মাহমুদ আল-হাছান, তিস্তা নিউজ : গতকাল ১০ আগস্ট এসএসসি ও এসএসসি সমমান দাখিল ও ভোকেশনাল পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী দেখা যায় সারাদেশের মোট এক তৃতীয়াংশেরও বেশী পরীক্ষার্থী ফেইল করেছে। বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এসএসসি পরীক্ষায় এ রকম ফলাফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ বলছে- এটি ফলাফল বিপর্যয় আবার কেউ বলছে এটিই বর্তমান বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যাবস্থার বাস্তব চিত্র।
বিগত এসএসসি পরীক্ষায় সারাদেশে ২০ লাখ ২৪ হাজার ১৯২ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহন করে এর মধ্যে ১২ লাখ ৫৯ হাজার ৯৮৬ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ন হয়েছে। ০৭ লাখ ৬৪ হাজার ২৮৬ জন পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ফেল করার ফলে শিক্ষার প্রথম ধাপেই ঝরে পড়ার হার ব্যাপকভাবে বেড়ে গেলো।
এসএসসি সমমান পরীক্ষার ফলাফলে গড়ে সারাদেশে ৬২% শিক্ষার্থী পাশ করেছে। ১১টি বোর্ডের মধ্যে সর্ব্বোচ্চ সংখ্যক শিক্ষার্থী পাশ করেছে ঢাকা বোর্ডে। এই বোর্ডের পাশের হার ৭১% এবং সর্বনিম্ন পাশের হার কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে, এই বোর্ডের পাশের হার ৫১%। দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ড থেকে ৫৮% শিক্ষার্থী পাশ করেছে।
ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায় দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের অধীনে মোট এক লাখ ৮০ হাজার ৭৫২ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহন করেছে এবং এক লাখ শার হাজার ৯৬২ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ন হয়েছে। এই বোর্ডে ৬৩% ছাত্রী ও ৫৩% ছাত্র পাশ করেছে। ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের পাশের হার আশাব্যঞ্জক। যদিও এই বোর্ডের ১৮টি বিদ্যালয় থেকে কোনো ছাত্রছাত্রীই পাশ করতে পারে নাই। এর মধ্যে নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার আমবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে একজন ছাত্রছাত্রীও পাশ করতে পারে নাই।
দেশে এসএসসি পরীক্ষার এই ফল বিপর্যয়ের বিষয়ে গোলমুন্ডা বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব আব্দুল মান্নান স্যারের দৃষ্টি আকর্ষন করা হলে তিনি জানান- ক্লাস টেনে উঠবার পরে ছাত্রছাত্রীদের আর ক্লাসে পাওয়া যায় না। তারা বিভিন্ন কোচিং টিউশনিতে ব্যাস্ত হয়ে পড়ে। অভিভাবকদের সাথে বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করেও ছাত্রছাত্রীদের আর বিদ্যালয়মুখী করা যায় না। এরাই এই ফলাফল বিপর্যয়ের প্রধান কারন। এছাড়া গ্রামের স্কুলগুলোর অধিকাংশ শিক্ষার্থী লেখাপড়ার বাইরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কাজ করার জন্যে চলে যায় এবং পরীক্ষার সময় এসে ফরম পুরন করে পরীক্ষায় অংগ্রহন করে। দেশের সাধারন মানুষের এই আর্থ-সামাজীক অবস্থাও এসএসসির ফলাফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারন।
জলঢাকা অনির্বান বিদ্যাতীর্থ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব রোকনুজ্জামান চৌধুরী বলেন- তথ্য প্রযুক্তির অবাধ ব্যাবহার, অতিরিক্ত ডিজিটালাইজেশান, এবং অভিভাবকদের উদাসীনতাই এসএসসির এই ফলাফল বিপর্যয় ডেকে এনেছে।


