইন্টারনেট বিস্তৃত হওয়ায় সাধারন মানুষও রাজনীতি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বেশ সচেতন হয়ে উঠছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে শ্রমিক শ্রেনীর গুরুত্বপুর্ণ পর্যবেক্ষন ও মতামত। দারিদ্র পীড়িত এই এলাকার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ ঢাকা, কুমিল্লা, সিলেট, চট্টগ্রাম, বগুড়া সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় কাজ করতে যায়। তারা ফিরে এসে সেই এলাকার ভোটের পরিস্থিতি জানান দেয়, এর ফলে জনমতও প্রভাবিত হচ্ছে বিপুলভাবে। কেউ বলছে - সব জায়গায় দাঁড়িপাল্লার যে জোয়ার উঠেছে, এবার জামায়তই ক্ষমতায় যাচ্ছে। তাদের মতে বিশেষ করে শ্রমিক শ্রেনী ও সাধারন মানুষ চাচ্ছে যে সবাইকেই তো দেখা হয়ে গেলো, এবার জামায়তকে দেখতে চাই, দেখি ওরা কি করে। কেউ বলছে- বিএনপিই ক্ষমতায় যাবে। সারাদেশে তাদের বিপুল জনসমর্থন আছে এবং তারেক রহমান যেখানেই যাচ্ছেন সেখানেই ব্যাপক জনসমাগম হচ্ছে। এতে বুঝা যায় যে বিএনপিই ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে।
চায়ের কাপে বিএনপি জামায়াত সহ নির্বাচনে অংশগ্রহনকারী অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সাম্প্রতিক আচার আচরন ও কর্মকান্ড নিয়েও চুলচেরা বিশ্লেষন হচ্ছে। কোনো দলের সামান্যতম অসংলগ্ন আচরন, অন্যায় কিংবা জুলুম জনগনের দৃষ্টি এড়াচ্ছে না। তারা সবকিছুর প্রতিই তীক্ষ্ণ নজর রাখছে বলেই মনে হচ্ছে এবং জনমতকে প্রভাবিত করছে।
শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের দিয়াবাড়ী বাজার, ধর্মপাল ইউনিয়নের খেরকাটি বাজার, গোলনা ইউনিয়নের কালিগঞ্জ বাজার, বালাগ্রাম ইউনিয়নের সাইডনালা বাজার, খুটামারা ইউনিয়নের টেঙ্গনমারী বাজার, কৈমারী বাজার, শৌলমারী ইউনিয়নের আনছারহাট, ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের নেকবক্ত বাজার, গোলমুন্ডা ইউনিয়নের চৌপথী বাজার ঘুরে চায়ের দোকানগুলোতে এমন পরিস্থিতি দেখা গেছে।


